Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

শতবর্ষে পরিচালক হরিসাধন দাশগুপ্ত, তাঁর প্রথম ছবি অত্যন্ত আধুনিক, আমবাঙালি গ্রহণ করেননি

কিংবদন্তী মানুষটি অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছেন স্বল্প চর্চার কারণে, হারিয়ে গিয়েছে তাঁর বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র।

শতবর্ষে পরিচালক হরিসাধন দাশগুপ্ত, তাঁর প্রথম ছবি অত্যন্ত আধুনিক, আমবাঙালি গ্রহণ করেননি

হরিসাধন দাশগুপ্তর পুত্র রাজা দাশগুপ্ত ও পুত্রবধূ চৈতালি দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 3 September 2024 12:32

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় 

১৯ অগস্ট ছিল ভারতীয় তথ্যচিত্রের জনকের মৃত্যুদিন। এই প্রজন্মের কাছে, এই সময়ের চলচ্চিত্র-তথ্যচিত্র ভাবনার ক্ষেত্রে ‘ইন্সপিরেশন’ হতে পারতেন যিনি, সেই কিংবদন্তী মানুষটি অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছেন স্বল্প চর্চার কারণে, হারিয়ে গিয়েছে তাঁর বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র। এই ২০২৪-এ আমরা তাঁর শতবর্ষে দাঁড়িয়ে রয়েছি। তিনি প্রবাদপ্রতিম পরিচালক হরিসাধন দাশগুপ্ত। তিনি সেই সময়ে দাঁড়িয়ে হলিউড ঘরানায় বাংলা ছবি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। হরিসাধন দাশগুপ্ত-ই প্রথম পরিচালক যিনি ভেবেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ঘরে-বাইরে' হলিউড স্টাইলে করবেন। চিত্রনাট্যে সত্যজিৎ রায়, বংশী চন্দ্রগুপ্তের শিল্প নির্দেশনা ও  প্রোডাকশন ডিজ়াইন, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের আবহসঙ্গীত এবং অজয় করের ক্যামেরায় তৈরি হওয়ার কথা ছিল ছবিটির। বিমলা হতেন সোনালি দাশগুপ্ত। তখন তিনি সোনালি সেন রায়। কিন্তু পাকচক্রে সে ছবি আর হয়নি। 'পথের পাঁচালি' র আগে হরিসাধনের 'ঘরে-বাইরে' মুক্তি পেলে বাংলা ছবির ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো। 

শতবর্ষে হরিসাধন দাশগুপ্ত স্মরণে তাঁর পরিবার আয়োজন করেছিল দুটি উৎসব। প্রথমটি হয়েছিল পরিচালকের জন্মদিনে ১লা বৈশাখ নন্দন ৩ প্রেক্ষাগৃহে। প্রদর্শিত হয়েছিল হরিসাধন দাশগুপ্তর সর্বাধিক আলোচিত তথ্যচিত্র 'কোনারক'। এবার ১৯ অগস্ট পরিচালকের প্রয়াণ দিনে রোটারি সদনে প্রদর্শিত হল হরিসাধনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র 'একই অঙ্গে এত রূপ'। সেই হারানো ছবির আলোচনায় এই প্রতিবেদন লিখতে বসা। অনুষ্ঠানের সূচনা করলেন স্বনামধন্য সঞ্চালিকা হরিসাধন দাশগুপ্তের পুত্রবধূ চৈতালি দাশগুপ্ত। হরিসাধনের এই চলচ্চিত্র বদলে দিতে পারত বাংলা ছবির সংজ্ঞা। কিন্তু হায়! সাধারণ বাঙালি দর্শক তখন এই ছবি হলে গিয়ে দেখেননি। ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ না করায় ছবিটি প্রায় অনালোচিত রয়ে গেছে। বহু বাঙালির কাছেই আজও এ ছবি অজানা। অথচ হরিসাধনের দ্বিতীয় ছবিটি কালজয়ী হিট। উত্তম-সুচিত্রার 'কমললতা'। 

ত্রিকোণ প্রেম নিয়ে 'একই অঙ্গে এত রূপ' ছবির গল্প। শুধু ত্রিকোণ প্রেম নয়, ছবির পরতে পরতে রয়েছে রোমাঞ্চ। ঠিক যেন হলিউড ঘরানায় নির্মিত উপাখ্যান। হাসি আর রমেনের সুখী দাম্পত্যের মাঝে এসে পড়ে হাসির প্রাক্তন প্রেমিক সৌমেনের প্রতিহিংসার কালো ছায়া। অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত-র 'জন্মান্ধ' কাহিনি অবলম্বনে হরিসাধন দাশগুপ্ত নির্মাণ করেন 'একই অঙ্গে এত রূপ'। পঞ্চাশ ষাট দশকের সমাজে নববধূর প্রাক্তন প্রেমিক মেয়েটির শ্বশুরবাড়িতে এসে দাদা পাতিয়ে থেকে যাচ্ছে যা চূড়ান্ত সাহসী প্লট। পরকীয়া আর যৌনতার এত সোচ্চার প্রয়োগ হরিসাধন ই বোধহয় প্রথম দেখালেন বাংলা ছবিতে। হরিসাধনের 'একই অঙ্গে এত রূপ' মুক্তি পায় ১৯৬৫ সালে। আর সত্যজিতের 'চারুলতা' মুক্তি পায় ঠিক তার আগের বছর ১৯৬৪।

রবীন্দ্রনাথের কলমে পরকীয়ার গল্পে যৌনতার হাতছানির থেকেও বেশি ছিল ক্লাসিক প্রেম। সেখানেই বিপ্লব ঘটালেন হরিসাধন। তাঁর ছবিতে যৌনতার আবাহন যেন স্বাভাবিক একেবারে হলিউড স্টাইলে। নেই সেখানে বাঙালির রক্ষণশীলতা। ছবির মূল তিনটি চরিত্র হাসি মাধবী মুখোপাধ্যায়, তাঁর স্বামী রমেন বসন্ত চৌধুরী আর হাসির প্রাক্তন প্রেমিক সৌমেনের চরিত্রে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিন অভিনেতাকে হরিসাধন যেভাবে এই ছবিতে এনেছিলেন তা অভাবনীয় । তিনজনের এই লুক আগে বা পরে আর কখনও ফিরে আসেনি বাংলা ছবিতে। চারুলতার মাধবী যতটা সনাতনী সুন্দরী, আর আধুনিকার মিশেলে আটপৌরে হরিসাধনের হাসি। পোশাক পরিকল্পনাও অভিনব। ছবির বেশিরভাগ জুড়ে হরিসাধন মাধবীকে পরালেন সাদা লাল পাড় সিল্কের শাড়ির সঙ্গে স্লিভলেস ব্লাউজ। এখানেও সেই হলিউড মনন। মাধবী তাঁর অভিনয় জীবনে বেশিরভাগ ছবিতেই লাল পাড় সাদা শাড়ি পরেছেন 'বিরাজ বউ', 'অগ্নীশ্বর','রামের সুমতি' বা 'সাহেব'-এর সেই মাতৃসমা বৌদি। অথচ 'একই অঙ্গে এত রূপ' এর মাধবী যেন অনেক সাহসী। নগ্নহাতায় খোলা চুলে সাবেকি সাজ। আবার একটি দৃশ্যে প্রাক্তন প্রেমিক যখন হাসির শোওয়ার ঘরে প্রথম প্রবেশ করে মেয়েটি প্রেমিকের অলক্ষে  তার ফেলে রাখা অন্তর্বাসটি খাটের ওপর থেকে সরিয়ে ফেলে। এই ছোট ছোট ট্রিটমেন্ট দিয়ে যৌনতার পারদ তুঙ্গে নিয়ে গেছেন হরিসাধন। অথচ বেআব্রু অশোভন  কিছু নেই।

এই ছবিতে মাধবীর অভিনয় এতটাই উঁচু দরের যার জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার পেতে পারতেন। পাননি। মাধবী উর্বশী পুরস্কার পেয়েছিলেন 'দিবারাত্রির কাব্য' থেকে। সেখানেও পরকীয়ার গল্প। সেখানে বসন্ত চৌধুরী মাধবীর প্রাক্তন প্রেমিক হয়ে আসছেন মেয়েটির সংসারে। কিন্তু ছবি হিসেবে 'একই অঙ্গে এত রূপ' অনেক সময়ের থেকে এগিয়ে ছিল। মাধবী বললেই শুধু চারুলতা ভাবেন ,তাঁরা অবশ্যই হরিসাধনের এই ছবি দেখুন। 

বসন্ত চৌধুরী যেন বাংলা ছবির আইকনিক মহাপুরুষ। মহাপুরুষদের জীবনে যেমন রোম্যান্স থাকতে নেই তেমন বসন্ত শুধুমাত্র যদুভট্ট, রাজা রামমোহন আর ভবানী পাঠক হয়ে রয়ে গেলেন ইতিহাসে। সুচিত্রা সেনের পাশেও বসন্ত তাঁর গাম্ভীর্যে বিদ্যমান। অথচ 'একই অঙ্গের এত রূপ' এর শুরুতেই রেলগাড়ির কামরায় স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত বসন্ত চৌধুরি  সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর সঙ্গে রোম্যান্স করছেন । পরের দৃশ্য একেবারে বেডরুম। সেখানে হরিসাধন হলিউড স্টাইলে বসন্তকে বিছানায়, পাশে বসা সদ্য স্নান সেরে আসা মাধবী। দুজনের প্রেমের আবহে বেজে ওঠে ওস্তাদ আকবর আলি খানের মিউজিক। এ দৃশ্যে যেন বসন্ত ভেঙে ফেললেন তাঁর তথাকথিত মনীষী ইমেজ।

আর সৌমিত্র! ১৯৬৬ সালে তিনি তখন বাংলা ছবির সুপারস্টার হিরো। বাঙালির গোলটেবিল তর্ক তখন উত্তম-সৌমিত্র ঘিরে। অথচ এই ছবিতে সৌমিত্র বেছে নিলেন প্রাক্তন প্রেমিকের ধূসর চরিত্র। সে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকার সাজানো সংসার, স্বামীর সোহাগ, শ্বশুর-শাশুড়ির স্নেহ সব ধ্বংস করে দিতে আসছে। সৌমিত্রর পর্দায় আগমনে যে নৃশংস মুখ দেখা গেল সে মুখ আর কখনও আমরা সৌমিত্রর দেখিনি। যে কথা বারবার বললেন ছবি দেখতে আসা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। শাশ্বত র মতে "সৌমিত্রকাকুর বিরলতম অভিনয় এ ছবি। যে মুখ আমি আগে কখনও দেখিনি!" অথচ দুঃখের বিষয় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণের সময় 'একই অঙ্গে এত রূপ' নিয়ে আলোচনা কেউ করেননি। যে ছবিতে রেখে গেছেন সৌমিত্র তাঁর শ্রেষ্ঠ অভিনয়। প্রেমিকা মাধবীর বেডরুমে প্রেমিকার  হাতে বিষ পেয়ালা তুলে দিয়ে সৌমিত্র বলছেন এসো আমরা দুজনে একসাথে শেষ হয়ে যাই, এমন রোমহর্ষক দৃশ্য বাংলা ছবিতে আগে দেখিনি। মনে পড়ছিল সৌমিত্র র 'আত্মীয়-স্বজন' ছবিটির কথা। সেখানে পরকীয়া নয় সন্তানদের অবহেলা থেকে বাঁচতে বৃদ্ধ বাবা-মা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আর সুপ্রিয়া দেবী বিষ খেয়েছিলেন। স্বামীর ফোন আসায় হাসির আর বিষ খাওয়া হয় না, কিন্তু প্রেমিকটি কী বন্ধ দরজার ভিতর আত্মহত্যা করে? মাধবীর ঐ লাল পাড় সাদা শাড়িতে ছুটে যাওয়া মনে করায় দেবদাসের পাবর্তীর শেষ দৃশ্যের ছুটে যাওয়াকে। আহা, হরিসাধন দাশগুপ্ত যদি হলিউড স্টাইলে শরৎচন্দ্রের 'দেবদাস' করতেন! অবশ্যি তাঁর পরের ছবিই শরৎচন্দ্রের 'কমললতা'! সাধিকা সুচিত্রার ঐ রূপ কী আর আমরা পরে পেয়েছি! বৈষ্ণবীর উপবাস জীবনে হরিসাধন নিয়ে এসেছিলেন গহীন যৌন আকর্ষণ। 'সেই একজনারেই মন সঁপেছি বল স্বজন কি আর হয় দু'জন?' 

হরিসাধন দাশগুপ্ত 'একই অঙ্গে এত রূপ' ছবিটি মনস্তত্ব বাঙালি আদলে গড়েননি। বাড়ির নতুন বউয়ের প্রাক্তন প্রেমিক দাদা সেজে শ্বশুরবাড়ির ভিতর থাকছে, মেয়েটির শোবার ঘরে সে দরজা বন্ধ করার অধিকার পাচ্ছে অথচ শ্বশুর (হরেন চট্টোপাধ্যায়) ও শাশুড়ির( ছায়া দেবী) কোন হেলদোল নেই। তাঁরা এতটাই মুক্তমনা। আবার বউমা সকালের চা শ্বশুরকে দিতে গেলে শ্বশুর বলেন "তুমি খবরের কাগজ পড়বেনা?" এও তো এক মুক্তচিন্তা। হাসির ননদের চরিত্রে দোলনচাঁপা দাশগুপ্ত ও বান্ধবীর চরিত্রে সুমিতা সান্যাল,দুই সুন্দরীর স্বল্প উপস্থিতি যেন দখিন হাওয়া। ছন্দা চট্টোপাধ্যায় এখন কত সিরিয়ালের দাপুটে ঝগরুটে শাশুড়ি অথচ এই ছবিতে তখন তিনি সদ্য ফোঁটা কলি। পরিচারিকার চরিত্রেও কী মিষ্টি লালিত্য আর তেমনই অভিনয়।

একই অঙ্গে এত রূপ' ছবির চিত্রগ্রাহক ছিলেন দীনেন গুপ্ত, সম্পাদনা তরুণ দত্ত, শিল্প নির্দেশনা বিজয় বসু, সঙ্গীত পরিচালনা আলি আকবর খাঁ। খাঁ সাহেবকে সরোদ বাজাতে একটি দৃশ্যে অনেকক্ষণ দেখিওয়েছেন হরিসাধন দাশগুপ্ত। ছবিতে দুই নারী শিল্পীর গানের দৃশ্যায়ন অনবদ্য। প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গানটি যেন নায়িকার পূর্বরাগের দ্যোতনা। আর সুমিত্রা সেনের 'আজই ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার' মাধবীর লিপে বাংলা ছবিতে এক অমর প্রয়োগ। গঙ্গাবক্ষে নৌকার উপর সৌমিত্র শুয়ে আর মাধবীর লিপে এই রবি গান। এই দৃশ্যে দীনেন গুপ্তর সিনেমাটোগ্রাফি ঐতিহাসিক। ভাবতে খারাপ লাগে তখন যে মাপের কাজ হয়েছে বাংলা ছবিতে এখন তাঁর ছিঁটেফোটাও নেই। ছবি দেখা শেষে বসল একটি আলোচনা সভা রোটারি সদনে। আলোচনায় শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌতম ঘোষ, অশোক বিশ্বনাথন ও ইন্দ্রণীল রায়চৌধুরী এবং অবশ্যই সূত্রধর হরিসাধন পুত্র রাজা দাশগুপ্ত। 

গৌতম ঘোষ বললেন "হরিদার ভীষণ দুঃখ ছিল তাঁর প্রোডাকশনের এই ছবি একদম চলেনি। যা তিনি আশা করেননি। হলিউড ঘরানা বাঙালি দর্শক বোঝেনি।" শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন "ছবিতে স্পেসের ব্যবহার। নায়িকার শোবার ঘরের একটি পর্দা ও যে ম্যাজিক তৈরী করতে পারে তা ছবিতে বারবার দেখা যায় ভীষণ ভাবে।" অশোক বিশ্বনাথন উল্লেখ করলেন হরিসাধন দাশগুপ্ত ও  ‘ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটি’র কথা। এ যুগের পরিচালক ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর মতে এই ছবিতে মূল চরিত্র সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবেশ অনেক পরে। যা চারুলতা তে অমলের প্রবেশ অনেক আগেই। হরিসাধন বক্সঅফিস না ভেবেই হলিউড টানে অনেক ধীর গতিতে ছবিটির প্লট সাজিয়েছিলেন। যা আজকাল কেউ ভাবতেই পারেনা। সেটি কী ছবিটি না চলার কারণ? অথচ এত বছর পর আবার যখন আমরা ছবিটি দেখি পরিচালকের শতবর্ষে মনে হয় যেন এই সময়ের ঘটনা। পাঁচ মিনিটেই বলে দেওয়া যায় ছবির গল্প অথচ পর্দায় রোমাঞ্চকর কাব্য আঁকলেন হরিসাধন দাশগুপ্ত। 

হরিসাধন দাশগুপ্তর শতবর্ষ নিয়ে সত্যজিৎ রায় বা মৃণাল সেনের মতো হৈচৈ শহরে নেই। তা যে হবে তাঁর পরিবার আশাও আর করেননা। যেখানে তথ্যচিত্র ছবিগুলির প্রিন্ট রক্ষা হয়না। দাশগুপ্ত পরিবার বাঁচিয়ে রেখেছেন তাঁদের বাবার কাজ স্মৃতি যতটা পারা যায়। তবু 'একই অঙ্গে এত রূপ' ছবির ভাল প্রিন্ট নেই। 

হরিসাধন দাশগুপ্ত র তিন প্রজন্মই পরিচালক। পুত্র রাজা দাশগুপ্ত 'কালপুরুষ' থেকে 'একুশে পা' স্মরণীয় সিরিয়াল মেকার। 'চৌকাঠ' ছবিটিও তাঁর ফিচার ফিল্ম। হরিসাধনের দুই নাতি বিরসা ও ঋভু দুজনেই এ সময়ের নামকরা পরিচালক। বিরসা বাংলা ছবিতে যেমন ছাপ রেখেছেন। ঋভু ততটাই মুম্বই নগরীতে উল্লেখযোগ্য। মাইকেল, Te3n র মতো ছবির নির্মাতা। তবে হরিসাধন স্মৃতিসন্ধ্যার মূল সুরটি আন্তরিকতা আর আলাপের সুবাসে ধরে রাখলেন পুত্রবধূ চৈতালি দাশগুপ্ত।


```