পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তিন কর্মী জাল ইনভয়েস, ভুয়ো ইমেল আইডি এবং নকল নথি তৈরি করে সংস্থার থেকে প্রায় এক কোটি একচল্লিশ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

শেষ আপডেট: 5 January 2026 17:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেলিব্রিটিদের নাম, ভুয়ো প্রোজেক্ট আর নকল কাগজপত্র—সব মিলিয়ে খোদ নিজেদের সংস্থার মধ্যেই কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠল তিন কর্মীর বিরুদ্ধে। মুম্বইয়ের আন্ধেরি এলাকার একটি নামী বিজ্ঞাপন ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এজেন্সিকে কেন্দ্র করে এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে ক্রিকেটার কেএল রাহুল, অভিনেত্রী আথিয়া শেট্টি এবং অভিনেতা আরশাদ ওয়ারসির মতো পরিচিত তারকাদের নাম, যাঁদের পরিচয় ব্যবহার করেই তৈরি হয়েছিল ভুয়ো ডিল ও ইনভয়েস।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তিন কর্মী জাল ইনভয়েস, ভুয়ো ইমেল আইডি এবং নকল নথি তৈরি করে সংস্থার থেকে প্রায় এক কোটি একচল্লিশ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযুক্তদের নাম ঋষভ সুরেখা, যশ নাগরকোটি ও আশয় শাস্ত্রী। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪) ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতারণা চালানো হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও বিস্ফোরক তথ্য। অভিযুক্তরা শুধু তারকাদের নাম ব্যবহার করেননি, তাঁদের সই পর্যন্ত নকল করেছিলেন। পাশাপাশি, তারকাদের নামে ভুয়ো ইমেল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বোঝানো হতো যে প্রোজেক্টগুলি একেবারেই আসল। সেই বিশ্বাসের উপর ভর করেই একের পর এক পেমেন্ট অনুমোদন করা হয়। আন্ধেরির ওই সংস্থার কর্মী জেনি অ্যান্থনি পুরো বিষয়টি প্রথম পুলিশের নজরে আনেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, সংস্থার প্রধান অফিস হরিয়ানায় হলেও এই জালিয়াতির মূল কেন্দ্র ছিল আন্ধেরি শাখা।
প্রধান অভিযুক্ত ঋষভ সুরেখা ২০২৩ সালের জুলাই মাসে সিনিয়র ম্যানেজার পদে ওই সংস্থায় যোগ দেন। ব্র্যান্ডিং ও ইনফ্লুয়েন্সার ম্যানেজমেন্ট ছিল তাঁর দায়িত্বে। অভিযোগ, সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই তিনি নিজের মায়ের চিকিৎসার অজুহাতে সংস্থা থেকে পনেরো লক্ষ টাকা সুদহীন ঋণও নিয়েছিলেন। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, ভুয়ো প্রোজেক্ট দেখিয়ে প্রায় বায়ান্ন লক্ষ টাকা সরাসরি ঋষভের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে।
২০২৪ সালের অগস্ট মাসে ঋষভ দাবি করেন, অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে নিয়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রোজেক্ট পেয়েছেন তিনি। প্রোডাকশন হাউসকে একত্রিশ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে জানা যায়, প্রকৃত ডিলের অঙ্ক ছিল বাষট্টি লক্ষ টাকা। এখান থেকেই সংস্থার কর্তৃপক্ষের সন্দেহ দানা বাঁধে। তদন্তে নেমে দেখা যায়, আরশাদ ওয়ারসি ও আথিয়া শেট্টির নাম ব্যবহার করে দেখানো বহু প্রোজেক্টের আদৌ কোনও অস্তিত্ব নেই।
বর্তমানে আন্ধেরি থানার পুলিশ গোটা আর্থিক লেনদেনের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছে। ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। যদিও এই মুহূর্তে কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি, তবে তদন্ত যে আরও বড় মোড় নিতে পারে, তা বলছেন সংশ্লিষ্ট মহল।