‘ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্টিস্ট ফোরাম’-এর এ বছরের ভোটপর্ব শেষ। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে ফলাফল। কিন্তু এটুকু বললে পুরো ছবিটা ধরা পড়ে না।

শেষ আপডেট: 11 February 2026 13:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্টিস্ট ফোরাম’-এর এ বছরের ভোটপর্ব শেষ। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে ফলাফল। কিন্তু এটুকু বললে পুরো ছবিটা ধরা পড়ে না। কারণ এ বছরের নির্বাচন ছিল অন্য রকম—গঠন, ভাবনা এবং অংশগ্রহণ—সব দিক থেকেই।
এইবার সংগঠন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল, দরজা খুলে দিতে হবে সবার জন্য। যে কোনও সদস্য, যাঁর ন্যূনতম সাত বছরের সদস্যপদ রয়েছে, তিনিই প্রার্থী হতে পারবেন—এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয় সমস্ত সদস্যের জন্য। ফলে এই ভোট কেবল পদাধিকার নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছে অংশগ্রহণের এক উন্মুক্ত মঞ্চ।
ফলাফলও জানিয়ে দিল, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার ওপরই ভরসা রেখেছেন সদস্যরা। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রঞ্জিত মল্লিক। কার্যকরী সভাপতির দায়িত্বে থাকছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সহ সভাপতির আসনে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, ভরত কল, লাবণী সরকার ও শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। সহকারী সম্পাদক পদে রয়েছেন আবির চট্টোপাধ্যায় ও দেবদূত ঘোষ। যুগ্ম সম্পাদক চন্দন সেন ও শুভাশিস মিত্র। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়, আর সহকারী কোষাধ্যক্ষ দিগন্ত বাগচী। কার্যকরী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুশল চট্টোপাধ্যায়, জয়ন্ত দত্ত বর্মন, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, পায়েল দে, বিদীপ্তা চক্রবর্তী, সুদীপ মুখোপাধ্যায় ও শুভ্রজিৎ দত্ত।
তবে শুধু নতুন কমিটি নয়, এই নির্বাচনের আসল বার্তা লুকিয়ে রয়েছে ভবিষ্যতের পরিকল্পনায়। দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগকে সামনে রেখে এবার প্রযুক্তির দিকে জোর দিল ফোরাম। শুরু হল নিজস্ব অ্যাপ। পাশাপাশি ওয়েবসাইটকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে, যুক্ত হচ্ছে একাধিক কার্যকরী বিভাগ।

‘মেম্বার্স কর্নার’ সেই ভাবনারই অংশ। মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে শিল্পীরা এখানে তৈরি করতে পারবেন তাঁদের পেশাদার পোর্টফোলিও বা জীবনবৃত্তান্ত। সংগঠনের বিশ্বাস, এতে শিল্পীদের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা আরও সুসংহত হবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘কাস্টিং কর্নার’। কাজের সন্ধানে থাকা সদস্যরা এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন। ইতিমধ্যে প্রায় ২২০০টি প্রযোজনা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে কর্মহীন শিল্পীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে যায়। দৈনন্দিন কাজের হিসাব রাখার জন্য চালু হয়েছে ‘ই-শুটিং ডায়েরি’। এখন আর কোনও আধিকারিকের সইয়ের অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে না। শিল্পীরা নিজেরাই ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতিদিনের কাজের বিবরণ নথিভুক্ত করতে পারবেন।

অভিযোগ জানাতেও বদল আসছে। সংগঠনের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে এখন থেকে অনলাইনেই জানানো যাবে যে কোনও সমস্যা বা অভিযোগ। সদস্যদের আর সশরীরে অফিসে যেতে হবে না। আরও সহজে এই সুবিধা পৌঁছে দিতে ‘মেম্বার্স কর্নার’ ও ‘কাস্টিং কর্নার’—এই দুই পরিষেবাকেই একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একটি নির্বাচন শেষ হয়েছে, কিন্তু শুরু হয়েছে অন্য এক যাত্রা। শিল্পীদের সংগঠন কি এবার সত্যিই হয়ে উঠবে শিল্পীদের নিজস্ব শক্ত ঘাঁটি? প্রযুক্তি আর অংশগ্রহণের এই নতুন সেতু কি বদলে দেবে কাজের পরিধি, সুযোগের মানচিত্র? সময়ই তার উত্তর দেবে। তবে আজকের দিনটায় অন্তত এতটুকু বলা যায়—মঞ্চ প্রস্তুত, আলো জ্বলে উঠেছে। এখন দেখা, শিল্পীদের এই নতুন অধ্যায় কত দূর পর্যন্ত আলো ছড়াতে পারে।