Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’

হামজা আসলে কে? ‘ধুরন্ধর ২’ আসার আগে ৮টি রহস্যে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

মুক্তির আগেই ঝড় তুলেছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ (Dhurandhar: The Revenge)। অগ্রিম টিকিট বিক্রি নাকি রেকর্ড ছুঁয়েছে, আর ১৮ মার্চ সন্ধ্যার পেইড প্রিভিউ নিয়েও দর্শকের উত্তেজনা তুঙ্গে

হামজা আসলে কে? ‘ধুরন্ধর ২’ আসার আগে ৮টি রহস্যে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

দেবারতি চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: 13 March 2026 16:31

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুক্তির আগেই ঝড় তুলেছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ (Dhurandhar: The Revenge)। অগ্রিম টিকিট বিক্রি নাকি রেকর্ড ছুঁয়েছে, আর ১৮ মার্চ সন্ধ্যার পেইড প্রিভিউ নিয়েও দর্শকের উত্তেজনা তুঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তত্ত্ব, বিশ্লেষণ আর অনুমানের বন্যা। অনেকে পরিচালক আদিত্য ধর (Aditya Dhar)–এর সূক্ষ্ম ডিটেলিংয়ের প্রশংসা করছেন। যদিও ভাইরাল হওয়া সব ব্যাখ্যা যে যুক্তিযুক্ত, তা নয়। তবু একটা ব্যাপার স্পষ্ট—৫ ডিসেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত ছবির বেশ কিছু প্রশ্ন দর্শকের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ১৯ মার্চ সিনেমা হলে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত সেই প্রশ্নগুলোই যেন উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই রহস্যগুলোর উত্তর খুঁজতেই এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দর্শক।


১. কীভাবে জস্কিরাত সিং রাঙ্গি হয়ে উঠল হামজা আলি মাজারি?
প্রথম ছবির শেষ মুহূর্তে জানা যায় সাহসী ভারতীয় গুপ্তচর হামজা আলি মাজারির আসল নাম জস্কিরাত সিং রাঙ্গি। এই চরিত্রটিই প্রশিক্ষণ পেয়েছিল ‘অপারেশন ধুরন্ধর’-এর অধীনে। দর্শক তখন প্রথমবার দেখেন এক তরুণ জস্কিরাতকে—দাড়িহীন, ক্রোধে উন্মত্ত, যেন প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকা এক যুবক। অথচ পরবর্তীকালে আমরা যাকে দেখি, সেই হামজা একেবারে অন্য মানুষ—নীরব, দৃঢ়, সিংহের মতো শক্তিশালী উপস্থিতি।

ছবির কিছু ঝলকে দেখা যায় পাঞ্জাবের একটি গ্রাম। সেখান থেকে এক শিখ পুরুষকে জোর করে টেনে নিয়ে যায় কয়েকজন লোক। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায়, নির্যাতিত অবস্থায় সেই মানুষটিকে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অন্য একটি দৃশ্যে মাঠে এক অসহায় নারী। প্রশ্ন জাগে—এই দু’জন কি জস্কিরাতের বাবা-মা? নাকি তার জীবনের অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ মানুষ?

এরপরই গল্পে প্রবেশ করেন আইবি ডিরেক্টর অজয় সান্যাল, যাঁর ভূমিকায় R. Madhavan। তিনি জস্কিরাতকে বলেন, “ঘায়েল হো ইসিলিয়ে ঘাতক হো।” তারপর দেখা যায় তরুণ জস্কিরাতের কঠোর প্রশিক্ষণের দৃশ্য। বোঝা যায়, তার লড়াই শুধু দায়িত্বের নয়, ব্যক্তিগতও। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত আগুনের উৎসটা ঠিক কোথায়, সেটাই এখনো রহস্য।


২. মেজর ইকবাল আর জস্কিরাত সিং রাঙ্গির মধ্যে কি পুরনো কোনও যোগ আছে?
ছবির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মেজর ইকবাল, যাঁর ভূমিকায় অর্জুন রামপাল (Arjun Rampal)। ক্লাসিক হিন্দি সিনেমার ভিলেনদের মতোই তাঁর প্রথম উপস্থিতি। ধীর গতিতে হাঁটছেন, ক্যামেরা পিছন থেকে এগোচ্ছে, তারপর হঠাৎ হাত এসে পড়ছে আন্ডারকভার নায়কের কাঁধে—আর সেখানেই প্রকাশ পায় ইকবালের মুখ।

প্রথম ছবির ইন্টারভ্যালের ঠিক আগে তিনি হামজাকে জানান, ভারতে একাধিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে, কারণ ভারতীয় গোয়েন্দারা প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তার চেয়েও বড় খবর দেন তিনি—“সবচেয়ে মজার ব্যাপার, আমরা খবরদাতাকে খুঁজে পেয়েছি।” দর্শক জানে সেই গুপ্তচর আসলে হামজা নিজেই। কিন্তু সে তখনো ধরা পড়েনি। এরপরেই আসে সেই বহুচর্চিত নির্যাতনের দৃশ্য, যা ট্রেলারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল।

দ্বিতীয় ছবির ট্রেলারে ইঙ্গিত মিলেছে, মেজর ইকবাল হয়তো হামজাকে চিনত সেই সময় থেকেই, যখন সে ছিল জস্কিরাত সিং রাঙ্গি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই মুখোমুখি হওয়া কি অতীতের ফ্ল্যাশব্যাক, না কি দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি?


৩. রহমান ডাকাত কি আবার ফিরবে?
প্রথম ছবির অন্যতম আকর্ষণ ছিল লিয়ারি অঞ্চলের গ্যাংস্টার-থেকে-রাজনীতিক রহমান ডাকাত। চরিত্রটিতে দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন অক্ষয় খান্না (Akshaye Khanna)। তাঁর নাচের দৃশ্য, ‘FA9LA’ গানে, দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
গল্পের বড় অংশই আবর্তিত হয়েছিল এই রহমান ডাকাতকে ঘিরে। জস্কিরাত কীভাবে তার আস্থা অর্জন করে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে নিজের মিশন এগিয়ে নিয়ে যায়, সেটাই ছিল ছবির কেন্দ্রীয় অংশ।

খবর রয়েছে, দর্শকের চাহিদায় নির্মাতারা অতিরিক্ত শুটিং করেছেন যাতে দ্বিতীয় ছবিতেও রহমান ডাকাতের উপস্থিতি থাকে। তাহলে কি ফ্ল্যাশব্যাকে আবার দেখা যাবে তাকে? তার পরিবারের কী হল? তার ভাই উজাইর বালুচ কি সত্যিটা জানতে পারবে?


৪. কে এই ‘বড়ে সাহাব’?
প্রথম ছবির সবচেয়ে বড় ধাঁধা ছিল ‘বড়ে সাহাব’। সঞ্জয় দত্ত (Sanjay Dutt)–এর চরিত্র এসপি চৌধুরী আসলাম তাঁর কথা বলেন এক অদৃশ্য শক্তি হিসেবে। পাকিস্তানের অপরাধ ও রাজনীতির জটিল জাল নাকি এই ব্যক্তিই নিয়ন্ত্রণ করেন।

আসলাম একসময় সাত বছর কাজহীন ছিলেন, আর তাঁর কথায়, সেই সময় তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল ‘বড়ে সাহাব’-এর দোয়া। অন্যদিকে মেজর ইকবালও বারবার উল্লেখ করেন এই রহস্যময় ব্যক্তির কথা। এমনকি মুম্বইয়ের ২৬/১১ হামলার পরিকল্পনাও নাকি তার অনুমতি ছাড়া এগোয় না। ছবির ক্লাইম্যাক্সে দেখা যায় জস্কিরাত তার গোপন ডায়েরিতে ‘বড়ে সাহাব’-এর নাম লিখে রেখেছে টার্গেট তালিকায়। শোনা যাচ্ছে, এই চরিত্রে হয়তো দেখা যেতে পারে Emraan Hashmi–কে। তবে ‘বড়ে সাহাব’ আদৌ কোনও একজন ব্যক্তি, না কি একটি পরিচয়—সেটাও এখনো অজানা।


৫. ‘উরি’ আর ‘ধুরন্ধর’-এর জস্কিরাত কি একই ব্যক্তি?
হামজার আসল পরিচয় প্রকাশের সময় একটি সংলাপ উচ্চারণ করে সে—“ইয়ে নয়া হিন্দুস্তান হ্যায়, ঘর মে ঘুসেগা ভি অউর মারে গা ভি।” এই সংলাপটি প্রথম শোনা গিয়েছিল উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক (Uri: The Surgical Strik)e ছবিতে। সেই ছবিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা গোবিন্দ ভরদ্বাজের ভূমিকায় ছিলেন পরেশ রাওয়াল Paresh Rawal। 

তিনি ২০১৬ সালের উরি হামলার প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পরিকল্পনার সময় এই সংলাপ বলেন। আরও মজার ব্যাপার, ‘উরি’ ছবিতে এক জায়গায় আইএএফ পাইলট সীরত কৌর, যার চরিত্রে ছিলেন কীর্তি কুলহারি Kirti Kulhari, বলেন তাঁর স্বামী ক্যাপ্টেন জস্কিরাত সিং রাঙ্গি নওশেরা সেক্টরের এক অ্যাম্বুশে শহীদ হয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে—দুটি ছবির জস্কিরাত কি একই ব্যক্তি?


৬. জস্কিরাত কি বেঁচে থাকবে?
দ্বিতীয় ছবির ট্রেলার দেখলে বোঝা যায়, এবার হামজার প্রতিশোধের আগুন আরও তীব্র হবে। লড়াই, হিংসা, হাতাহাতি—সবকিছুই যেন আগের চেয়ে বেশি। অজয় সান্যালের কণ্ঠে শোনা যায়, “হোঁসলা, ইন্ধন, বদলা।” 

এই তিন শক্তিই যেন তাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু এত সংঘর্ষের মধ্যে সে কি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে?


৭. ইয়ামি গৌতমের চরিত্র কী?
ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন ইয়ামি গৌতম Yami Gautam। কিন্তু তাঁর চরিত্র নিয়ে নির্মাতারা প্রায় সম্পূর্ণ নীরব।
প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি ‘উরি’ ছবির আন্ডারকভার র’ এজেন্ট পল্লবী শর্মার ভূমিকাতেই ফিরছেন? নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনও চরিত্র তৈরি হয়েছে তাঁর জন্য?


৮. ধুরন্ধর কি বড় স্পাই ইউনিভার্সের শুরু?
ইন্টারনেটে একটি গুজব ছড়িয়েছে—‘ধুরন্ধর’ সিরিজের তৃতীয় ছবি নাকি জুনেই আসতে পারে। ‘মেহেম’ নামের সেই ছবির মুক্তির তারিখ বলা হচ্ছে ৪ জুন ২০২৬। যদিও নির্মাতারা এখনো এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—Uri: The Surgical Strike আর ‘ধুরন্ধর’-এর মধ্যে সংযোগ রয়েছে। শুধু পরিচালকের কারণে নয়, গল্পের সূত্রেও। তাহলে কি ভবিষ্যতে এই গল্পগুলো মিলিয়ে বড় একটি স্পাই ফ্র্যাঞ্চাইজি তৈরি হবে? 

সব মিলিয়ে ১৮ মার্চের প্রিভিউ আর ১৯ মার্চের মুক্তির দিকে তাকিয়ে রয়েছে দর্শক। কারণ এতগুলো প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে একটাই ছবির ভেতরে। কিন্তু সত্যিই কি সব রহস্যের সমাধান মিলবে? নাকি ‘ধুরন্ধর’-এর এই খেলা আরও বড় কোনও অধ্যায়ের দরজা খুলে দেবে—সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


```