উচ্চতা ৬ ফুটের বেশি, কোটরে ঢোকা চোখে গভীর জীবন দর্শন, কাঁধ পর্যন্ত অবিন্যস্ত চুল, শান্ত অথচ আত্মবিশ্বাসী শরীরী ভাষা নিয়ে হাঁটা চলা তাঁর। অন্ধকার থেকে আলোর গল্প বলা একটা মানুষ। যিনি বলেন, “অনেকের জীবনেই অন্ধকার আছে, সেটাকে লুকিয়ে রাখলে নিজেই কালো হয়ে যাব। ” সাহিত্যের পাতা নয়, বাস্তবের ধুলো বালি মাখা রাজপথেই তাঁর পদচারণা। নাইজেল আকারা। ‘কেরলাইট’ খ্রিষ্টান ছেলেটি আজ পথ হারানো বহু মানুষের বেঁচে থাকার দিশারী। বেশ কিছু এনজিও-র সাথে যুক্ত। যৌনকর্মী থেকে নেশার অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া মানুষদেরই অনুপ্রেরণা দেন দীর্ঘ ন’বছর সংশোধনাগারে কাটিয়ে আসা নাইজেল।
‘মুক্তধারা’ তাঁর প্রথম বড় পর্দায় কাজ। উইনডোজ় প্রোডাকশনের শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, নন্দিতা দাশের হাতে গড়া নাইজেল আকারা বহু মেয়ের স্বপ্নের পুরুষ, আবার বহু পুরুষের জীবনের আইকনও বটে। বিবাহিত, লাজুক নাইজেল কিন্তু তাঁর পা মাটিতেই রাখেন আজও। তিনি যে সময় অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তখন তাঁর যে জীবনবোধ ছিল, তা আজ একেবারে বদলে গেছে। তিনি সংশোধনাগারে পুলিশের থার্ড ডিগ্রি পর্যন্ত সহ্য করেছেন। বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী অলকানন্দা রায়ের নজরে পড়েন তিনি। ‘বাল্মীকি প্রতিভা’-য় তাঁকে অভিনয়ের হাতে খড়ি দেন অলকানন্দাই। তাই নাইজেলের কাছে তিনি এবং শিবপ্রসাদ, নন্দিতা ঈশ্বরের মতো।
এখন নাইজেল বলেন “জীবনে ১০০ শতাংশ কোনও কাজে মন দেওয়াটা আমাদের কাজ, বাকিটা জানা নেই। ” তবে ভিতর থেকে ঠাণ্ডা থাকাটা খুব জরুরি, মনে করেন তিনি। ‘মুক্তধারা’-র পরে ‘রাজকাহিনী’-তে তাঁকে দেখা গেছে, তবে আবারও লিড রোলে দর্শকদের কাছে আসছেন এই জন্মাষ্টমীতে। উইনডোজ় প্রোডাকশনের ছবি ‘গোত্র’। সেই ছবি নিয়ে তো কথা বললেনই, আর বললেন জীবনের কথা, জীবনের ‘আপস অ্যান্ড ডাউনস’ মোকাবিলার কথা বললেন ‘দ্য ওয়াল’-এর মধুরিমা রায়কে।
ভিডিয়োয় শুনুন কী বলছেন নাইজেল...
https://www.youtube.com/watch?v=vgBRWnCqMBA