দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর নাম জড়ানোর পর থেকে প্রায় প্রতিদিন প্রকাশ পাচ্ছে কোনও না কোনও নতুন তথ্য। সম্প্রতি রিয়ার কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা গিয়েছে গত ৬ মাসে সুশান্তের প্রাক্তন বিজনেস ম্যানেজার শ্রুতি মোদী, অভিনেতার হাউস ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডা, এছাড়াও নিজের ভাই শৌভিক এবং বর্ষীয়ান বলিউড পরিচালক মহেশ ভাটের সঙ্গে রিয়া এতবার কথা বলেছেন যা যথেষ্টই সন্দেহজনক।
সূত্রের খবর, স্যামুয়েল মিরান্ডার সঙ্গে ৩০০-রও বেশিবার ফোনে কথা হয়েছে রিয়ার। অন্যদিকে শ্রুতি মোদীর ক্ষেত্রে ফোন কলের সংখ্যা প্রায় ৮০০। ভাই শৌভিক এবং মহেশ ভাটের সঙ্গেও সন্দেহজনক ভাবেই গত ৬ মাসে ফোনে কথা বলেছেন। শোনা গিয়েছে, সুশান্তের বন্ধু এবং ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট ম্যানেজার সিদ্ধার্থ পিঠানির নামও রয়েছে এই তালিকায়। প্রসঙ্গত, মহেশ ভাট ছাড়া রিয়ার কললিস্টের বাকি সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠিয়েছে ইডি।
উল্লেখযোগ্য যে আজ শুক্রবার মুম্বইয়ে ইডির দফতরে যান রিয়া এবং তাঁর ভাই শৌভিক। তাঁদের যাওয়ার খানিকক্ষণের মধ্যেই ইডির দফতরে হাজির হন সুশান্তের প্রাক্তন বিজনেস ম্যানেজার শ্রুতি মোদী। এ দিকে আবার শৌভিক চক্রবর্তী কিছুক্ষণ পর ইডির দফতর থেকে বেরিয়ে এলেও এখনও জেরা চলছে রিয়ার। আগামীকাল আবার সিদ্ধার্থ পিঠানিকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তভার নিয়েছে সিবিআই। রিয়া-সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই। সেই এফআইআর-এ নাম রয়েছে রিয়ার ভাই শৌভিক, তাঁর মা সন্ধ্যা চক্রবর্তী এবং বাবা ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তীর। এ ছাড়াও সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআর-এ নাম রয়েছে স্যামুয়েল মিরান্ডা এবং শ্রুতি মোদীরও।
প্রসঙ্গত, পাটনার রাজেন্দ্র নগর থানায় রিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন সুশান্তের বাবা কৃষ্ণ কুমার সিং। ছেলের বান্ধবীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছেন তিনি। কে কে সিংয়ের কথায় সুশান্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকার রহস্যজনক লেনদেন হয়েছে। তাঁর অভিযোগ সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে যে অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে সেটা তাঁর ছেলের নয়।
এই আর্থিক লেনদেনের আসল সত্যিটা সামনে আনতে তদন্তে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর্থিক তছরুপের মামলা রুজু করে ইডি। বিহার পুলিশের থেকে পাওয়া সুশান্তের বাবার করা এফআইআর-এর প্রতিলিপি খতিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্ত নেন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। এরপর এই তদন্তে রিয়া চক্রবর্তীকেও সমন পাঠায় ইডি। শুক্রবারের মধ্যে অর্থাৎ আজ সকাল সাড়ে এগারোটার মধ্যে তাঁকে ইডির দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়ে। যদিও প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল ইডির সমনের নাকি কোনও জবাব দেননি রিয়া। এমনকি বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও রিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি ইডির অফিসাররা। তাঁর ফোনও নাকি বন্ধ ছিল এবং ইডির পাঠানো ই-মেলের জবাব দেননি তিনি।
বদলে আজ সকালে নিজের আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডের মারফত ইডির কাছে রিয়া আপিল করেছিলেন যে তাঁর বয়ান যেন পরে নেওয়া হয়। অর্থাৎ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তকারী আধিকারিকরা যেন রিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করার এবং বয়ান রেকর্ড করার তারিখ পিছিয়ে দেন। তবে রিয়ার এই আপিল খারিজ করে দেয় ইডি। তারা সাফ জানিয়ে দেয় আগের পাঠানো সমন অনুযায়ী রিয়াকে আজই বেলা সাড়ে এগারোটার মধ্যে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর রিয়াকে নতুন সমন পাঠানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছিল ইডি। তবে সে সবের আগেই এ দিন ইডি দফতরে গিয়ে পৌঁছে যান সুশান্ত সিং রাজপুতের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী।