Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া?

Mimi Ankush : মিমি ও অঙ্কুশের কত টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি, বেটিং অ্যাপ কাণ্ডে বিপাকে আরও

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর আওতায় একটি ‘প্রভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট অর্ডার’ জারি করে ইডি এই পদক্ষেপ করেছে।

Mimi Ankush : মিমি ও অঙ্কুশের কত টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি, বেটিং অ্যাপ কাণ্ডে বিপাকে আরও

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 19 December 2025 19:03

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেআইনি বেটিং অ্যাপ (Betting App) সংক্রান্ত অর্থপাচার মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty) এবং টলিউড অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরার (Ankush Hazra) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই মামলায় নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিং, রবিন উথাপ্পা এবং অভিনেতা সোনু সুদেরও।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর আওতায় একটি ‘প্রভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট অর্ডার’ জারি করে ইডি এই পদক্ষেপ করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তিগুলি ‘অপরাধলব্ধ আয়’ বা proceeds of crime-এর অংশ।

ইডি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মিমি চক্রবর্তীর প্রায় ৫৯ লক্ষ টাকা এবং অঙ্কুশ হাজরার প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকার সম্পত্তি এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই মামলায় যুবরাজ সিংয়ের প্রায় ২.৫ কোটি টাকা, সোনু সুদের প্রায় ১ কোটি টাকা এবং রবিন উথাপ্পার প্রায় ৮.২৬ লক্ষ টাকার সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিনেত্রী নেহা শর্মার প্রায় ১.২৬ কোটি টাকা এবং মডেল উর্বশী রাউতেলার মায়ের প্রায় ২.০২ কোটি টাকার সম্পত্তিও ইডির তালিকায় রয়েছে।

এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিদেশে নথিভুক্ত একটি বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ১এক্সবেট (1xBet)। ইডির অনুমান, এই বেআইনি অনলাইন বেটিং চক্রের মাধ্যমে প্রায় হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়েছে। সেই অর্থ পাচারের অভিযোগেই চলছে তদন্ত।

তদন্ত চলাকালীন এর আগেই সংশ্লিষ্ট সব তারকাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই একই মামলায় আগে ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান ও সুরেশ রায়নার প্রায় ১১.১৪ কোটি টাকার সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির এই পদক্ষেপের পর মিমি চক্রবর্তী ও অঙ্কুশ হাজরাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে বলে জানিয়েছে ইডি।

কী এই ১এক্সবেট মামলা? (What is 1Xbet case related to Mimi and Ankush)

১এক্সবেট একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়া ও বেটিং সংস্থা। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার লাইসেন্স রয়েছে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের কুরাসাও-এ এবং রেজিস্ট্রেশন সাইপ্রাসে। এই ধরনের অফশোর কাঠামোর মাধ্যমে বহু দেশে নিয়ন্ত্রণ এড়িয়েই ব্যবসা চালিয়ে আসছে সংস্থাটি।

ভারতে ২০২৩ সালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারায় ১এক্সবেট-সহ একাধিক বিদেশি বেটিং অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারতে এই প্ল্যাটফর্মের উপস্থিতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেই অভিযোগ। বিভিন্ন মিরর সাইট, বিকল্প ডোমেন, টেলিগ্রাম চ্যানেল এবং অনলাইন লিঙ্কের মাধ্যমে এখনও ব্যবহারকারীরা এই অ্যাপে পৌঁছে যাচ্ছেন।

নিষেধাজ্ঞার পরেও কীভাবে সক্রিয়? (How 1Xbet operated)

ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার পরেও ১এক্সবেট নিজেদের দৃশ্যমানতা ধরে রাখতে নানা কৌশল নিয়েছে। ক্রীড়া ইভেন্টে স্পনসরশিপ, তারকাদের সঙ্গে নাম জড়ানো, এমনকি শহরের ক্যাব পরিষেবায় বিজ্ঞাপন—সব মিলিয়ে তারা আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়েছে বলেই তদন্তকারীদের ধারণা। অনেক ক্ষেত্রেই বৈধ ফ্যান্টাসি স্পোর্টস আর অবৈধ জুয়ার মাঝের সীমারেখা ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে।

ইডি কী জানতে চাইছে? (Mimi – Ankush betting app case – ED role)

যেহেতু ১এক্সবেটের কোনও আনুষ্ঠানিক অফিস বা কোম্পানি কাঠামো ভারতে নেই, তাই ইডির মূল লক্ষ্য হল এই অ্যাপের দেশীয় নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করা। কারা ভারতে বসে এই ব্র্যান্ডের প্রচার করেছিল, বিজ্ঞাপন বা এন্ডোর্সমেন্টের টাকা কীভাবে লেনদেন হয়েছে, সেই অর্থ বিদেশে কীভাবে পাঠানো হয়েছে—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডি জানতে চাইছে, সংশ্লিষ্ট তারকা বা প্রচারকারীরা আদৌ জানতেন কি না যে তাঁরা একটি নিষিদ্ধ বেটিং অ্যাপের প্রচার করছেন। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন সংস্থা, মধ্যস্থতাকারী এবং সম্ভাব্য শেল কোম্পানিগুলির ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কত বড় এই বেটিং বাজার?

তদন্তকারী সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের অনুমান, দেশে প্রায় ২২ কোটি মানুষ কোনও না কোনওভাবে অনলাইন বেটিং অ্যাপ ব্যবহার করেন। এর ফলে বেআইনি বেটিং অর্থনীতির অঙ্ক পৌঁছেছে বহু বিলিয়ন ডলারে। সরকারের কাছে এটি শুধু রাজস্ব ক্ষতির প্রশ্ন নয়, বরং প্রতারণা, নেশা ও অর্থপাচারের ঝুঁকিও বড় উদ্বেগ।

সরকার ইতিমধ্যেই রিয়েল মানি বেটিং সংক্রান্ত অনলাইন গেম নিষিদ্ধ করে নতুন আইন এনেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—শুধু নিষেধাজ্ঞা কি যথেষ্ট? নাকি এই অ্যাপগুলো আরও গোপনে, আরও গভীর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে? ১এক্সবেট মামলা সেই বড় প্রশ্নটাই সামনে এনে দিয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে, আর ইডির নজর এখন শুধু অ্যাপের মালিকদের নয়—পুরো সেই ব্যবস্থার দিকে, যা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারতে এই ধরনের বেটিং প্ল্যাটফর্মকে বাঁচিয়ে রেখেছে।


```