এতগুলো বছর পরে বড় পর্দায় ফেরা অভিনেত্রীর। সময়ের নিয়মে বদল ঘটেছে। সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলেছে তাঁর? পুরনো অনেক জটিল-কুটিল সম্পর্কের অঙ্ক কি মিলে গিয়েছে? যদি শতাব্দী রায়কে নিয়ে গুগল সার্চ করা হয়, দুই অভিনেত্রীর সঙ্গে এক মনোমালিন্যর খবর উঠে আসে। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং দেবশ্রী রায়। সে ঘটনাও বেশ পুরনো...

ঋতু-শতাব্দী-দেবশ্রী
শেষ আপডেট: 30 May 2025 13:18
মাস্টার মশাই আপনি কিছুই দেখেননি, বাংলা ছবির কালজয়ী সংলাপ। সিনেমার নামটা মনে আছে? হ্যাঁ! ঠিক ধরেছেন, তপন সিনহার আতঙ্ক। আতঙ্কে যাঁর সিনে দুনিয়ায় অভিষেক, এবার কি ভূত হয়ে আতঙ্ক ছড়াতেই তিনি বড়পর্দায় ফিরছেন? বাৎসরিক আড্ডায়, আজ এক শতাব্দী গল্পেই তাঁর উত্তর খুঁজি বরং!
সাদা-কালো শাড়িতে যখন খানিক দূরে বসে বাংলা ছবির অন্যতম সেলিব্রেটেড নায়িকা শতাব্দী রায়। কিন্তু এখন কি তিনি নায়িকা কম। রাজনীতিক বেশি? তাই তো না হলে কেন বারবার বলা হচ্ছে মৈনাক ভৌমিকের ‘বাৎসরিক’ ছবিতে তাঁর কামব্যাক? প্রথম প্রশ্ন ছিল, অভিনেত্রীর কাছে ‘আতঙ্ক’র মতো ছবিতে ভয়কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, এখন রাজনীতিতে কী আপনাকে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত করে? খানিক চুপ করলেন, বেশ ভাবলেন তারপর বললেন, ‘রাজনৈতিক আতঙ্ক ঠিক কোন অর্থে? যদি মানুষের সব কাজ করতে পারব কি না, যে বিশ্বাস ওঁরা রেখেছে, সেই কথাগুলো সব রাখতে পারব কি না, ওঁরা আমাকে ভুল বুঝবে না তো, এইগুলো কাজ করে, তা আতঙ্কের জায়গা! যে বিশ্বাস নিয়ে এসছি, যে ভালবাসা নিয়ে ওঁরা আমার কাছে এসেছে, তা যেন নষ্ট না হয়’
এতগুলো বছর পরে বড় পর্দায় ফেরা অভিনেত্রীর। সময়ের নিয়মে বদল ঘটেছে। সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলেছে তাঁর? পুরনো অনেক জটিল-কুটিল সম্পর্কের অঙ্ক কি মিলে গিয়েছে? যদি শতাব্দী রায়কে নিয়ে গুগল সার্চ করা হয়, দুই অভিনেত্রীর সঙ্গে এক মনোমালিন্যর খবর উঠে আসে। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং দেবশ্রী রায়। সে ঘটনাও বেশ পুরনো... প্রশ্ন ছিল এখন সেই দুই অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কগুলো কি খানিক সরল হয়েছে? প্রশ্ন শুনে বেশিক্ষণ সময় নিলেন না অভিনেত্রী। একেবারে সোজাসাপটাভাবে এল উত্তর, ‘ঋতুর সঙ্গে কোনওদিনই সম্পর্ক খারাপ ছিল না। আমার এক ছবির পোস্টারে ওঁর ছবিটা ছোট ছিল, সে নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছিল। সেটাও অনেক বছর। কিন্তু সেটা বড় আকার ধারণ করেনি। আমাদের কোনওদিনই সম্পর্ক খারাপ হয়নি। কোনওদিন মনোমালিন্য হয়নি।’ এরপর প্রসঙ্গে উঠে আসে আরেক ‘সুপারস্টার অভিনেত্রী’ দেবশ্রী রায়।
শতাব্দী বললেন, ‘দেবশ্রীর সঙ্গে যখন কাজ করেছিলাম, একেবারে শুরু দিকে। আমি যখন প্রথম সিনেমায় এসেছিলাম। তখন ও সুপারস্টার! তখন একটা পর্যায়ে সবার ধারণা ছিল, কে বড় সুপারস্টার? শতাব্দী না দেবশ্রী? শতাব্দীর সুপারস্টার ছিলই। যাই সুপারস্টার হোক না কেন আমাদের সম্পর্ক ভালো ছিল না। আমাদের কখনওই কথা হতো না। কাজও এক সঙ্গে করতাম না। এক দুটো ছবিতে কাজ করেছি, কিন্তু খুব কেয়ারফুলি। কেউ মাঝখান থেকে দাঁড়িয়ে কাজটা করিয়েছে।’
এখন কি সেই পরিস্থিতি বদলেছে? একগাল হেসে শতাব্দী বললেন, ‘এখন একে অপরকে টুক করে ফোন করি। এখন দারুন বন্ধুত্ব। এখন আমাদের প্রায় রোজ কথা হয়। কোন মজার ঘটনা ঘটলে ওকে বলি, ওর কোনও কিছু খারাপ লাগলে, আমাকে বলে। কখনও দেখা হলে, দারুণ কথা হয়। আমার এখন আমার মনে হয় যদি এই ম্যাচুরিটি থাকতো সে সময়ে, এই বিচ্ছেদ হতোই না। আসলে তখন বয়স কমের জন্য এটা হয়েছিল। সেই ছেলেমানুষটা এখন আর নেই। এখন আর কম্পিটিশনও নেই।’