খেলোয়াড়দের সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিতর্কের পর ভোট দিতে গিয়ে ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে জবাব দিলেন হেমা মালিনী।

হেমা মালিনী
শেষ আপডেট: 15 January 2026 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক আগেই খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় রূঢ় আচরণের অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছিলেন হেমা মালিনী। তাঁর মুখের গম্ভীর অভিব্যক্তি ও ব্যবহার ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় সমালোচনা, শোনা যায় ‘গোমড়ামুখী’ কটাক্ষও। তবে বৃহস্পতিবার সকালে বৃহন্মুম্বই পুরসভার ভোট দিতে গিয়ে সেই বিতর্কে নিজেই মুখ খুললেন মথুরার তারকা সাংসদ। শুধু প্রতিক্রিয়া জানানোই নয়, পাপারাজ্জিদের সামনে এমন কিছু করলেন হেমা, যা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
কী কারণে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি? সম্প্রতি আমন্ত্রণ পেয়ে মথুরার একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিশেষ অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন হেমা মালিনী। অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ীদের হাতে মেডেল পরানোর সময় তাঁদের সঙ্গে করমর্দন বা হাসিমুখে অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়নি তাঁকে। এমনকি পুরস্কার তুলে দেওয়ার পর হাত মুছতেও দেখা গিয়েছিল হেমাকে। এই দৃশ্য ঘিরেই অনেকে মন্তব্য করেন, যেন কেবল দায়সারা ভাবে অনুষ্ঠান সেরেছেন তিনি। আর সেই কারণেই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় প্রবীণ অভিনেত্রী-সাংসদকে।
তবে বৃহস্পতিবার ভোট দিতে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি ধরা পড়ে ক্যামেরায়। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরনোর সময় প্রথমে পাপারাজ্জিদের দেখে কিছুটা চমকে গেলেও, মুহূর্তের মধ্যেই নিজেকে সামলে নেন হেমা মালিনী। হাসিমুখে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “এই দেখো, আমি কিন্তু হাসছি, ঠিক আছে? এবার আর অভিযোগ কোরো না যে হেমা মালিনী হাসে না!”
এর সঙ্গে তর্জনীতে ভোটের কালি দেখিয়েও দেন তিনি। এই আচরণে পাপারাজ্জিরাও যেন খানিকটা হতবাক হয়ে পড়েন। এর পেছনের প্রেক্ষাপটও অজানা নয়। ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর থেকেই গভীর শোকে রয়েছেন হেমা মালিনী।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই বলেছিলেন, “৫৭ বছর ধরে একটা মানুষের সঙ্গে কাটানোর পর তাঁকে ছাড়া এক মুহূর্তও ভাবতে পারছি না। এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি। চেষ্টা করছি স্বাভাবিক হওয়ার।” পাশাপাশি স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে, কখনও পৃথক স্মরণসভা নিয়ে, কখনও আবার দেওল পরিবারের অন্দরমহলের ফাটল নিয়ে।
এই সব কিছুর মাঝেই নতুন করে সমালোচিত হন হেমা মালিনী। তবে ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর দীর্ঘদিন বাদে এবার তাঁর মুখে হাসি দেখতে পেয়ে খুশি মুম্বইয়ের পাপারাজ্জিরাও। বিতর্কের আবহে সেই হাসিই যেন ড্যামেজ কন্ট্রোলের সবচেয়ে বড় বার্তা হয়ে উঠল।