নীরজ ঘায়ওয়ানের দ্বিতীয় ছবি ‘হোমবাউন্ড’। বিশ্ব চলচ্চিত্র মানচিত্রে যার শুরুটা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২১ মে, ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবে। সে দিনই Uncertain Regard বিভাগে ছবিটির বিশ্বপ্রিমিয়ার। এরপর পথ চলা টরন্টো—৫০তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (TIFF) দাপটের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছিল ছবি।

নীরজ ঘায়ওয়ানের ছবি ‘হোমবাউন্ড’ আসছে পুজোয়।
শেষ আপডেট: 17 September 2025 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নীরজ ঘায়ওয়ানের দ্বিতীয় ছবি ‘হোমবাউন্ড’। বিশ্ব চলচ্চিত্র মানচিত্রে যার শুরুটা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২১ মে, ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্র উৎসবে। সে দিনই Uncertain Regard বিভাগে ছবিটির বিশ্বপ্রিমিয়ার। এরপর পথ চলা টরন্টো—৫০তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (TIFF) দাপটের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছিল ছবি। এবার মুক্তির পালা নিজের মাটিতে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর, দেশের প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘হোমবাউন্ড’। তার আগে আজ মুক্তি পেল ‘হোমবাউন্ড’ ট্রেলার।
শুরুতেই দেখা মেলে দুই নায়কের। মোহম্মদ শোয়েব (ইশান খট্টর) আর চন্দন কুমারের (বিশাল জেঠওয়া)। ছোট থেকে যাদের বন্ধুত্ব, সখ্যের দীপ্তি ছড়িয়ে পড়েছে পর্দায়। উত্তরপ্রদেশের গ্রাম্য ছেলে দু’জন, প্রান্তিক সমাজের প্রতিনিধি। ছোটবেলা থেকে বঞ্চনা, অপমান, দুঃখের অভিজ্ঞতা—সব কিছুই তাদের সঙ্গী। কিন্তু তবু তাদের হৃদয়ে অটুট থাকে এক স্বপ্ন—সমাজের শৃঙ্খল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা, নিজের অবস্থান বদলে ফেলা।
স্বপ্ন সরকারি চাকরি। পুলিশের খাকি পোশাক গায়ে চাপিয়ে সমাজে সম্মান আদায়ের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু পথে দাঁড়ায় বারবার জাত আর ধর্মের দেয়াল। শোয়েব যখন একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে অফিস বয়ের কাজ করে, সেখানে ধর্মের কারণে অপমানিত হতে হয় তাকে। চন্দনকে ছোট করা হয় তার দলিত পরিচয়ের জন্য। অথচ তারা জানে, একখানা সরকারি চাকরিই তাদের দেবে মর্যাদা, যা এতদিন বঞ্চিত করেছে সমাজ।
এই গল্পে যুক্ত হয়েছেন জাহ্নভি কাপুরও। তাঁর চরিত্রের নাম সুধা ভারতী। এক তরুণী, যে পিএইচডি করতে চায়, নিজের মতো জীবন গড়তে চায়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বাঁধাধরা গণ্ডি ভেঙে নতুন স্বপ্ন দেখার সাহস রাখে সুধা। চন্দনের নৈতিক দিক নির্দেশনায়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সুধার উপস্থিতি।
২ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের এই ট্রেলার দর্শকদের হৃদয় নাড়া দিয়েছে। কোথাও বেদনাহত করেছে, আবার কোথাও জাগিয়েছে আশার আলো। দুই বন্ধুর অবিচল সম্পর্কই হয়ে ওঠে তাদের শক্তি, যা ভেঙে পড়তে দেয় না।
কান-এ ছবির বিশ্বপ্রিমিয়ারে ‘হোমবাউন্ড’ পেয়েছিল নয় মিনিট দীর্ঘ স্ট্যান্ডিং ওভেশন। টরন্টোতেও একই আবেগে ভাসিয়েছে দর্শকদের, আর সেখানেই অর্জন করেছে International People’s Choice Award-এর সেকেন্ড রানার-আপের সম্মান। নীরজ ঘায়ওয়ানের এই ছবির জন্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে উচ্ছ্বাসের ঢেউ।
কিন্তু এই গল্প এলো কোত্থেকে? ২০২০ সালে The New York Times-এ প্রকাশিত বশরত পীরের লেখা—A Friendship, a Pandemic and a Death Beside the Highway—সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত ‘হোমবাউন্ড’-এর চিত্রনাট্য। বশরত পীর, নীরজ ঘায়ওয়ান ও সুমিত রায়ের কলমে গড়ে উঠেছে চিত্রনাট্য, সংলাপ লিখেছেন নীরজ ঘায়ওয়ান, বরুণ গ্রোভার ও নীরজ দুবে।
প্রযোজনার দায়িত্বে করণ জোহর, আদার পুনাওয়ালা, অপূর্ব মেহতা ও সোমেন মিশ্র। আর পরামর্শদাতা হিসেবে উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে পাশে ছিলেন মার্টিন স্করসেজি। তিনি ছবির কার্যনির্বাহী প্রযোজকও বটে।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়াতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আবেগ। কেউ লিখেছেন—‘সকলেই এত ভালো, কার অভিনয় সেরা তা বলা অসম্ভব।’ কেউ বা কেঁদে ফেলেছেন ট্রেলার দেখে। একজন তরুণ চলচ্চিত্রপ্রেমী লিখেছেন—‘আমার মতো সাধারণ মধ্যবিত্তের স্বপ্নও এতে খুঁজে পাই। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার যন্ত্রণা, আবার স্বপ্নের প্রতি অবিচল থাকা—সবকিছু যেন এ ছবির সঙ্গে মিলে যায়।’
প্রথম ছবি ‘মাসান’ দিয়ে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া নীরজ ঘায়ওয়ান এক দশক পর ফিরে এলেন আরও শক্তিশালী গল্পে। ‘হোমবাউন্ড’ শুধুমাত্র দু’বন্ধুর যাত্রাপথ নয়, এটি প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর—যেখানে অবহেলার অন্ধকারে থেকেও জ্বলে ওঠে আলোর প্রদীপ।
২৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেতে চলেছে ছবিটি। পর্দায় দেখা যাবে—দুই তরুণের লড়াই, এক নারীর স্বপ্ন, আর এক অটুট বন্ধুত্বের গান। হয়তো সবাই নিজের গল্প খুঁজে নেবে ‘হোমবাউন্ড’-এর এই আবেগঘন যাত্রায়। কারণ, শেষ পর্যন্ত স্বপ্নই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে—আর বন্ধুত্ব তাকে ডানা দেয় উড়ে যাওয়ার।