ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো নয়, ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়েই যেন নিজের সবচেয়ে সত্যিকারের সত্তাটাকে খুঁজে পান অরিন্দম শীল।

শেষ আপডেট: 18 March 2026 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো নয়, ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়েই যেন নিজের সবচেয়ে সত্যিকারের সত্তাটাকে খুঁজে পান অরিন্দম শীল। তাই তো ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন—শুটিং ফ্লোরে থাকাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ। নিজের টিম, নিজের অভিনেতাদের সঙ্গে কাজের সেই মুহূর্তেই তিনি খুঁজে পান নিজের জায়গা। সেই অনুভূতিরই এক নতুন রূপ আজ দর্শকের সামনে—‘ইফতার’, যার শুটিং শেষ হয়েছিল অনেক আগেই, আর আজ, ১৮ মার্চ, অবশেষে মুক্তি পেতে চলেছে এই ডকু-ড্রামা। সন্ধে ৬টা ডিডি ন্যাশনাল চ্যানেলে।
‘ইফতার’-এর শুরুটা আসলে এক গল্প থেকে। আর সেই গল্পের স্রষ্টা ডঃ সচ্চিনানন্দ যোশী—যাঁর পরিচয় এক কথায় ধরা যায় না। ইতিহাস, গণযোগাযোগ, সাহিত্য, সংস্কৃতি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর বিচরণ স্বচ্ছন্দ। তিনি যেমন একজন চিন্তক, তেমনই একজন শিক্ষক, কবি, অভিনেতা, আবার নীতিনির্ধারক হিসেবেও সমান সক্রিয়। বর্তমানে নয়া দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টসের এক্সিকিউটিভ ও অ্যাকাডেমিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি।
এর আগে ছত্তিশগড়ের কুশাভাউ ঠাকরে ইউনিভার্সিটি অব জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশনের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসেবে টানা দশ বছর নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই ভোপালের মাখনলাল চতুর্বেদী ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রথম রেজিস্ট্রারের পথচলা শুরু হয়েছিল—পরে সেই প্রতিষ্ঠানেই তিনি অ্যাকাডেমিক ডিনের দায়িত্বও পালন করেছেন।
প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি লেখক হিসেবেও তাঁর স্বর আলাদা। গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সংস্কৃতি, শিক্ষা থেকে ব্যক্তিত্ব গঠন—বহু বিষয়ে তাঁর লেখা ছড়িয়ে রয়েছে। দেশের নানা মঞ্চে তাঁর বক্তৃতা বারবার আলোচনার কেন্দ্র হয়েছে, মুগ্ধ করেছে শ্রোতাদের। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্পাদনার দায়িত্বও কাঁধে নিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রকাশিত বইগুলির মধ্যে রয়েছে “Sachchidanand Joshi ki Lokpriya Kahaniya”, “Kuchh Alpa Viraam”, “Pal Bhar ki Pahchan”—যেখানে গল্প আর কবিতার মিশেলে উঠে এসেছে জীবনের সূক্ষ্ম অনুভব। তাঁর বক্তৃতাগুলিও সংকলিত হয়েছে “Mera Desh Mera Dharm” নামে দুই খণ্ডে।
এই বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল মানুষের একটি গল্পই এবার রূপ নিয়েছে পর্দায়। কলকাতার মাটিতেই সম্পূর্ণ শুটিং হয়েছে ‘ইফতার’-এর, যেখানে হিন্দি থিয়েটারের শিল্পীরা প্রাণ ঢেলেছেন অভিনয়ে। প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন সতনম আল্লুওয়ালিয়াহ—পরিচালকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যাঁর হাত ধরে এই প্রকল্পটি বাস্তবের আলো দেখেছে।
পরিচালক নিজেই জানিয়েছেন, এই ছবির দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন ডঃ যোশী। আর সেই আস্থার ভিতরেই জন্ম নিয়েছে এক বিশেষ ভাবনা—গণেশ চতুর্থী আর ইফতার, দুই ভিন্ন ধর্মের উৎসব, এখানে এসে মিশেছে এক অদ্ভুত সুরে। যেন আলাদা আলাদা বিশ্বাসের ভেতর থেকেও উঠে এসেছে একটাই কথা—মানুষই আসল, মানবিকতাই শেষ সত্য। এই ছবির প্রতিটি দৃশ্য সেই বিশ্বাসকেই আলোর মতো ছড়িয়ে দেয়।