শৈশবে মা-বাবা ও ভাইকে হারানো, দারিদ্র্য আর অপমান সঙ্গী করে বলিউডে হাসির রানি হয়ে ওঠেন টুনটুন। জানুন এই কিংবদন্তি কমেডি তারকার অজানা কাহিনি।

টুনটুন
শেষ আপডেট: 13 August 2025 19:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯২৩ সালে উত্তরপ্রদেশের এক ছোট্ট শহরে জন্ম, আর ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন দূরে কোথাও চলে যাওয়ার। মাত্র ২৩ বছর বয়সে মুম্বই পাড়ি জমান উমা দেবী খত্রি—যিনি পরবর্তীকালে হয়ে ওঠেন বলিউডের জনপ্রিয় কমেডিয়ান ‘টুনটুন’। কিন্তু এই উত্থানের পিছনে ছিল অগণিত সংগ্রাম, অভাব, এবং অপমান।
সঙ্গীতজগতে প্রবেশ করতে গিয়ে উমা দেবী দ্বারস্থ হন খ্যাতনামা সুরকার নওশাদের। তিনি সোজা বলে দেন, শোনাবেন না, তাহলে আরব সাগরে ঝাঁপ দেবেন! অবশেষে নওশাদ তাঁর গান শুনলেন, এবং দিলেন প্রথম সুযোগ। ১৯৪৫ সালে সিনেমায় গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। কিন্তু স্বপ্নপূরণের পরেও মসৃণ ছিল না পথ।
নওশাদের অধীনে কাজ করলেও, উমা একসময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযোজকের সিনেমা ‘চন্দ্রলেখা’-তে গান গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতে রুষ্ট হয়ে নওশাদ তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তখনই নওশাদ বলেন—তোমার গানের কেরিয়ার শেষ, এখন অভিনয় শুরু করো।
সেই সময়ই দিলিপ কুমারের সঙ্গে পরিচয়। তিনিই তাঁর নতুন নাম দেন—‘টুনটুন’। যদিও এই নাম ছিল একরকম বিদ্রূপ, ওজন নিয়ে মজা করে রাখা। এরপর থেকেই বলিউডের কমেডি রিলিফ হয়ে উঠলেন টুনটুন। সবসময়ই গ্ল্যামারহীন, হালকা চরিত্রে কাস্ট করা হতো তাঁকে। তিনি নিজেই বলেছিলেন, “আমার মেদই আমার শক্তি। সৌন্দর্য নয়, হাসাতে পারাটাই আমার ট্রাম্প কার্ড।”
এক সাক্ষাৎকারে টুনটুন বলেন, “আমি যখন দু’বছরের ছিলাম, তখনই আমার মা-বাবা জমিজমা সংক্রান্ত ঝগড়ায় খুন হন। বড় হয়ে আমার ভাইকেও হত্যা করা হয়। আত্মীয়দের সঙ্গে বড় হয়েছি, তারা আমাকে পড়াশোনা করতে দেয়নি। নিজে নিজেই পড়তে শিখি।”
জীবনের শেষ পর্যায়ে বলিউডের এই তারকা ঠাঁই পান এক চাওলে। না ছিল খাবারের ঠিকানা, না চিকিৎসার সামর্থ্য। একটি সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক শশী রঞ্জন বলেন, “তিনি হাঁটতেও পারতেন না। বলেছিলেন, শিল্পীজীবনে সব দিয়েছি, অথচ এমন পরিণতি।” তবু হাসি ছিল তাঁর মুখে। গেয়ে শুনিয়েছিলেন “অফসানা লিখ রহি হুঁ” গানটি। শিল্প হিসেবে নয়, মন থেকে গাওয়া। ২০০৩ সালে, ৮০ বছর বয়সে মৃত্যু হয় বলিউডের প্রথম মহিলা কমেডি আইকন টুনটুনের।