নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর থেকেই ‘ধুরন্ধর’ শুধুই গল্প বা অভিনয়ের জন্য আলোচনায় নেই। দর্শকদের একাংশ ছবিটা দেখছেন ম্যাগনিফাইং গ্লাস হাতে—ফ্রেম ধরে, দৃশ্য ধরে, এমনকি শেষের ক্রেডিট পর্যন্ত।

শেষ আপডেট: 4 February 2026 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর থেকেই ‘ধুরন্ধর’ শুধুই গল্প বা অভিনয়ের জন্য আলোচনায় নেই। দর্শকদের একাংশ ছবিটা দেখছেন ম্যাগনিফাইং গ্লাস হাতে—ফ্রেম ধরে, দৃশ্য ধরে, এমনকি শেষের ক্রেডিট পর্যন্ত। আর ঠিক সেখানেই মিলেছে এমন এক তথ্য, যা আবার নতুন করে উসকে দিল রণবীর সিংয়ের ভ্যানিটি ভ্যান ঘিরে বহুদিনের গুঞ্জন। (Ranveer Singh, Ranveer Singh actor, Dhurandhar)
শুটিং চলাকালীন শোনা গিয়েছিল, রণবীর নাকি সেটে একাধিক কাস্টমাইজড ভ্যান নিয়ে যাতায়াত করতেন। একটি নিজের জন্য, একটি জিম হিসেবে ব্যবহার হত, আর একটি থাকত তাঁর প্রাইভেট শেফ ও সহকারী দলের জন্য। তখন এই দাবি কেউ নিশ্চিত করেননি, কেউ অস্বীকারও করেননি। কিন্তু ‘ধুরন্ধর’-এর এন্ড ক্রেডিটে চোখ রাখতেই সেই পুরনো গল্প নতুন রং পেল।
ছবির ভেন্ডর ট্রান্সপোর্টেশন তালিকায় তিনটি আলাদা গাড়ির নাম নজরে পড়েছে—‘Hamza Van’, ‘Hamza Staff Van’ এবং ‘Hamza Normal Van’। দর্শকদের অনেকেই ধরে নিয়েছেন, এই ‘হামজা’ আর কেউ নন, ছবিতে হামজা আলি মাজারি চরিত্রে অভিনয় করা রণবীর সিং নিজেই। আর এই তিনটি ভ্যানই নাকি তাঁর অন-সেট ব্যবস্থার অংশ।
Hamza Van
Hamza's staff Van
Hamza's Normal Van 😭😭🙏🏻#RanveerSingh what you actually do with so many vans? #Dhurandhar pic.twitter.com/yQ7oiDKvTY— Bunny (@cinephilesonly) February 1, 2026
আরও কৌতূহল বাড়িয়েছে নামকরণের ধরন। শোনা যাচ্ছে, অন্য অভিনেতাদের ক্ষেত্রে ভ্যানের নাম দেওয়া হয়েছে তাঁদের আসল নামেই। যেমন, আর মাধবন ও অর্জুন রামপালের জন্য একটি করে ভ্যানের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু রণবীরের ক্ষেত্রে চরিত্রের নাম—হামজা এবং জস্কিরাত—ব্যবহার করা হয়েছে। কেন এই ব্যতিক্রম? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এটা কি শুধুই বড় মাপের শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ব্যবস্থা? না কি চরিত্রে ডুবে থাকার জন্য রণবীরের নিজস্ব পদ্ধতি? মতভেদ স্পষ্ট। কেউ বলছেন, এমন চাহিদা তাঁর কাজের প্রতি দায়বদ্ধতারই প্রমাণ। আবার কেউ কটাক্ষ ছুড়ছেন, এত ভ্যান কি তবে বাস ডিপোর মতো?
রেডিটে এক ব্যবহারকারী ‘ধুরন্ধর’-এর ক্রেডিটের স্ক্রিনশট পোস্ট করে লেখেন, হামজার নামে তিনটি আলাদা ভ্যান কেন? সেখান থেকেই আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে এক্সসহ নানা প্ল্যাটফর্মে। একজন লেখেন, “কেন রণবীরের ক্ষেত্রে চরিত্রের নাম, অথচ মাধবনের ক্ষেত্রে অভিনেতার নাম? এই অসঙ্গতি চোখে পড়ার মতো।” আরেকজনের মন্তব্য, “ভ্যানিটি ভ্যান নাকি পুরো শহরের বাস স্ট্যান্ড?” আবার কেউ পাল্টা যুক্তি দেন, “সে যত খরচই করুক, বক্স অফিসে তো রেকর্ড রিটার্ন দিয়েছে।”
এই বিতর্ক নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বলিউডে অভিনেতাদের বিশাল এনট্যুরেজ ও তার খরচ নিয়ে আলোচনা চলছে। গত বছর হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, রণবীর সিং শুটিংয়ে তিনটি ভ্যান ব্যবহার করেন। একটি তাঁর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে, একটি জিম ভ্যান, আর একটি প্রাইভেট শেফের জন্য। সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, একটি ভ্যানের গড় রক্ষণাবেক্ষণ খরচ প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা। যদিও এই তথ্য কখনও রণবীর নিজে নিশ্চিত করেননি।
এই সবের মাঝেই অভিনেতা ব্যস্ত ‘ধুরন্ধর ২’-এর প্রস্তুতিতে। মার্চ মাসে মুক্তি পাওয়ার কথা ছবিটির, ইতিমধ্যেই টিজার প্রকাশ্যে এসেছে। হামজার গল্প আরও গভীরে যাওয়ার অপেক্ষায় ভক্তরা।
‘ধুরন্ধর’ মুক্তির পর ছবিটি যে শুধু পর্দার গল্পেই থেমে থাকবে না, তার ইঙ্গিত মিলেছিল শুরু থেকেই। পারফরম্যান্স, ডিটেইলিং, আর এবার ক্রেডিট—সব মিলিয়ে ছবিটি যেন দর্শকদের চোখে পড়ার নতুন নতুন কারণ জোগাচ্ছে। শেষ নামলিপির এই তিনটি ভ্যানের উল্লেখ কি সত্যিই বহুদিনের গুঞ্জনের প্রমাণ? নাকি নিছকই একটি প্রোডাকশনাল সিদ্ধান্ত, যাকে ঘিরে অতিরিক্ত কৌতূহল?
উত্তর এখনও অধরা। কিন্তু একথা স্পষ্ট—রণবীর সিংয়ের ক্ষেত্রে, সিনেমার শেষ লাইনে লেখা একটি নামও যে এত বড় আলোচনার জন্ম দিতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত। প্রশ্ন একটাই—এটা কি সত্যিই শুধু ভ্যানের গল্প, না কি তার আড়ালে আরও কিছু?