অবাঙালিদের কাছে ছট পুজো শুধুই এক উৎসব নয়, এটি এক গভীর বিশ্বাস, এক অদম্য ভক্তির প্রতীক। বছরের পর বছর তাঁরা এই পুজোর প্রতীক্ষায় থাকেন, নিখুঁতভাবে পালন করেন এর প্রতিটি নিয়ম, প্রতিটি রীতি। সেই পবিত্র আবহেই এবার পুরনো এক স্মৃতির দরজা খুললেন প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক শান্তনু মৈত্র।

শান্তনু
শেষ আপডেট: 28 October 2025 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবাঙালিদের কাছে ছট পুজো শুধুই এক উৎসব নয়, এটি এক গভীর বিশ্বাস, এক অদম্য ভক্তির প্রতীক। বছরের পর বছর তাঁরা এই পুজোর প্রতীক্ষায় থাকেন, নিখুঁতভাবে পালন করেন এর প্রতিটি নিয়ম, প্রতিটি রীতি। সেই পবিত্র আবহেই এবার পুরনো এক স্মৃতির দরজা খুললেন প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক শান্তনু মৈত্র।
গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়ে তোলা কয়েকটি ছবি পোস্ট করে শান্তনু নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “কয়েক বছর আগে ছটপুজোর সময় আমি পাটনায় ছিলাম একটি কাজের জন্য। সেখানে সকালে সাইকেল চালাতে গিয়ে আমি গঙ্গার ধারে পৌঁছে যাই।” সেদিনের সেই দৃশ্য যেন আজও তাঁর মনে জীবন্ত—তিনি লেখেন, “আমার মনে আছে ধুপ, গান এবং ভক্তিতে ভরে গিয়েছিল গোটা আকাশ। গঙ্গায় হাজার হাজার প্রদীপ ঝলমল করছিল। মা ও বোনেরা অস্তগামী সূর্যের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করছিলেন। সেই মন্ত্রের মধ্যে এমন এক পবিত্রতা ছিল, যে বিশ্বাসে সবাইকে একত্রে বেঁধে রেখেছিলেন তাঁরা।”
এই অভিজ্ঞতা যেন আজও তাঁর অন্তরে অমলিন। শান্তনুর কলমে ফুটে উঠেছে সেই আবেগ, “ওই সন্ধ্যাটি আমার মনে চিরকালের জন্য জায়গা করে রেখেছিল। আজও নদীর মতই বাস্তব এবং উজ্জ্বল সেদিনের স্মৃতি। এখন আমি মুম্বইয়ের ভারসোভায় আমার বাড়ির সামনে ছট পুজো অনুষ্ঠিত হতে দেখি। প্রতিবছর সবার সঙ্গে আমিও গঙ্গার ধারে থাকি।”
যারা এই দিন ব্রত পালন করছেন, তাঁদের উদ্দেশে সঙ্গীতশিল্পীর স্নেহভরা শুভেচ্ছা—“যারা এই দিন ব্রত উদযাপন করছেন তাদের সকলের জন্য অনেক ভালবাসা। ছটের আলো আপনাদের হৃদয়কে শক্তি, কৃতজ্ঞতা এবং করুনায় ভরিয়ে দিক।”
বলিউড থেকে টলিউড—দুই ইন্ডাস্ট্রিকেই একের পর এক অমর সুর উপহার দিয়েছেন শান্তনু মৈত্র। পরিণীতা থেকে পিকে, থ্রি ইডিয়টস থেকে টুয়েলভ ফেল—তাঁর সুরের ছোঁয়ায় প্রতিটি গল্প পেয়েছে এক মায়াময় গভীরতা। বর্তমানে তিনি জি বাংলা সারেগামাপা-র বিচারকের আসনে।
গঙ্গার ধারে পাটনার সেই ভোর, হাজার প্রদীপের আলো আর প্রার্থনায় মিশে থাকা অগণিত হৃদয়ের বিশ্বাস—সেই সুর যেন আজও বেজে চলে শান্তনুর অন্তরে। হয়তো এই কারণেই তাঁর সঙ্গীতে আজও থাকে এক পবিত্র ছোঁয়া, এক নদীর মতো অবিরাম প্রবাহিত আলো—যেমন ছটের প্রদীপেরা জ্বলে থাকে গঙ্গার জলে, চিরকাল, অমলিন।