মুক্তির আর মাত্র দু’দিন বাকি। তার আগেই বক্স অফিসে চমক দেখানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে ধনুষ–কৃতি স্যানন অভিনীত ‘তেরে ইশ্ক মেঁ’।

ধনুষ-রণবীর।
শেষ আপডেট: 26 November 2025 20:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুক্তির আর মাত্র দু’দিন বাকি। তার আগেই বক্স অফিসে চমক দেখানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে ধনুষ–কৃতি স্যানন অভিনীত ‘তেরে ইশ্ক মেঁ’। অগ্রিম বুকিংয়ের ঝড় যেন জানিয়ে দিচ্ছে—প্রথম দিনেই হবে ভিড়। কিন্তু গোল বাঁধছে অন্য জায়গায়। দেশের বেশ কয়েকটি সিঙ্গল স্ক্রিনে এখনও পর্যন্ত টিকিট বিক্রিই শুরু হয়নি। কারণ? সূত্রের খবর—ডিস্ট্রিবিউটরের একটি নির্দিষ্ট দাবি মানতে নারাজ হল মালিকরা।
এক সূত্রের কথায়, “অনিল ঠাকরানির এএ ফিল্মস সিঙ্গল স্ক্রিনগুলিকে প্রথমে একটি চুক্তি সই করতে বলেছে, যেখানে স্পষ্ট লেখা—এই সপ্তাহে হলে ‘তেরে ইশ্ক মেঁ’-এর সব শো চালাতেই হবে। এই অংশে সবাই রাজি। কিন্তু এরপর আসে দ্বিতীয় শর্ত—পরের সপ্তাহেও ‘তেরে ইশ্ক মেঁ’-এর দু’টি শো চালানোর অঙ্গীকার করতে হবে। এই দু’টি নিয়ম মানলেই হল মালিকেরা ছবিটি মুক্তির অনুমতি পাবেন।”
সূত্র আরও জানাচ্ছে, “পরের শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর’। এখন যদি এই শর্ত মেনে সিঙ্গল স্ক্রিন মালিকরা সপ্তাহজুড়ে ‘তেরে ইশ্ক মেঁ’ রাখেন, তবে ‘ধুরন্ধর’–এর জন্য তাঁদের মাত্র দু’টি শো ছাড়তে হবে। মালিকরা এই চাপের সঙ্গে একমত নন। তাঁরা ‘ধুরন্ধর’কেও সমান সংখ্যায় স্ক্রিনিং দিতে চান।”
তবে ছবিটি নিয়ে তাদের উৎসাহ কম নয়। সূত্রের আরও খবর, ‘সিঙ্গল স্ক্রিন মালিকরা চান দ্রুত এই অচলাবস্থা কাটুক। বুকিং দেখে তাঁরা যথেষ্টই আশাবাদী। গোটা মাসে কোনও রিলিজই সিঙ্গল স্ক্রিনে সফল হয়নি। শেষ হিট ছিল ‘এক দেওয়ানে কি দেওয়ানিয়াত’, সেটাও এক মাসেরও বেশি হয়ে গিয়েছে। সে ছবিটিও প্রথম সপ্তাহে অনেক হলে পৌঁছয়নি। তাই ‘তেরে ইশ্ক মেঁ’ এবং ধুরন্ধর—দুই ছবিই তারা চালাতে মরিয়া।”
বাংলার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও (টলিউড) একই ধরনের সমস্যা বহুবার দেখা গিয়েছে। হল ভাগাভাগি, শো কমে যাওয়া, ডিস্ট্রিবিউটর ও প্রযোজকের দ্বন্দ্ব—সবই আগে ঘটেছে। ২০২৩ সালের ‘পাঠান’–এর জন্য কিছু সিঙ্গল স্ক্রিন হলে জোর করে শো বরাদ্দ করতে গিয়ে চলতে থাকা বাংলা ছবিগুলোর শো কেটে দেওয়া হয়েছিল। বহু নির্মাতা ও প্রযোজক এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের একজন বলেছিলেন, “যে বাংলা ছবি ৪০–৫০টি হলে দারুণ ব্যবসা করছিল, হঠাৎ যদি এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ে… তবে মানতেই হবে—এখানে বড় কোনও সমস্যা আছে।”
এরপর ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট রাজ্য সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়—রাজ্যের সব প্রেক্ষাগৃহ ও মাল্টিপ্লেক্সে প্রতিদিন অন্তত একটি বাংলা ছবির প্রাইম-টাইম শো রাখা বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম আনা হয় কারণ প্রায়শই বাংলা ছবিকে প্রাইম-টাইমে জায়গা দেওয়া হত না। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী প্রাইম-টাইমে বাংলা ছবিকে ৫০%-এরও বেশি প্রাধান্য দিতে হবে—অন্যান্য ভাষার ছবির সঙ্গে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হবে।
এই সবকিছুর মধ্যেই আশার আলো দেখছেন মুম্বইয়ের হল মালিকরা। মনে করা হচ্ছে, আলোচনার পথ খুললেই দেশের সব প্রেক্ষাগৃহে একযোগে বুকিং শুরু হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি সত্যিই মিলবে সমাধান? নাকি মুক্তির আগমুহূর্তে আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করে আছে?