ছপক: অ্যাসিড আক্রান্তের যন্ত্রণা, জীবনের লড়াই, ট্রেলরেই কাঁপিয়ে দিলেন দীপিকা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন পর্দায় তাঁকে দেখা গিয়েছিল পেলব মেকআপে। চারদিকের ঝাঁ চকচকে আলো আর তাঁর রূপে এতদিন চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল দর্শক মহলের। তবে এবার তাঁর সঙ্গী মুখ ভরা দগদগে ক্ষত। সঙ্গে অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়া তামাটে চামড়া। পর্দায় এবার অ্যাসিড অ্য
শেষ আপডেট: 10 December 2019 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন পর্দায় তাঁকে দেখা গিয়েছিল পেলব মেকআপে। চারদিকের ঝাঁ চকচকে আলো আর তাঁর রূপে এতদিন চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল দর্শক মহলের। তবে এবার তাঁর সঙ্গী মুখ ভরা দগদগে ক্ষত। সঙ্গে
অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়া তামাটে চামড়া। পর্দায় এবার অ্যাসিড অ্যাটাক সারভাইভারের চরিত্রে দেখা যাবে দীপিকা পাড়ুকোনকে। মেঘনা গুলজারের ছবি 'ছপক'-এর ফার্স্ট লুকেই নজর কেড়েছিলেন অভিনেত্রী। ট্রেলর দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন দীপিকার ভক্তরা। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রিলিজ হয়েছে 'ছপক'-এর ট্রেলর। নয়া অবতারে দীপিকাকে মুগ্ধ আমজনতা।
ট্রেলরের প্রতিটি মাইক্রো সেকেন্ডে দীপিকা বুঝিয়েছেন এ ছবির জন্য তিনিই মেঘনার আদর্শ নির্বাচন। অ্যাসিডের জ্বালাপোড়ায় তীব্র আর্তনাদ হোক বা সামান্য ন্যায় পাওয়ার পর একগাল হাসি, সবেতেই একশ তে একশ দীপিকা। অ্যাসিড অ্যাটাক সারভাইভার লক্ষ্মী আগরওয়ালের চরিত্রে 'ছপক'-এ অভিনয় করেছেন তিনি। পর্দায় দীপিকার চরিত্রের নাম মালতী। পরিচালক মেঘনার আগেই বলেছিলেন, “মালতী আশার প্রতীক, উৎসাহের প্রতীক।“ ট্রেলর দেখে সেকথা বলছেন সকলেই।
https://www.youtube.com/watch?v=kXVf-KLyybk
ট্রেলরে একটি দৃশ্যে দেখা যাবে অ্যাসিড অ্যাটাক হওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মালতীকে। বালতি করে ঠান্ডা জল এনে তাঁকে স্নান করাচ্ছেন চিকিৎসকরা। যদি একটু হলেও স্বস্তি পায় মেয়েটা। যন্ত্রণায় চটফট করছেন মালতী। আর্তনাদ করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন এ জ্বালাপোড়া এত সহজে কমায় নয়। এই দৃশ্যে দীপিকার অভিনয় দেখে 'অসাধারণ' বিশেষণ ছাড়া আর কিছু বলার নেই। আর একটি দৃশ্যে দেখা গিয়েছে খানিক উদাস ভাবেই মালতী বলছেন, "কত ভালো হত যদি অ্যাসিড বিক্রিই না হত, তাহলে কেউ কারও উপর অ্যাসিড ছুঁড়ে মারতেও পারত না।" এই সংলাপেই দীপিকা বুঝিয়ে দিয়েছেন একজন অ্যাসিড অ্যাটাক সারভাইভারের জীবনের লড়াইটা ঠিক কতটা কঠিন। প্রতিনিয়ত কত সংগ্রাম করতে হয় একজন অ্যাসিড আক্রান্তকে। বুকের কোণে জমে থাকে কত আঘাত-কষ্ট-যন্ত্রণা।
অ্যাসিডে মুখ ঝলসে যাওয়ার পর থেকেই মালতীর জীবনের শুরু হয় সংগ্রাম। হাসপাতালের আয়নায় নিজের ঝলসে যাওয়া চেহারা দেখে আতঙ্কে ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন তিনি। সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে যায় একটা ওড়না। যাতে বড় ঘোমটার আড়ালে লুকিয়ে রাখা যায় বীভৎস মুখ। নইলে যে সমাজের প্রায় প্রতিটা মানুষ মুখ কুঁচকে নিচ্ছেন মালতীকে দেখে। ভয় কেঁদে ফেলছে বাচ্চারা। তবে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া থেকে মালতীকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেন তাঁর দুই মহিলা আইনজীবী। সাহস দিয়ে বলেন, "সেশন কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সফর অনেক লম্বা। লড়াই খুব কঠিন। তাই লড়ার জন্য তৈরি হও।"

ঘরের বাইরে পা রেখে দুনিয়ার সামনে নিজের ঝলসানো মুখ দেখানোর সাহস এই দুই আইনজীবীর থেকেই পায় মালতী। ব্যাগে বন্দি রাখা কানের ঝুমকো পরার সাহস জোগাড় করে আবার। খুশি হয়ে হাসতেও শেখে। আত্মবিশাসে ভর করে নিজেকে বোঝাতে পারে লড়তেই হবে। তবে মালতীর এই জার্নিটা ছিল মারাত্মক কঠিন। ন্যায় পেতে দাঁতে দাঁত চেপে দিনের পর দিন নানা অবহেলা, অপমান সইতে হয়েছে মালতীকে। তবে শেষ পর্যন্ত সাফল্য এসেছে। আর কীভাবে আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে জয়ের হাসি হেসেছেন মালতী তাই নিয়েই মেঘনা গুলজারের ছবি 'ছপক'। দীপিকা ছাড়াও মেঘনার ছবিতে রয়েছে বিটাউনের বিভিন্ন পরিচিত মুখ। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছে বিক্রান্ত মাসে। ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি রিলিজ হবে এই ছবি।