বিনোদ নিজেই স্বীকার করেছেন, ছোটবেলায় তাঁর জীবনে চরম অভাব ছিল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ছোটবেলায় চটি পরার সামর্থ্যও ছিল না। কখনও ভাবেননি, একদিন অমিতাভ বচ্চন বা অভিষেক বচ্চনের সামনে ট্রেনার হিসেবে দাঁড়াবেন।

শেষ আপডেট: 20 January 2026 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ বলিউডের তারকা থেকে দেশের অন্যতম ধনী পরিবার, সবাই যাঁর প্রশিক্ষণে ভরসা রাখেন, সেই সেলিব্রিটি ফিটনেস ট্রেনার বিনোদ চন্নার (Vinod Channa) জীবনের শুরুটা মোটেও ঝলমলে ছিল না। মুম্বইয়ের দাদারের এক দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা বিনোদ একসময় জীবিকা নির্বাহ করতেন পাহারাদারের কাজ করে। সেই মানুষটিই আজ আম্বানি পরিবারের (Ambani Family) ব্যক্তিগত ফিটনেস ট্রেনার, পাশাপাশি জন আব্রাহাম (John Abrahm), অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan), অভিষেক বচ্চনের (Abhishek Bachchan) মতো তারকাদের শরীর গড়ার নেপথ্যের কারিগর।
বিনোদ নিজেই স্বীকার করেছেন, ছোটবেলায় তাঁর জীবনে চরম অভাব ছিল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ছোটবেলায় চটি পরার সামর্থ্যও ছিল না। কখনও ভাবেননি, একদিন অমিতাভ বচ্চন বা অভিষেক বচ্চনের সামনে ট্রেনার হিসেবে দাঁড়াবেন। তবে ছোট থেকেই বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি ঝোঁক তাঁকে ধীরে ধীরে ফিটনেসের জগতে টেনে আনে।
মুম্বইয়ের একটি জিমে ফিটনেস ট্রেনার হিসেবে কাজ শুরু করেন বিনোদ। তার আগে টানা ১৫ বছর বডিবিল্ডিং করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ১০–১৫ বছর নিরন্তর পরিশ্রম না করলে এই ধরনের সুযোগ আসে না। আজ অনেকেই অল্পদিন ট্রেনিং করেই লাখ টাকার ফি নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু বাস্তবে তার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে ঘাম ঝরাতে হয়।
একটানা ১২ বছর একটি জিমে কাজ করার পর বড় সিদ্ধান্ত নেন বিনোদ। ভালো পারিশ্রমিক ও বড় ক্লায়েন্টের আশায় সেই জিম ছেড়ে তিনি বান্দ্রায় চলে যান। নতুন জায়গায় শুরুটা ছিল একেবারে শূন্য থেকে। কোনও ক্লায়েন্ট ছিল না। জিমে যাঁকেই পেতেন, তাঁকেই ট্রেনিং দিতে শুরু করেন। সেই সময় বান্দ্রার এক জিমের ম্যানেজার তাঁকে চিনতে পেরে সুযোগ দেন, যা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সেখান থেকেই ভাগ্যের চাকা ঘোরে। অভিনেতা রীতেশ দেশমুখের এক আত্মীয় তাঁকে দেখে মুগ্ধ হন এবং রীতেশকে তাঁর নাম সুপারিশ করেন। পরে রীতেশ দেশমুখের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ট্যুরেও যান বিনোদ।
কেরিয়ারের শিখরে পৌঁছে জন আব্রাহামের ‘ফোর্স’ ছবির সময় বিনোদ ঘণ্টাপিছু ২৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিতেন। সেই সময় অনন্যা বিরলাও তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হন এবং আরও বেশি পারিশ্রমিক দিতে প্রস্তুত ছিলেন। বিনোদ জানান, কেরিয়ারের চূড়ান্ত সময়ে তিনি দিনে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেছেন।
এই কঠোর পরিশ্রমের ফলও পেয়েছেন তিনি। নিজের জীবনে ৫–৬টি বাড়ি কিনেছেন, প্রায় ১৫ কোটি টাকা দিয়ে একটি জিমও কিনেছেন। পাশাপাশি শিল্পা শেট্টি, বিবেক ওবেরয়ের মতো অভিনেতাদেরও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
বর্তমানে বিনোদ চন্না আম্বানি পরিবারের একাধিক সদস্যের ফিটনেস ট্রেনার। ঈশা আম্বানি, আকাশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। বিশেষ করে অনন্ত আম্বানির ১৮ মাসে ১০৮ কেজি ওজন কমানোর যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। বিনোদের পাহারাদার থেকে দেশের অন্যতম সফল সেলিব্রিটি ফিটনেস ট্রেনার হয়ে ওঠার এই যাত্রা আজও বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা।