পর পর দুটি ছবিতে চমকে দিলেন অক্ষয়। প্রথমে ছাবায় (Chhaava) ঔরঙ্গজেব, তার পর ধুরন্ধর (Dhurandhar) ছবিতে রেহমান ডাকাত (Rehman Dakait)। একটা ছবিতে শীতল, নিষ্ঠুর অন্য ছবিতে আগুনের মতো উপস্থিতি।

পর পর দুটি ছবিতে চমকে দিলেন অক্ষয়। গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 9 December 2025 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডে তুমুল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একজনই—অক্ষয় খান্না (Akshaye Khanna)। নয়ের দশকের শেষে ‘আ আব লট চলে’ ছবিতে রোম্যান্টিক হিরো হিসাবে তাঁকে প্রথমবার আবিষ্কার করেছিলেন দর্শকরা। সেই তিনি বহুদিন আগেই জীবনযাপন বদলে ফেলেছেন। এখন হইচই থেকে দূরে থাকেন। নীরব, আত্মমগ্ন, আত্মপ্রচারে একেবারেই বিশ্বাসী নন। অথচ পর্দায় এলেই দেখা যাচ্ছে, যেন অন্য এক অস্তিত্বে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছেন অক্ষয় খান্না। পর পর দুটি ছবিতে চমকে দিলেন অক্ষয়। প্রথমে ছাবায় (Chhaava) ঔরঙ্গজেব, তার পর ধুরন্ধর (Dhurandhar) ছবিতে রেহমান ডাকাত (Rehman Dakait)। একটা ছবিতে শীতল, নিষ্ঠুর অন্য ছবিতে আগুনের মতো উপস্থিতি।
দর্শক, সমালোচক, এমনকি বলিউডের পোড়খাওয়া পরিচালক প্রযোজকরাও এখন একবাক্যে বলছেন—অক্ষয় খন্না এই মুহূর্তে বলিউডের সবচেয়ে শক্তিশালী ও কল্পনাতীতভাবে সংযত অভিনেতা।

‘ছাবা’-তে ঔরঙ্গজেব
ছত্রপতি শম্ভাজি মহারাজের শৌর্য্য ও বীর গাঁথা নিয়ে লেখা ছাবা-র চিত্রনাট্য। কিন্তু দর্শকদের মনে সবচেয়ে গভীর ছাপ রেখে গিয়েছে অক্ষয়ের অভিনীত ‘ঔরঙ্গজেব’। এই ছবিতে অক্ষয় খান্নার সংলাপের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে তাঁর চাহনি, অভিব্যক্তি, নীরবতা নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের গতি। একটি দৃশ্যে দেখা যায় তাঁর কন্যা জিনাত-উন-নিসা সংবাদ জানাচ্ছেন শম্ভাজি অত্যাচারেও মাথা নোয়াচ্ছেন না। ঘরে যেন উত্তেজনার তাপমাত্রা বাড়ছে, অথচ অক্ষয় সম্পূর্ণ স্থির হয়ে আঙুর খেতে খেতে শুধু ইশারা করছেন—এই এক ইশারাই দর্শকের শরীরে শীতল স্রোত বইয়ে দিতে পারে।
ঐতিহাসিক চরিত্রের নতুন ব্যাখ্যা
ঔরঙ্গজেবকে ভারতীয় সিনেমা ও টেলিভিশনে বহুবার দেখা গেছে। ওম পুরি, অশুতোষ রানা—সবাই নিজস্ব ছায়া ফেলেছেন অত্যাচারী শাসকের চরিত্রে। কিন্তু অক্ষয়ের ব্যাখ্যা ভিন্ন। তিনি চরিত্রটিকে নাটকীয় করেননি, বরং তুলে ধরেছেন অন্তর্মুখী এক সম্রাটকে, যিনি ক্ষমতার দৌড়ে নিজের মনুষ্যত্বকে আগেই বিসর্জন দিয়েছেন।

‘ধুরন্ধর’-এ রেহমান ডাকাত—নতুন ভাইরাল আইকন (Rehman Dakait – Akshyae Khanna a new viral icon)
‘ছাবা’র নিষ্ঠুর সম্রাটের পর অক্ষয় আবার যেন নিজেকে পাল্টে ফেলেছেন। ‘ধুরন্ধর’-এর ভয়ংকর গ্যাং লিডার হলেন রেহমান ডাকাত। প্রথম প্রবেশেই স্ক্রিনে ঝড় উঠে গেছে। মরুভূমিতে গাড়ি থামছে। ধুলো উড়ছে। কালো পাগড়ি, কালো চশমা, বেপরোয়া হাঁটা—ক্যামেরা তাঁর চোখের সামনে এসে থেমে যায়। সেই মুহূর্তটিই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে।
একটা চরিত্রের জনপ্রিয়তা কখনও কখনও গানকে ভাইরাল করে। অক্ষয় খান্নার এন্ট্রি হয়েছে, বাহরাইনি র্যাপার Flipperachi-র গান Fa9la-র সঙ্গে। সেই গানকে নতুন ট্রেন্ডে পরিণত করেছেন তিনি। দর্শকদের মনে পড়ে যাচ্ছে জামাল কুদুর কথা।
অক্ষয় সোশ্যাল মিডিয়ায় না থাকায় অনেকেই ভাবছিলেন, তিনি কি এই ভাইরালিটির খবর রাখেন? নাকি এসব নিয়েও নিরুত্তাপ। পরিচালক ফারাহ খান মজার ছলে লিখেছেন—“আমি ওকে TMK-এর সব মিম পাঠাচ্ছি!” ছবিটি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে আয় করেছে ১৬০ কোটি টাকা, প্রায় সব স্ক্রিনে শো হাউজফুল চলছে।
বলিউডের ফিল্ম ক্রিটিকদের অনেকে বলেন, অক্ষয় খন্নার ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অদ্ভুত রকম গুটিয়ে রাখেন নিজেকে। হাই প্রোফাইল পার্টি, ফটোশুট, সোশ্যাল মিডিয়া—কোনো কিছুরই ভিড়ে নেই তিনি। অথচ পরিপাটি বিলাসবহুল জীবন কাটান তিনি।
মুম্বইয়ের জুহুতে সি ফেসিং বাংলোতে থাকেন অক্ষয়। সেই বাংলোর বর্তমান মার্কেট প্রাইস অন্তত ৩৫ কোটি টাকা। দামি আসবাবে মিনিমালিস্ট ডিজাইনে সাজানো অন্দরমহল। একটি প্রাইভেট থিয়েটারও রয়েছে সেখানে। ব্যালকনিতে দাঁড়ালে নিরবচ্ছিন্ন ভিউ পাওয়া যায় আরব সাগরের।
এ ছাড়াও মালাবার হিলসে তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে। সেটিরও বাজার দাম নয় নয় করে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। মুম্বইয়ের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী, পুরনো ধনীদের এলাকা—মালাবার হিল। বড় জানলা, পুরনো স্থাপত্য, সমুদ্রের কোল ঘেঁষে ঝুলন্ত বারান্দা—এ যেন শহরের ভিড়ের মাঝেও আরেক দুনিয়া। এটি খান্না পরিবারের ‘প্রেস্টিজ অ্যাড্রেস’। তা ছাড়া এভারেস্ট বিল্ডিংয়ে একটা ফ্ল্যাটও রয়েছে তাঁর।
সেই সঙ্গে রয়েছে আলিবাগে একটি ফার্ম হাউজ। সপ্তাহান্তে শহরের কোলাহল ছেড়ে তিনি চলে যান আলিবাগের ফার্মহাউসে।
অক্ষয়ের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা। গাড়ির প্রতি তেমন মোহ নেই তাঁর। তবে একটি BMW 7 Series রয়েছে। যা তাঁর শান্ত, রুচিশীল ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানান সই।