'তোমার টানে', 'আজ শ্রাবণে', 'ভোকাট্টা', 'চাঁদ', 'বৌদিমণির কাগজওয়ালা', 'রুবি রায়', 'প্রিয়তমা' সব গান 'আমার এফ এম'এ না বাজলে হিট করত না। বাংলা গান বাজে না সেটা বাংলা গানের জন্য ক্ষতিকর। বাংলা গান রেডিওতে চললে নাকি বিজ্ঞাপন আসে না।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 17 July 2025 20:06
'দিগন্তলীন মাঠের উপর
থাকছি আমি শুয়ে...
এই কপালের সমস্ত তাপ
বর্ষা দেবে ধুয়ে....
এর বেশী কি পাওয়ার থাকে
এর বেশী কে চায়...
আজ বরষা নামল সারা
আকাশ আমার পায়...'
সঙ্গীত জীবনের ৩০ টি বর্ষা পূর্ণ করলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী রূপঙ্কর বাগচী। এই শুক্রবার ১৮ জুলাই জি ডি বিড়লা সভাঘরে দ্য ড্রিমার্সের উদ্যোগে হচ্ছে রূপঙ্করের '৩০ টি বৃষ্টি' একক অনুষ্ঠান। সঙ্গে সূত্রধর থাকবেন সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।
তাঁর ৩০ বছরের গান জীবনের উদযাপনের প্রাক মুহূর্তে শুরুর দিনের সব গল্প অকপট আড্ডায় বললেন রূপঙ্কর। শিল্পীর সঙ্গে গল্প করলেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বর্ষাকেই কেন বেছে নিলেন রূপঙ্কর তাঁর ৩০ বছরের গান জীবনের অনুষ্ঠানে?
বর্ষা আমার খুব প্রিয় ঋতু। জীবনের অনেক স্মরণীয় ঘটনা আমার বৃষ্টিতেই ঘটেছে। আমার প্রেম বৃষ্টিতে হয়েছে, আমার বিয়ে বৃষ্টিতে হয়েছে, এই বৃষ্টির সময় আমাদের শিল্পীদের অফ সিজন থাকে তো এসময় আমরা খুব বেড়াতে যাই, ভীষণ পছন্দের বিষয় আমার বৃষ্টি। জানি বৃষ্টিতে মানুষের অসুবিধে হয় তবু আমার বর্ষাতে প্রেম পায়, গান পায়।
প্রেমের কথা বললেন, আপনার প্রেম থেকে বিয়ের গল্পটা কী ভাবে ঘটল শুনি?
আমি কিন্তু প্রথম যৌবনে গানের পাশাপাশি নাটকও করেছি। কলেজের পর থিয়েটার করতে যেতাম। আমি আর চৈতালি একসঙ্গে থিয়েটার করতাম। প্রথম দেখা থিয়েটারেই। বন্ধুত্ব থেকে আমাদের প্রেম হল। তারপর এক বছরের মধ্যে বিয়ে করে ফেললাম। কারণ আমাদের বিয়ে করার খুব প্রয়োজনীয়তা ছিল। আমাদের বন্ধুত্ব ১৯৯৬, প্রেম ১৯৯৮ এ তখন বুঝলাম শুধু বন্ধুত্ব নয় আর বিয়ে ১৯৯৯ সালে। আর সবই বৃষ্টিতে। বর্ষাতেই আমার সবকিছু।

গানের জগতে আসা কী ভাবে রূপঙ্করের? গান প্রথম ভালবাসা হল কেমন করে?
আমার দিদিমা আমার প্রথম গার্লফ্রেণ্ড। দিদিমার নাম ছিল শিউলি সেনগুপ্ত। আমার দিদিমা খুব আটপৌরে একজন মহিলা ছিলেন। কৈশোরের বহু বড় একটা সময় আমরা দু'জনে একসঙ্গে কাটিয়েছি। কারণ দিদিমা খুব একা ছিলেন, দাদু খুব বর্হিজগতে ব্যস্ত থাকতেন। আর আমার বাবা মা-ও খুব ব্যস্ত থাকতেন। গান, সিনেমা, কবিতা সব নিয়ে দিদিমার সঙ্গে গল্প হত। আমার তৈরি প্রথম গানের সুর সবার আগে আমি দিদিমাকে শুনিয়েছি। আমি যখন ক্লাস ইলেভেনে উঠলাম তখন দিদিমা মারা গেলেন। যে শোক আমার ব্যক্তিত্বে বিপুল পরিবর্তন করে দিল। আগে যতটা অন্তর্মুখী ছিলাম ততটা আমি আর রইলাম না। মনে হল কিছু কাজ করে আমার অস্তিত্ব মানুষকে বোঝাতে হবে। তখন মনে হল গান আমার কাছে একমাত্র অস্ত্র।
গান শেখার হাতেখড়ি কী ভাবে?
আমি ছোটবেলা থেকেই নিজে নিজে বেশ গান গাইতে পারতাম। ভালই গাইতাম। তখন তালিম নিইনি। কিন্তু দিদিমার মৃত্যুর পর থেকে আমি সিরিয়াসলি গান বাজনা শুরু করি। ক্লাস ইলেভেন থাকে আমার বাবা মায়ের কাছে গান শেখা শুরু করি। বাবা-মা দু'জনেই ভীষণ পণ্ডিত মানুষ ছিলেন। বাবা রীতেন্দ্রনাথ বাগচী ভীষণ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে পণ্ডিত। কিন্তু পেশায় স্কুল শিক্ষক ছিলেন। অসাধারণ গান গাইলেও বাবা গানকে পেশা করেননি। মা সুমিত্রা বাগচী গানের শিক্ষিকা ছিলেন। প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান মা খুব ভাল গাইতেন। নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসঙ্গীত মায়ের কাছে শেখা আর বাবার কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। বাবা জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ, তারাপদ চক্রবর্তীর ছাত্র ছিলেন। আমি এরপর সুকুমার মিত্র, জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের কাছেও গান শিখেছি।
তবে আমার সবচেয়ে বড় গুরু যদি আমি বলি তাহলে সেটা হচ্ছে 'আকাশবাণী'। রেডিও আমাকে সবসময় নানারকম মিউজিক শুনতে উৎসাহ দিয়েছে।

রূপঙ্করের গান জীবনের শুরু তো সেই ৩০ বছর আগে। সেই প্রথম অ্যালবাম 'তুমি শুনবে কি?'
কারেক্ট! ১৯৯৫ তে রিলিজ করে প্রথম অ্যালবাম 'তুমি শুনবে কি?'। কিন্তু সুপারফ্লপ। অর্ধেক লোক নামই জানে না। ১৯৯৬ সালে এল রিমেক গানের অ্যালবাম 'এ যেন সেই চোখ!' ১৯৯৭ কিছু করিনি। ১৯৯৮ এ বেরোয় আমার মৌলিক গানের অ্যালবাম 'বন্ধু দেখা হবে'! সেই গান চারিদিকে হিট করে গেল।
তখন রিমেক গানের যুগে নতুনরা সবাই রিমেক গানের ক্যাসেট বের করছেন কিন্তু সেখানে আপনার নিজের গান শ্রোতারা আপন করে নিল। কতখানি চ্যালেঞ্জিং ছিল?
চ্যালেঞ্জ আমি ভাবিনি। জীবনটাকে আমি খুব সহজ ভাবেই দেখেছি। আমি নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করেছি কোনও কষ্টতেই কষ্ট হয় না, কোনও দুঃখতেই কষ্ট হয় না। আমি বেঁচে আছি সেটাই মুখ্য। আমার এই জার্নিটাই আসল। কোনও লক্ষ্যে পৌঁছনো বড় কথা নয়। জার্নিতে প্রতিটা মুহূর্ত আমার কাছে দামি। এই যে আপনার সঙ্গে কথা বলছি এই মুহূর্তটা দামি। রিমেক বা মৌলিক নিয়ে এতকিছু ভাবিনি। মৌলিক গান গেয়ে নিজেকে জনপ্রিয় করতে চেয়েছিলাম সেটা যখন হল স্বপ্নপূরণ তো হয়েছিল। 'বন্ধু দেখা হবে'র সুর কিন্তু আমার, আর কথা লিখেছিলেন অঞ্জন রায়। এ গান হিট করা আমার কাছে বিশাল বড় প্রাপ্তি। এরপর পরপর করে আমার অ্যালবাম হিট হতে লাগল।
এরপর কী 'তোমার টানে সারাবেলার গানে'?
হ্যাঁ। ১৯৯৯ সালে 'আনমনে আমাকে ভাব' অ্যালবামে বেরল এই গান। 'তোমার টানে সারাবেলার গানে' র কথা আর সুর দুটোই আমার ছিল। এই গানটা খুব অদ্ভুত ভাবেই তৈরি হয়েছিল। মজার কথা যেটা, এই গানটা প্রথমে অ্যালবামেই ছিল না। অ্যারেঞ্জার ছিলেন বিখ্যাত সুরকার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিতদা আমাকে বললেন 'তোমার এই অ্যালবামের সব গানে পপ গানের ছোঁয়া এসে যাচ্ছে একটু স্বর্ণযুগের বাংলা আধুনিক গানের মতো কোনও গান বানাও'। তখন স্টুডিওতে থেকে বাড়ি ফিরেই এক রাতের মধ্যে গানের কথা সুর করে পরদিন রেকর্ড করেছিলাম। তখন সব গানেই আগে থেকে অনেক প্রস্তুতি কিন্তু এই গানটার প্রস্তুতি একেবারেই ছিল না। আমি সিরিয়াসলি ভাবিওনি এই গানটা নিয়ে। কিন্তু এই গানটাই ক্লিক করে গেল।
আপনি তো সদ্য 'চন্দ্রবিন্দু' ছবিতে একটা দারুণ গান গাইলেন। মৃত্যুর পর প্রিয় মানুষদের ভালবাসা নিয়ে 'এ জীবন যায়, জীবন আসে, আড়ালে কে দাঁড়িয়ে হাসে'। কিন্তু ছবি হিট না করায় এত ভাল গান পৌঁছল না। বাংলা গান হিট করছে না এফ এম রেডিওতে বাংলা গান বাজছে না বলেই কী?
সেটাই কারণ। এখন তো বাংলা গানের এফ এম চ্যানেল নেই। 'আমার এফ এম' থেকে আমার নিজের ৮টা গান হিট হয়েছিল। গানগুলো সারাদিন বাজত রেডিওতে। 'তোমার টানে', 'আজ শ্রাবণে', 'ভোকাট্টা', 'চাঁদ', 'বৌদিমণির কাগজওয়ালা', 'রুবি রায়', 'প্রিয়তমা' সব গান 'আমার এফ এম'এ না বাজলে হিট করত না। বাংলা গান রেডিওতে বাজে না সেটা বাংলা গানের জন্য ক্ষতিকর। বাংলা গান রেডিওতে চললে নাকি বিজ্ঞাপন আসে না।
এখন শ্রোতাও পাল্টে গিয়েছে। তাঁরা নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী গান, মিউজিক শোনেন। এখন গান মিউজিক তো ফ্রিতেই শোনা যায়। ক্যাসেট, সিডি কেনার পাঠ উঠে গেছে, সেসব যুগ শেষ হয়ে গিয়েছে। সেটা ক্ষতিকরই বলব। ক্যাসেট সিডি কেনার জন্য পয়সা জমানোর ব্যাপার আজ আর নেই। এখন তো বড়ে গোলাম আলি খাঁ শুনলে ফোনেই শোনা যায়। যে জিনিসের জন্য খরচ করতে হয় না, সেই জিনিসের দাম কমে। আগেকার দিনে পাড়ার ডাক্তার যদি ১০ টাকা নিত, আর রাস্তার মোড়ের ডাক্তার যদি ৫০ টাকা ফি নিতেন তার কদর অনেক বেশি ছিল। যেটা সহজে পাওয়া যায় তার প্রতি মানুষের ভালবাসাটা কমে যায়!
আপনার গান জীবনে কবীর সুমনের ভূমিকা ও জাতীয় পুরস্কার?
সুমনদা একটা খনি। কবীর সুমনের মূল্যায়ণ এখনও পর্যন্ত বাঙালি করে উঠতে পারেনি। 'এ তুমি কেমন তুমি' প্রথম টেকটা আমি খুব এক্সপ্রেশন দিয়ে গেয়েছিলাম। সুমনদা প্রথমেই আমাকে বলেছিলেন আমি অত এক্সপ্রেশন চাইনা। প্রথম একজন সংগীত পরিচালককে বলতে শুনেছিলাম যিনি বলছেন 'গানে তুমি এক্সপ্রেশন একটু কম দাও'। আজ পর্যন্ত যতজন মিউজিক ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করেছি সবাই বলেছেন অভিব্যক্তি, অভিব্যক্তি, অভিব্যক্তি। প্রথম ও শেষ মিউজিক ডিরেক্টর যিনি আমাকে বলেন 'তুমি বড্ড এক্সপ্রেসিভ কমাতে হবে'। পরে আমি পর্দায় 'জাতিস্মর' ছবিতে যীশু সেনগুপ্তর লিপে আমার গান দেখে বুঝলাম কেন বলেছিলেন সুমনদা। 'এ তুমি কেমন তুমি' প্রথম দেখার প্রেমে কেউ বলে না, এটা একটা চিরন্তন প্রেমের গান। খুব বেশি প্রেম প্রেম ভাব দেখালে, চিরন্তন প্রেমের মাধুর্য কমে যায়।
আর জাতীয় পুরস্কারের খবর পেলাম যখন আমি থিয়েটারের রিহার্সাল করছিলাম। আমার দলের একজন ছেলে এসে জানায় আমি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। তারপর মিডিয়া থেকে জানায়। জীবনের বড় মুহূর্ত জাতীয় পুরস্কার নিতে যাওয়া।
আপনার পরপর হিট গান তো অঞ্জন দত্তর ছবিতে?
'দ্য বং কানেকশন ব্লুজ' গানটা আমার সঙ্গে পারভেজ কাদির বলে একজন বাংলাদেশের গায়ক গেয়েছিলেন। একদম অন্যধারার গান গেয়ে খুব ভাল লেগেছিল। কিন্তু এই গানটা বেশি মানুষ শোনেননি। বরঞ্চ শানের 'মাঝি রে' গানটা বেশি হিট ছিল। তবে অঞ্জনদার 'চলো লেটস গো' ছবিতে 'চুপি চুপি রাত' আমার কন্ঠে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল।
অঞ্জন দত্ত তো 'চালচিত্র এখন' ছবিতে আপনাকে অনুপ কুমারের চরিত্রে নিয়েছিলেন?
হ্যাঁ। কিন্তু অনুপ কুমারকে নকল করতে আমি চাইনি। পারতামও না। অনুপ কুমারকে নকল করতে গেলে আমাকে আর এক বার জন্ম নিতে হবে। এই জন্যই নিজের মতো করেছি।

ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে 'আবহমান' ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা?
ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে কিন্তু তার আগে আমি কাজ করেছিলাম। 'সানগ্লাস' ছবিতে আমি গান গেয়েছিলাম কিন্তু ছবিটা রিলিজ করেনি। কেউ জানে না তাই। আর 'আবহমান' ছবির 'টলতে টলতে চলতে চলতে' গানের রেকর্ডিং করেছিলাম রাজা নারায়ণ দেবের সংগীত পরিচালনায়। কিন্তু ঋতুদা রেকর্ডিংয়ে স্টুডিওতে আসেননি। সুতরাং ঋতুদার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কিছু শেয়ার করতে পারব না। গানটা খুব ভাল গেয়েছি ঋতুদা সেটা বলেছিলেন।
রবীন্দ্রনাথের গানে রূপঙ্কর?
বিশ্বভারতী যখন ছিল তখন একদম স্বরলিপি মেনে গান রেকর্ড করেছি। আবার যেমন অঞ্জন দত্তর 'দত্ত ভার্সেস দত্ত' ছবিতে একদম অন্যরকম ভাবে 'ভালবেসে সখী নিভৃত যতনে' গেয়েছিলাম।
সামাজিক মাধ্যমে সেলিব্রিটিদের মুখ খোলা কী বিপজ্জনক মনে হয়? আপনার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছিল তার রেশ কী কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন?
সেলিব্রিটিদের কী করা উচিত আমি জানিনা। আমি তো সেলিব্রিটি নই। আমি একজন মিউজিশিয়ান। আমি বুঝতে পেরেছি আমার কম কথা বলা উচিত। কে কে বিষয়ে বলার পর নিজের খারাপ লেগেছিল। সেইটা কাটিয়ে ওঠার পেছনে আমার স্ত্রী আর মেয়ের বড় ভূমিকা ছিল। যারা সারাজীবন আমার সঙ্গে ছিল, আছে, থাকবে। আমার পাশে ঐ সময় আর কেউ ছিল না।

মেয়ের কথা একটু শুনি?
মেয়ে মহুল সাইকোলজি নিয়ে পড়ে। গ্রাফোলজি নিয়েও পড়ছে। ফরেন্সিক নিয়ে ওর পড়াশোনা করার ইচ্ছে। মেয়ের মিউজিক নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই। বিন্দাস ভাল আছে। আমি বা চৈতালি ওকে জোর করে মিউজিকে আনতে চাইনি।
মেয়েকে তো আপনারা দত্তক নিয়েছিলেন। মহুল যে আপনাদের নিজের সন্তান নয়, সেটা তো ওকে জানিয়ে দিয়েছেন। এটা তো যারা দত্তক নেন সেই বাবা-মায়ের কাছেও বড় বার্তা?
আমরা সন্তানকে জানিয়ে দিয়েছি সে আমাদের দত্তক সন্তান, কারণ আমরা এরকমই। আমি আর আমার স্ত্রী চৈতালি খুব বন্ধু। আমরা খুব বাস্তববাদী। আমি আমার মেয়েকে দত্তক নিয়েছি এটা লোককে বলার মধ্যে কোনও মাহাত্ম্য নেই। আমাদের মেয়ে তো। মহুল খুব সহজ ভাবেই নিয়েছিল জানার পর। সম্পর্কে এই স্বচ্ছতা জরুরি।
গান জীবনের ৩০ বছর পর এবার নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
আমি নিজেকে একটা হাতির মতো দেখতে চাই। আমি একটা বড় হাতি হয়ে কলকাতা শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। যাকে দেখছি তাকে মাড়িয়ে ফেলছি। একটা বড় শুঁড় আমার। হবে না সেটা।