টলিপাড়ায় যেন একটু আগেই সূর্য উঠেছিল গত ৩০ জুন। প্রযোজক, চ্যানেল এবং ফেডারেশন—তিনপক্ষ একসঙ্গে বসে আলোচনা করে পৌঁছেছিলেন এক ঐতিহাসিক মীমাংসায়।

স্বরূপ বিশ্বাস
শেষ আপডেট: 24 July 2025 16:21
টলিপাড়ায় যেন একটু আগেই সূর্য উঠেছিল গত ৩০ জুন। প্রযোজক, চ্যানেল এবং ফেডারেশন—তিনপক্ষ একসঙ্গে বসে আলোচনা করে পৌঁছেছিলেন এক ঐতিহাসিক মীমাংসায়। ঘোষণা হয়েছিল, ‘আর কোনও কারণে শুটিং বন্ধ নয়।’ সংবাদমাধ্যমের সামনে হাতে হাত রেখে একসঙ্গে এগিয়ে চলার অঙ্গীকারও করেছিলেন সকলে। বলা হয়েছিল, দীর্ঘদিনের সমস্যা—যেমন পুষ্টিকর খাবার, কলাকুশলীদের ক্যান্টিন, মহিলা শৌচাগার—সব কিছুরই এবার সমাধান হয়েছে। দাবি উঠেছিল, ৩০ জুন দিনটি নাকি বাংলা ধারাবাহিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
কিন্তু বাস্তবের মঞ্চে কি আদৌ বাজল সেই আশার সুর?
ঠিক এক মাস আগে, ৩১ মে ফেডারেশন হুঁশিয়ারি দিয়েছিল—যদি দাবি না মানা হয়, তাহলে ৩-৪ মাসের মধ্যে আজীবনের জন্য বন্ধ হতে পারে শুটিং। যদিও আলোচনায় তৎকালীন ভাবে আশার আলো দেখা গিয়েছিল। তবে সময় গড়ানোর পরেও পরিস্থিতি কতটা বদলেছে, তা খতিয়ে দেখতে ২৪ জুলাই দুপুরে ইন্দ্রপুরী স্টুডিওয় হাজির হন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, সঙ্গে ছিলেন ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্যরাও।
যা চোখে পড়ে, তাতে তাঁরা নারাজ। মহিলা শৌচাগারের অবস্থা থেকে খাবারের গুণমান—সবই তাঁদের আশাভঙ্গ করেছে। ক্যান্টিনের অবস্থা নিয়েও ছিল অসন্তোষ। এমনকি সূত্রের খবর, এই নিয়ে স্টুডিও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয় ফেডারেশন সভাপতির। ‘দ্য ওয়াল’-এর পক্ষ থেকে ফোনে ধরা হয় সভাপতিকে, তিনি বলেন, ‘জঘন্য পরিবেশ। মালিক থেকে শুরু করে স্টুডিয়োর ইপি (এগজিকিউটিভ প্রোডিউসার) চ্যানেল ইপি (এগজিকিউটিভ প্রোডিউসার) সবাইকে জানিয়েছি। আমি লিখিতভাবে জানতে চেয়েছি, এই পরিবেশে কীভাবে শুটিং হচ্ছে, তা দিতে হবে!’
‘জঘন্য পরিবেশ’ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত বলেন স্বরূপ, ‘ভয়ঙ্কর অবস্থা। তিনটে ফ্লোরে আমরা গিয়েছিলাম। সেখানে ‘পরিণীতা, ‘রাণী ভবানী’ এবং ‘দাদামণি’র মেগা সিরিয়ালের শুটিং চলছে। তিনটেই বড় হিট। কিন্তু যা পরিবেশ আমরা স্বচক্ষে দেখলাম, শৌচাগার অবস্থা শোচনীয়। যত্রতত্র খাবারের প্লেট পড়ে রয়েছে। চারপাশে নোংরা আবর্জনার ঢিপি। যা বুঝলাম, এই মুহূর্তে ওখানে শুটিং করা অর্থাৎ ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হওয়া। খাবার যেখানে দেওয়া হচ্ছে, তার পরিবেশ কলকাতা পৌরসভার সুলভ শৌচাগারের থেকেও খারাপ। দুটো শৌচাগার, ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩০০। খাবার খেতে দাঁড়াচ্ছেন প্রায় ৩৫০, কিন্তু সেই স্থানের মাপ ২৫ ফুট X ১৫ ফুট! ভাবতে পারেন?’
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কেবল চুক্তির কাগজে কি বদলায় পর্দার পিছনের পরিশ্রমী মানুষদের বাস্তব? নাকি আজও তাঁদের জীবনজুড়ে শুধুই অপেক্ষা, প্রতিশ্রুতি আর আশার আলো দেখতে দেখতে অন্ধকারেই হাঁটা? টলিপাড়ায় সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে, কেবল মঞ্চের আলোয় নয়—পর্দার পেছনের মানুষগুলোর সম্মান আর স্বাচ্ছন্দ্যের ভিত মজবুত হলে। এখন শুধু দেখার, কবে সত্যিই আলো এসে ছুঁয়ে যাবে সেই পর্দার আড়ালের জীবনকে।