
শেষ আপডেট: 15 July 2022 05:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রাউড ফান্ডিং (crowd funding) করে সিনেমা বানানোর কথা আজকাল হামেশাই শোনা যায়। এই তো দু'বছর আগেও পুজোয় মুক্তিপ্রাপ্ত একটি সিনেমা তৈরির টাকা জুগিয়েছিল নদিয়ার এক গ্রামের সকল বাসিন্দারা। সিনেমার শ্যুটিংও হয়েছিল ওই গ্রামেই। যে খুশি হয়ে যতটুকু টাকা দেয়, সেটুকুই সংগ্রহ করা হয় তাঁর কাছ থেকে। এখন এভাবে টলিউড কিংবা বলিউডে অনেক সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। তবে এই চল শুরুর বহু আগেই সাতের দশকে প্রথমবার বলিউড তথা ভারতীয় সিনেমা জগত ক্রাউড ফান্ডিং (crowd funding) বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল। যেই ছবি বানানোর জন্য টাকা ঢেলেছিলেন পাঁচ লক্ষ কৃষক।
জানা যায়, এই সিনেমায় প্রযোজনার জন্য প্রায় পাঁচ লক্ষ কৃষক টাকা দান করেছিলেন। শুধুমাত্র বলিউডেই নয়, গোটা বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে সে ছিল নজিরবিহীন এক ঘটনা। ক্রাউড ফান্ডেড করে বানানো পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র হিসেবে আজও প্রথম স্থান দখল করে রয়েছে এই ছবিটি।
দীপিকার ‘গেহেরাইয়াঁ’ নিয়ে বিতর্ক বাড়ালেন মল্লিকা! তুলনা টানলেন ‘মার্ডার’-এর সঙ্গে
বলিউডের বিখ্যাত চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত ‘মন্থন’ (Manthan) নামে ওই ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ, স্মিতা পাতিল, গিরিশ কারনাডের মতো বড় এবং নামি অভিনেতারা। মুক্তির পর সিনেমাটি জাতীয় পুরস্কারও জয় করে নিয়েছিল। ভাবলে অবাক লাগে, এমন একটি ছবি বানানোর জন্য বলিউডে নাকি কোনও প্রযোজকই পাননি শ্যাম বেনেগাল।

১৯৭৬ সালের মুক্তি পাওয়া সেই ছবির (Manthan) বিষয়বস্তু ছিল আমূল সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা তথা কর্ণধার ভার্গিস কুরিয়েন। ভারতীয় ইতিহাসে আজও তিনি শ্বেত বিপ্লবের জনক হিসাবে পরিচিত। গুজরাতে গোয়ালা সম্প্রদায়ের মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করার মতো কঠিন একটি কাজ করে দেখিয়েছিলেন কুরিয়েন। তাঁদের মিলিত প্রচেষ্টাতেই গড়ে ওঠে দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। ছবিতে সেই কুরিয়েনের ভূমিকাতেই অভিনয় করেছিলেন গিরিশ কারনাড।
তা এহেন কুরিয়েনকে নিয়ে তৈরি ছবির পিছনে কোনও প্রযোজকই টাকা ঢালতে রাজি হননি। শেষে একদিন বেনেগালকে ডেকে কুরিয়েন জানতে চান, ছবি বানাতে কত টাকা প্রয়োজন? বেনেগাল জানান, কম করে হলেও ১০-১২ লক্ষ টাকা লাগবেই।
এরপর সমস্যা সমাধানে আসরে নামেন খোদ কুরিয়েন। সমবায়ের সদস্যদের ডেকে তিনি জানান এই সমস্যার কথা। এরপর একদিন বিকেলে বৈঠক করে কৃষকদেরকে কুরিয়েন জানালেন, কোনও এক সকালে যদি কৃষকেরা ৮ টাকার পরিবর্তে ৬ টাকায় দুধ বিক্রি করতে রাজি থাকেন, তা হলেই উঠে আসতে পারে ছবি তৈরির টাকাটুকু। এমন প্রস্তাবে সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যান কৃষকরা। রাতারাতি পাঁচ লক্ষ কৃষকের হাত ধরে উঠে আসে ১০ লাখ টাকা (crowd funding)। যেই ছবির জন্য বলিউডের একজন প্রযোজককেও পাওয়া যায়নি, এই ছবির হাত ধরতে এগিয়ে আসেন পাঁচ লাখ মানুষ। বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে সেটাই প্রথমবার, এবং হয়ত শেষবারও।

প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর খুব একটা হিট হয়নি ‘মন্থন’ (Manthan)। সামান্য কিছু লাভের মুখ দেখেছিল। তবে দেশে-বিদেশে বহু সম্মান যে পেয়েছিল, তা বলাই বাহুল্য। জানা যায়, ভারতবর্ষের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই নিজে সোভিয়েত ইউনিয়নে সিনেমাটির প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছিলেন। এমনকি রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভাতেও দেখানো হয় ছবিটি।