মুম্বই (Mumbai) জুড়ে তাঁর একাধিক রাজকীয় আবাস। জুহুতে সমুদ্রস্নিগ্ধ ৩৫ কোটির বাংলো, মালাবার হিলে প্রায় ৬০ কোটি টাকার বাড়ি, সঙ্গে আলিবাগে গোপন ছুটির আস্তানা।

অক্ষয় খান্না
শেষ আপডেট: 9 December 2025 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংলাপের ফাঁকে খানিকটা থমকে যাওয়া, ভুরুর অদৃশ্য ওঠানামার মতো ছোট ছোট অভিব্যক্তি আলাদা করে চিনিয়ে দেয় অক্ষয় খন্নাকে (Akshaye Khanna)। বলিউডে (Bollywood) আলো-আড়ম্বরের ঝলক অনেকেই দেখিয়েছেন। কিন্তু নিঃশব্দে অভিনয়ের গভীরতায় ডুব দিয়ে পর্দায় ফেরত আসার মতো কৌশল রপ্ত করেছেন খুব কম মানুষ। এ ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত বা বলা ভাল 'ধুরন্ধর' (Dhurandhar) অক্ষয় খন্না। তাঁর কেরিয়ার যেমন স্তরে স্তরে সাজানো, তেমনই ব্যক্তিগত জীবনও মোড়া রয়েছে ঐশ্বর্য, উত্তরাধিকার এবং নিভৃতপ্রেমের মিশেলে।
মুম্বই (Mumbai) জুড়ে তাঁর একাধিক রাজকীয় আবাস। জুহুতে সমুদ্রস্নিগ্ধ ৩৫ কোটির বাংলো, মালাবার হিলে প্রায় ৬০ কোটি টাকার বাড়ি, সঙ্গে আলিবাগে গোপন ছুটির আস্তানাই নয়, অভিনেতার স্লথ অথচ কাঠিন্যে মোড়া প্রত্যাবর্তনে অক্ষয়ের সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকায়।
বংশপরম্পরা, যেখান থেকে শুরু অক্ষয়ের পথচলা (Akshaye Khanna)
১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ জন্ম। বাবা বলিউডের চিরকালের সুদর্শন নায়ক ও প্রভাবশালী রাজনীতিক বিনোদ খন্না। মা গীতাঞ্জলি তাল্যারখাঁ, সম্মানিত পারসি পরিবার থেকে। ছোটবেলায় পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলোই তাঁকে টানত বেশি।বোম্বে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে শুরু, পরে লরেন্স স্কুল, লুভডেল (উটি)। বড় ভাই রাহুল খন্নাও সিনেমায় পরিচিত মুখ। দাদু ববি এএফএস তাল্যারখাঁ ছিলেন ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার। বিশ্লেষণ আর বিষদ পর্যবেক্ষণের অভ্যাস বোধহয় অক্ষয় সেখান থেকেই রপ্ত করেছিলেন।
১৯৯৭-এর ডেবিউতেই আলোচনার কেন্দ্র ()
‘হিমালয় পুত্র’ দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ। বক্স অফিস খুব একটা আমোদ পায়নি ঠিকই, কিন্তু সমালোচকেরা চোখ সরাননি অক্ষয়ের অভিব্যক্তির গভীরতায়। তারপরই এল ‘বর্ডার’। দেশাত্মবোধক ছবি। সেরা নবাগতের জন্য মিলল ফিল্মফেয়ার। অল্প সময়েই অক্ষয়কে নিয়ে আলোচনা শুরু হল দেশজুড়ে।
পরের কয়েক বছরে ‘তাল’, আর তার পর ‘দিল চাহতা হ্যায়’— যেখানে ‘সিড’-এর নরম, দোলাচল-ভরা দার্শনিক চরিত্র চিরস্থায়ী হয়ে থাকে দর্শকদের মনে। আরও একটি ফিল্মফেয়ার। খ্যাতি বাড়ল, কিন্তু তাঁর পথ চলা রয়ে গেল নীরব, সংযত।
ফিল্মোগ্রাফি যেন ধারাল বিচিত্র আর অপ্রত্যাশিত
‘হুলচুল’, ‘হাঙ্গামা’, ‘৩৬ চায়না টাউন’, ‘হমরাজ’, ‘রেস’, ‘গান্ধী: মাই ফাদার’, গণিতের মতোই বদলে বদলে গিয়েছে তাঁর চরিত্রের রঙ। ২০১০-এর দশকে নিজেকে আড়ালে সরিয়ে নিলেন প্রায় চার বছর। অভিনেতা যে কোনও মুহূর্তে হারিয়ে যেতে পারেন— এ কথা সবাই মেনে নেন না। কিন্তু অক্ষয় সেই বিরল ব্যতিক্রম।
ফের প্রত্যাবর্তন। ‘ডিশুম’, ‘মম’, ‘ইত্তেফাক’, এবং তারপর ‘সেকশন ৩৭৫’, সিনেমা সমালোচকরা সবাই একসুরে প্রশংসা করেছিলেন। আর সাম্প্রতিক ‘দৃশ্যম ২’-এ ঠান্ডা মাথার পুলিশ অফিসার— যা তাঁর সাম্প্রতিক সেরা পারফরম্যান্স বলে ধরা হচ্ছে।
২০২৫-এ ‘ছাভা’ ও ‘ধুরন্ধর’-এ দুই তুখোড় ভিলেন
চলতি বছরে দুই ব্যতিক্রমী চরিত্রে অক্ষয় আবারও আলোচনায়। ‘ছাভা’য় ঔরঙ্গজেব, আর ‘ধুরন্ধর’-এ রহিম। মরুভূমির ধুলো, কালো চশমা, স্থির দৃষ্টি, অক্ষয়ের এন্ট্রিতেই 'সিটি মার' ব্যাপার স্যাপার। শোনা যাচ্ছে, এখন তাঁর পারিশ্রমিক প্রতি ছবিতে প্রায় ২.৫ কোটি টাকা। পরিমাণে কম, কিন্তু পছন্দে নিখুঁত— যা আসলে অক্ষয় খান্নার স্টাইল স্টেটমেন্ট।
অক্ষয়ের বাড়ি বাইরে সাদামাটা, ভিতরে বিলাসবহুল
জুহুর ৩৫ কোটি টাকার সমুদ্র-ছোঁয়া বাড়ি
শহরের ব্যস্ততার মাঝে নরম আলো, সাদামাটা ধূসর ইন্টিরিয়র, সমুদ্রপাড়ের বারান্দা, অভিনেতার মূল ঠিকানা যেন এক নিঃশব্দ আশ্রয়। ব্যক্তিগত থিয়েটার, বৃহৎ ওয়ার্ডরোব, নীরবতার দাম যেখানে চোকানো কঠিন।
মালাবার হিল: ৬০ কোটির ঐতিহ্য
পুরনো ঐশ্বর্যের এলাকা। ব্যাঙ্কার, শিল্পপতি, প্রজন্মের জমিদার পরিবার। সেখানে অক্ষয়ের আরেক নিবাস যেন সমুদ্র দৃশ্যের সঙ্গে উত্তরাধিকারী আভিজাত্যের মিলন। তাছাড়া শহরের টাইট রুটিনের জন্য তারদেও-তে অতিরিক্ত বাড়ি। আর উইকএন্ডে আলো এড়িয়ে চলে যেতে আলিবাগের শান্ত আশ্রয়ই অক্ষয়ের ডেস্টিনেশন।
গাড়ির পছন্দ কম, কিন্তু সুচিন্তিত
সহ-অভিনেতাদের মতো দীর্ঘ গাড়ির তালিকা নেই অক্ষয়ের। থাকলেও হাতে গোনা, কিন্তু রুচিশীল। তার মধ্যেই রয়েছে ক্লাসিক BMW 7 সিরিজ।
কোথায় জমে তাঁর সম্পদ?
অক্ষয় খন্নার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা। তার সিংহভাগই রিয়েল এস্টেট। যার দাম ক্রমশই বাড়ছে মুম্বইয়ের বিলাসবহুল এলাকায়। সঙ্গে ছবি, রয়্যালটি, অল্প কিছু বিজ্ঞাপন। বছরে বছরে তাঁর সম্পত্তি বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশের কাছাকাছি— যা বলিউডে বিরল।