শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর কাহিনি 'দেবদাস' নিয়ে ছবি করছিলেন গুলজার। ১৯৭৬ সালে শুরু হয় এই রঙিন ছবির শুটিং। কিন্তু শেষ আর করতে পারেননি তিনি।

শেষ আপডেট: 19 August 2025 18:13
'সেলুলয়েডের কবি' বলা হত তাঁকে। তিনি গুলজার। আজ যাঁর জন্মদিন। গুলজারের গানের কথা যেমন কবিতা, তেমনই পর্দায় তাঁর সিনেমাগুলি ভীষণ কাব্যিক। আজ গুলজারের জন্মদিনে এমন এক ছবির গল্প বলব যে ঐতিহাসিক ছবির শুটিং তিনি করেছিলেন কিন্তু শেষ অবধি ছবি আর শেষ হয়নি। ছবিটি ঐতিহাসিক তাঁর কারণ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর কাহিনি 'দেবদাস' নিয়ে ছবি করছিলেন গুলজার। ১৯৭৬ সালে শুরু হয় এই রঙিন ছবির শুটিং। কিন্তু শেষ আর করতে পারেননি তিনি।
এরআগে ১৯৩৬ সালে প্রমথেশ বড়ুয়া-যমুনা বড়ুয়ার 'দেবদাস' ক্লাসিক হয়েই ছিল বাংলাতে। আর তারপর ১৯৫৫ সালে বিমল রায় তৈরি করেন হিন্দি ছবি 'দেবদাস'। দিলীপ কুমার, সুচিত্রা সেন ও বৈজয়ন্তীমালা বলিউডে কালজয়ী হয়েই ছিল। তারপর সাতের দশকের শেষ দিকে গুলজার শুটিং শুরু করেন তাঁর 'দেবদাস' ছবির। এই ছবির জন্য গানও রচনা শুরু করেছিলেন গুলজার। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্নপূরণ হয়নি। ব্যর্থ প্রেমের অমর কাহিনি 'দেবদাস' যে গুলজারের হাতে পড়ে কালজয়ী ছবি হত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু অধরাই রইল সেই সাধ।

গুলজারের 'দেবদাস' ছবিতে নামভূমিকায় ছিলেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর বিপরীতে পার্বতী চরিত্রে ছিলেন হেমা মালিনী। আর চন্দ্রমুখীর ভূমিকায় ছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। তালিমপ্রাপ্ত ডান্সার হিসেবে শর্মিলার থেকেও এগিয়ে থাকবেন হেমা মালিনী। কিন্তু গুলজার একদম উল্টো নির্বাচন করেছিলেন। হেমাকে তিনি নেন গ্রাম্য মেয়ে পার্বতীর চরিত্রে। আর শর্মিলাকে নেন বাঈজি চন্দ্রমুখীর চরিত্রে।
গুলজারের কথায় রাহুল দেব বর্মণের সুরে লতা মঙ্গেশকর গেয়েছিলেন মুজরো গান 'কুহু কুহু কোয়েলিয়া'। তাঁর বাবা শচীন দেব বর্মণের ক্লাসিক পুরনো গান থেকে এই গান তৈরি করেছিলেন ছেলে আর ডি। শর্মিলার নাচের থেকেও অভিনয়ে বেশি জোর দেন গুলজার। বাঈজি শর্মিলা পান চিবোতে চিবোতে লতার এই গানে লিপ দেন। তবে তাঁর নাচ ছিল সঙ্গে, কোরিওগ্রাফ করেছিলেন বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার গোপীনাথ। গুলজারের চিরকালের প্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন শর্মিলা। যে কারণে চন্দ্রমুখীর জন্য শর্মিলাকেই নেন তিনি।

হেমা মালিনী বলেছিলেন 'যে কোনও অভিনেত্রীর জন্য দেবদাসের পারো স্বপ্নের চরিত্র। আমি পার্বতীই করতে চেয়েছিলাম। গুলজারজি যখন আমাকে চন্দ্রমুখী না ভেবে, পার্বতী দিলেন আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কেন জানিনা কদিন শুট করেই অমন ভাল ছবি বন্ধ হয়ে গেল।
তেমনই অ্যাঙ্গরি হিম্যান ধর্মেন্দ্রকে দেবদাসের মতো ব্যর্থ বাঙালি প্রেমিকের রোলে নির্বাচন করেন গুলজার।

আসলে টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যায় এই ছবি। ছবির প্রযোজক ছিলেন প্রেম চোপড়ার দাদা কৈলাশ চোপড়া। তিনি চুনিলালের চরিত্রে ভাই প্রেম চোপড়াকে কাস্ট করেন। নেপোটিজম ব্যাপার কিন্তু তখন থেকেই ছিল। প্রেম চোপড়া ভিলেন রূপে তখন সর্বজনবিদিত। তাঁকে দেবদাসের বন্ধু চুনিলাল রূপে কতটা মানাত সেই নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
এই প্রযোজক টাকা না মেটানোতেই বন্ধ হয়ে যায় গুলজারের 'দেবদাস'। গুলজারের এমন একটি ছবি যে শুরু হয়েছিল সেই খবরও বহুদিন দর্শকদের সামনে আসেনি।