‘অ্যানিম্যাল’ মুক্তির পর রাতারাতি বদলে যায় তৃপ্তি দিমরির জীবন।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 25 February 2026 00:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরি (Triptii Dimri)। তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ছবি অ্যানিম্যাল মুক্তির পর থেকেই যেন বদলে যায় সবকিছু। রাতারাতি তিনি হয়ে ওঠেন দেশের ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’। যদিও ছবিটি মুক্তির আগেই নানা বিতর্কে শিরোনামে উঠে এসেছিল।
হিংসা, রক্তাক্ত দৃশ্য এবং অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কারণে সেন্সর বোর্ড ছবিটিকে ‘এ’ সার্টিফিকেট দেয়। শুধু তাই নয়, ছবিকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে অন্তত আটটি দৃশ্য বাদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। সেই বাদ পড়া অংশগুলোর মধ্যে ছিল ‘বিজয়’ ও ‘জোয়া’র চরিত্রে অভিনয় করা রণবীর কাপুর ও তৃপ্তির একাধিক অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্লোজ-আপ শট।
ছবিটি মুক্তির পরই এই জুটিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়। কারণ, তাঁদের জুটি দর্শকদের কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। বিশেষ করে সাহসী উপস্থাপনায় নির্মিত তাঁদের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যগুলো নিয়ে শুরু হয় জোর আলোচনা। ছবির মুক্তির আগে পর্যন্ত তৃপ্তির চরিত্রটি গোপন রাখা হয়েছিল। ফলে হঠাৎ করেই তাঁদের অনস্ক্রিন রসায়ন দর্শকদের সামনে আসতেই তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।
এক সাক্ষাৎকারে তৃপ্তি জানিয়েছিলেন, ছবির পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা চুক্তি সইয়ের সময়ই তাঁকে সংশ্লিষ্ট দৃশ্যের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেন। কীভাবে দৃশ্যটি শুট করা হবে, তার ভিজ্যুয়াল ধারণাও শেয়ার করা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে। অভিনেত্রীর কথায়, দৃশ্যটির নান্দনিক দিক বিবেচনা করেই তাঁকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁর স্বাচ্ছন্দ্যকে।
তৃপ্তি আরও বলেন, দৃশ্যটির রেফারেন্স দেখার পর তাঁর মনে হয়েছিল এটি দুই চরিত্রের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই উপলব্ধিই তাঁকে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। শুধু এই ছবিই নয়, এর আগে বুলবুল-এ অভিনয়ের সময়ও নির্মাতারা তাঁর মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করেছিলেন বলে জানান তিনি।
‘অ্যানিম্যাল’ ছবির সেই দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল অত্যন্ত সীমিত পরিসরে। সেটে উপস্থিত ছিলেন মাত্র পাঁচজন—অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক, চিত্রগ্রাহক এবং প্রয়োজনীয় একজন সদস্য। সব মনিটর বন্ধ রাখা হয়েছিল, যাতে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিবেশ বজায় থাকে। এমনকি শুটিং চলাকালীন প্রায় প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর রণবীর তাঁর সহ-অভিনেত্রীর খোঁজ নিয়েছিলেন, তিনি স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন কি না।
এই অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, এ ধরনের দৃশ্যের শুটিং শুধু অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সূক্ষ্ম পরিকল্পনা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সংবেদনশীলতা। বর্তমানে বহু ছবিতেই স্টান্ট কোঅর্ডিনেটরের পাশাপাশি রাখা হয় ‘ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর’। তাঁদের দায়িত্ব থাকে দৃশ্যগুলোর কোরিওগ্রাফি, অভিনেতাদের সীমারেখা নির্ধারণ এবং শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তা ও পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সব মিলিয়ে সেন্সর কাট, বিতর্ক এবং শুটিংয়ের অন্দরমহলের এই প্রস্তুতি—সবকিছু মিলিয়ে ‘অ্যানিম্যাল’ শুধু একটি সফল ছবি নয়, বরং বলিউডে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নির্মাণের পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।