শেষ আপডেট: 13 January 2020 12:04
ওই একই দিনে রিলিজ হয়েছে অজয় দেবগনের ১০০তম ছবি 'তানাজি-দ্য আনসাং ওয়ারিয়র'। তনাজি মালুসরে ছিলেন মারাঠা বীর ছত্রপতি শিবাজির ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সহকর্মী। তাঁর সাহসিকতার কথা আজও মারাঠিদের মুখে মুখে ঘোরে। এই তনাজি মালুসরের বীরগাথাই দেখানো হয়েছে এই ছবিতে। আর তানাজি মালুসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অজয় দেবগণ। তাঁর স্ত্রী সাবিত্রীর চরিত্রে রয়েছেন কাজল। এছাড়াও ছবির মূল খলনায়ক উদয়ভানের চরিত্রে রয়েছেন ছোটে নবাব সইফ আলি খান।
রিলিজের প্রথম দিন থেকেই 'ছপক'-কে টেক্কা দিচ্ছে 'তানাজি'। ট্রেড অ্যানালিস্ট তরণ আদর্শ টুইট করে জানান, শুক্রবার ‘ছপক’-এর বক্স অফিস কালেকশন ছিল ৪.৭৭ কোটি টাকা। আর ‘তানাজি’-র বক্স অফিস কালেকশন তার থেকে প্রায় তিনগুণ বেশি, ১৫.১০ কোটি। ট্রেন্ড বজায় ছিল শনিবারেও। এ দিন 'ছপক'-এর বক্স অফিস কালেকশন ছিল ৬.৯০ কোটি টাকা। এবং শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে মোট ১১.৬৭ কোটি টাকা। সেখানে শনিবার 'তানাজি'-র ব্যবসার পরিমাণ ছিল ২০.৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ দু'দিন মিলিয়ে ৩৫.৬৭ কোটি টাকা।
https://twitter.com/taran_adarsh/status/1216592531707719680
ফিল্ম বিশেষজ্ঞ এবং ট্রেড অ্যানালিস্টদের একাংশ বলেছিলেন, প্রথম দিন বক্স অফিসে ধামাকা করতে না পারলেও সপ্তাহ শেষে দুটো ছুটির দিন শনি এবং রবিবারে জমিয়ে ব্যবসা করবে দীপিকার 'ছপক'। কিন্তু বাস্তবে এমনটা মোটেও হয়নি। কারণ তরণ আদর্শের টুইট অনুযায়ী রবিবার ৭.৩৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে তিনদিনে ছপকের আয় ১৯.০২ কোটি তাকা। আর রবিবার ২৬.০৮ কোটি টাকার ব্যবসা করে 'তানাজি'-র তিনদিনের বক্স অফিস কালেকশন ৬১.৭৫ কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, মারাঠা আবেগ জড়িয়ে থাকার কারনেই এমন তরতর করে এগোচ্ছে 'তানাজি'। সঙ্গে রয়েছে কাজল-অজয়ের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল মহারাষ্ট্র নয়, পূর্ব পঞ্জাব, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ এবং বাংলাতেও 'তানাজি'-র ব্যবসার পরিমাণ যথেষ্ট ভাল। সেক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে 'ছপক'। ফিল্ম ক্রিটিকদের একাংশের মতে, হয়তো দীপিকা পাড়ুকোনের জেএনইউ যাওয়ার কারণেই 'ছপক' ছবির ব্যবসায় এভাবে ধস নেমেছে।
https://twitter.com/taran_adarsh/status/1216593411727192064
প্রসঙ্গত, গত রবিবার হামলা হয়েছিল জেএনইউয়ের সবরমতী হোস্টেলে। তারপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সবরমতী হোস্টেলে পৌঁছেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ছাত্রছাত্রীদের। এরপর থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা। একতরফের দাবি ছিল ‘ছপক’-এর প্রচারের জন্যই জেএনইউতে গিয়েছিলেন দীপিকা। আর এক তরফের দাবি ছিল সুস্থ-স্বাভাবিক নাগরিক হিসেবে সঠিক কাজ করেছেন অভিনেত্রী। সেইসময়েই একাংশ ‘ছপক’ বয়কটের দাবি তোলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় আগাম টিকিট কেটে তা বাতিল করার স্ক্রিনশট। যদিও নেটিজেনদের একাংশ জানায়, এই ছবি ভুয়ো। কারণ সবক্ষেত্রেই একই সিনেমা হল, একই শো টাইম মায় একই সিট নম্বরের উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। তাই মোটেও সব স্ক্রিনশট সত্যি নয় বলে দাবি করেন তাঁরা।
যদিও রিলিজের তিনদিন পর দুই ছবির ব্যবসার পরিমাণ দেখে অনেকেই বলছেন, তাহলে কি সত্যিই দর্শকদের একাংশ বয়কট করলেন দীপিকার ‘ছপক’-কে? ঘুরেফিরে এখন এই লাখ টাকার প্রশনই আসছে আমজনতার মনে। যদিও দীপিকার ভক্তরা এমনটা মানতে নারাজ। ধীরে ধীরে হলেও 'ছপক' ভালই ব্যবসা করবে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।