
শেষ আপডেট: 13 March 2023 08:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তামিল তথ্যচিত্র 'দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স' (The Elephant Whisperers) ইতিহাস সৃষ্টি করল ৯৫ তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড অর্থাৎ অস্কারের (Oscar 2023) মঞ্চে। নেটফ্লিক্স এ প্রদর্শিত এই ৪১ মিনিটের তথ্যচিত্রের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমার ঝুলিতে আবার অস্কারের গৌরব। দুই ভারতীয় নারী কার্তিকি গনজালভেস এবং গুণীত মোঙ্গার বানানো এই তথ্যচিত্রই পেল অস্কারের মঞ্চে সেরার সম্মান।
কিন্তু কোন মন্ত্রে জয়ী 'দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স'?
রঘু এবং আমু নামের দুই হস্তি শাবকের সঙ্গে তাদের মাহুত বোমান ও বেলির সম্পর্ককে ঘিরেই গড়ে উঠেছে এই ছবি। গোটা ছবিটিই বানানো তামিলনাড়ুর মুদুমালাই জাতীয় উদ্যানের সত্যি ঘটনা অবলম্বনে। এই জাতীয় উদ্যানে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কের সমীকরণটা আসলে কেমন সেই ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে।
'দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স'-এর প্রধান বিষয় হাতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক। তবে শুধুমাত্র এতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি ছবিটি। পাশাপাশি, ভারতীয় সংস্কৃতি, প্রকৃতিকে রক্ষা করার ঐতিহ্য এগুলিও রয়েছে ছবির পরতে পরতে।
ছবিটি ৮ নভেম্বর, ২০২২ এ প্রথম সম্প্রচারিত হয় নেটফ্লিক্সে। শক্তিশালী গল্প, দৃষ্টিনন্দন চিত্রগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় বার্তা এই তিনের মিশেলেই অস্কারের মঞ্চ জয় 'দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স'এর।
রঘু এবং আমু নামের দুই অনাথ হস্তিশাবক যখন এসে পৌঁছায় বোমান এবং বেলির কাছে, তখন দুই অনাথ শিশুর অভিভাবক হয়ে ওঠে এই দুই মাহুত। বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে একজন কিশোরের যেমন তার অভিভাবকের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়নের পরিবর্তন হয়, ঠিক তেমন ভাবেই রঘু এবং আমুর সঙ্গে বোমান এবং বেলির সম্পর্কের পরিবর্তন হয়। রঘুর বিদায়ে বেলির চোখে জল এলে তা মুছিয়ে দেয় আমু। মানুষ এবং হাতির ব্যবধান মুছে দিয়েছেন কার্তিকি গনজালভেস তাঁর এই ছবিতে।
https://twitter.com/DeepakChopra/status/1629936371602460672?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1629936371602460672%7Ctwgr%5E2b20833bb36572f35b4411b88e67d1768b1baf5b%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.news18.com%2Fexplainers%2Foscars-2023-elephant-whisperers-documentary-story-mudumalai-national-park-7278619.html
ছবিটি শুটিং হয়েছে মুদুমালাই জাতীয় উদ্যানে। নীলগিরি পাহাড়ের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মুদুমালাই জাতীয় উদ্যান। এই জাতীয় উদ্যানটি প্রায় ১৮০০-২৩০০ হাতির বাসস্থান। পাশাপাশি, হরিণ, বাঘ, সোনালি শেয়াল, চিতাবাঘ, বনবিড়াল সহ প্রায় ৫৫টি প্রজাতির প্রাণীর বসবাস এই জাতীয় উদ্যানে। ফলে, আমু এবং রঘুর এই জঙ্গলে মানিয়ে নিতে কোনও অসুবিধাই হয়নি বলে জানিয়েছেন কার্তিকি। সব মিলিয়ে এই ধরনের ছবি আরও বেশি তৈরি হওয়া প্রয়োজন, এমনটাই বলছেন পরিবেশবিদ ও সিনেমাপ্রেমীরা।
ভারতের দুই কন্যা কাঁপালেন অস্কার মঞ্চ! প্রশংসায় ভেসে যাচ্ছে ‘দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স’