
শেষ আপডেট: 16 January 2024 13:30
ব্রাত্য বসুর পরিচালনায় নতুন সিনেমা 'হুব্বা' প্রসঙ্গে কথা বললেন দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি সোহিনী মুখার্জি।
কেন হুব্বা শ্যামল?
প্রথম আমার চরিত্রটাকে ভাল লাগে সুপ্রতিম সরকারের বই পড়ে। বুঝি এখানে সিনেমা তৈরির মত বেশ অনেক এলিমেন্টস লুকিয়ে আছে। সেই সময় যারা ওনার কেসগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি, অনেক ইনফরমেশন নিয়েছি।
আপনার পছন্দের সিনেমা কী?
‘সিটি অফ গড’, গ্যাংস্টার সিনেমাই আমার সবচেয়ে প্রিয়।
সিনেমার গল্প হিসেবে ভায়োলেন্ট ক্যারেক্টারকে কেন বেছে নিলেন?
কে বলেছে ভায়োলেন্ট? হ্যাঁ ভায়োলেন্স আছে, কিন্তু অনেক কমিক্যাল জায়গাও আছে। আমাদের এই ডন কৃত্তিবাসের রামের মত। বউকে ভয় পায়। বাঙালি খাবার খেতে ভালোবাসে। অবশ্যই অন্যদের মত সেও অসহায়, ইনসিকিওর। আদ্যপান্ত বাঙালি ডন!
হুব্বার সঙ্গে তাঁর স্ত্রীয়ের সম্পর্কটা ঠিক কেমন ছিল?
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে যেমন বলিউড সিনেমায় দেখানো হয়, সেটায় আমি বিশ্বাস করি না। দেখায় দুজনের মধ্যে মারামারি হয় ঠিকই, তবুও স্ত্রীয়ের পতিব্রতা একটা মনোভাব থাকে। কিন্তু হুব্বার দাম্পত্য জীবন অন্য পাঁচটা দাম্পত্য জীবনের মতই মধ্যবিত্ত ও সংকটপূর্ণ। ওদের মধ্যেও ভালোবাসা, দোলাচল সবই আছে।
এরকম একটা অরাজনৈতিক রাজনৈতিক ছবি কেন?
রাজনীতি নেইই! মুম্বইতে ডনদের কথা শুনে পলিটিশিয়ানরা ওঠে বসে। আমাদের এখানে এসব হয় না। তাই এই ছবির সঙ্গে কোনওভাবেই রাজনীতি জড়িত নয়। কোনও শাসকদলকে বিদ্ধ করার জন্য এ সিনেমা বানাইনি, সিনেমার জন্য সিনেমা বানিয়েছি। আমি আর্টিস্ট হিসেবে সবটা দিয়ে সিনেমাটা বানাতে চেয়েছি। এবার ভালো বা মন্দ তা দর্শক বলবে।
‘হুব্বা’-র টাইটেল ট্র্যাকে রাম গোপাল বর্মার ‘সত্যা’ সিনেমার ‘কাল্লু মামা’ গানের ছোঁয়া পাওয়া যায়, সেটা কি জেনেশুনেই করা?
বলতে পারো। আমি আসলে রাম গোপাল বর্মার ভক্ত। ওনার ‘সত্যা’ ও ‘শিবা’ বলিউড সিনেমার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভেবেছিলাম এই সিনেমাটা ওনাকেই ডেডিকেট করব। ছোটবেলায় প্রায় ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো দেখতাম।
মোশারফ করিম ছাড়া অন্য কাউকে হুব্বার চরিত্রে ভাবলেন না কেন?
কারণ ভাবতে চাইনি। মোশারফকে ভেবেই এর স্ক্রিপ্ট লিখেছিলাম। ওর সঙ্গে যখন ‘ডিকশনারি’ বানাচ্ছিলাম, তখনই চরিত্রটা নিয়ে আলোচনা হত। ও ছাড়া অন্য কাউকে তাই ভাবিইনি।
আইপিএস অফিসার হিসেবে কি ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত আপনার প্রথম পছন্দ ছিল?
না, অন্য একজন অভিনেতার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তবে তার কিছু সমস্যা ছিল, ডেট ম্যাচ করছিল না। ওনার দাঁড়ি কাটা নিয়ে একটা সমস্যা হচ্ছিল। আর আমার এমন একজনকে দরকার ছিল যে ক্লিন শেভ করবে। তখন ভাবি ইন্দ্রনীলের কথা। তবে হ্যাঁ, ওর সঙ্গে কাজ করে আমি খুবই খুশি। আবারও কাজ করতে চাই।
ওটিটিতে কবে দেখতে পাবে দর্শক?
সেটা আমি না, প্রযোজক জানেন। ১৯শে জানুয়ারি সিনেমাটি আপনাদের কাছের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। আমি বলব সিনেমাটা সবাই হলে দেখতে আসুন। কথা দিচ্ছি, ভাল লাগবে।