বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে আবারও জ্বলল এক চেনা নক্ষত্রের নাম— গৌতম ঘোষ। পাঁচ দশকের অমূল্য সৃজনযাত্রার পর, এ বার কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে তাঁর কাঁধে উঠল সর্বোচ্চ সম্মান— লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।

মুখ্যমন্ত্রী ও গৌতম ঘোষ।
শেষ আপডেট: 13 November 2025 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে আবারও জ্বলল এক চেনা নক্ষত্রের নাম— গৌতম ঘোষ। পাঁচ দশকের অমূল্য সৃজনযাত্রার পর, এ বার কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে তাঁর কাঁধে উঠল সর্বোচ্চ সম্মান— লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।
এক জীবনের অধ্যবসায়ের, শিল্পের, ও ভালবাসার পরিণত প্রাপ্তি যেন এই সম্মাননা। বৃহস্পতিবার নন্দন প্রাঙ্গণের বর্ণাঢ্য সন্ধ্যায় যখন ঘোষণাটা হল, দর্শকাসনে উচ্ছ্বাস। কারণ, উৎসবের চেয়ারম্যান তিনি নিজেই, অথচ এই সিদ্ধান্তের খবরটুকু তাঁর কাছেও ছিল গোপন। তাই পুরস্কার ঘোষণার মুহূর্তে যেন অবাক, অথচ দীপ্ত সেই মুখ— এক শিল্পীর নীরব বিস্ময়।
চিত্রনাট্যকার, পরিচালক, চিত্রগ্রাহক, সঙ্গীতকার— এককথায় সিনেমার প্রতিটি কোণায় তাঁর ছোঁয়া। গৌতম ঘোষ যেন এক মানুষে এক চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান। ‘দেখা’, ‘অন্তর্জলী যাত্রা’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘আবার অরণ্যে’, ‘মনন’, ‘পদাতিক’— প্রতিটি চলচ্চিত্রে তিনি শুধু গল্প বলেননি, সৃষ্টি করেছেন এক এক টুকরো সময়, এক এক টুকরো জীবন। তাঁর সিনেমা কখনও নদীর স্রোতের মতো মৃদু, কখনও সমাজের প্রশ্নের মতো তীক্ষ্ণ। আর তাই বাংলা সিনেমাকে বারবার তিনি পৌঁছে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক দরবারে— কান, ভেনিস, টোকিও, বার্লিনের রঙিন পর্দায় উজ্জ্বল হয়েছে বাংলার নাম, তাঁর ক্যামেরার চোখে ধরা মানুষ ও মাটির গল্প।
পুরস্কার হাতে মঞ্চে উঠে সেই মানুষটা হঠাৎ থেমে গেলেন কিছুটা। কণ্ঠে ভেসে উঠল আবেগ— এই সম্মান তিনি উৎসর্গ করলেন তাঁর প্রয়াত স্ত্রী নীলাঞ্জনা ঘোষকে। যেন সময় থেমে গেল এক মুহূর্তের জন্য। গৌতমবাবুর কথায় শ্রদ্ধা— “ও না থাকলে এই পথচলা সম্ভব হত না।”

গৌতম ঘোষের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারম্যান হিসেবেও গৌতম ঘোষ আজ প্রশংসিত সকলের মুখে। এবারের নির্বাচিত ছবিগুলির মান, ভাবনা, রুচি— সবেতেই তাঁর ছাপ স্পষ্ট। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কথাতেও তা ধরা পড়ে, “গৌতম ঘোষ আছেন বলেই এ সব সম্ভব।” এক কথায়, কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের সাফল্যের মূলে রয়েছেন যিনি, তাকেই এবার উৎসব জানাল নিজের কৃতজ্ঞতা
এদিনই পর্দা নামল ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। মিশে গেল সম্মান, আবেগ। উৎসবের উদ্বোধনী মঞ্চে বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন দুই গুণী শিল্পী— সঙ্গীতসাধিকা আরতী মুখোপাধ্যায় ও অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা। তাঁদের সম্মানে যেমন হাততালি উঠেছিল, তেমনই গৌতম ঘোষের পুরস্কারপ্রাপ্তির মুহূর্তে ভরে উঠল রবীন্দ্র সদন— এক অনির্বচনীয় উচ্ছ্বাসে, এক নীরব গর্বে।