ভালোবাসার কোনও ক্যালেন্ডার নেই। তবু ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, প্রেম দিবসের দিনই হঠাৎ করেই আইনি বন্ধনে বাঁধা পড়েছিলেন কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টোরাজ।

শ্রীময়ী-কাঞ্চন
শেষ আপডেট: 13 November 2025 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভালোবাসার কোনও ক্যালেন্ডার নেই। তবু ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, প্রেম দিবসের দিনই হঠাৎ করেই আইনি বন্ধনে বাঁধা পড়েছিলেন কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টোরাজ। তখনও কেউই জানত না, এই হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্তই একদিন হবে সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। আর তার ঠিক এক মাস পর, ২৫ মার্চ— ফুল, আলতা, শঙ্খধ্বনি আর হাসির কলতানে, সমস্ত রীতি মেনে সামাজিক বিয়ের মণ্ডপে বসেছিলেন এই তারকা জুটি।
তারপর সময় বয়ে গিয়েছে। আট মাস কাটতে না কাটতেই তাঁদের জীবনে আসে নতুন সূর্যোদয়— ছোট্ট কৃষভি। কাঞ্চন-শ্রীময়ীর কোল আলো করে জন্ম নেয় তাঁদের কন্যাসন্তান। সংসারে মিষ্টি গন্ধ, ভালোবাসার রঙিন আভা— সব যেন ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু জীবন যেমন মিষ্টি, তেমনই মাঝে মাঝে একটু লবণ মিশিয়েও দেয় নিয়তি।
বৃহস্পতিবার আচমকাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কাঞ্চনের দুটি ছবি ভাগ করে নিলেন শ্রীময়ী। প্রথম ছবিতে অভিনেতার পাশে অলিভিয়া সরকার— গোলাপি কুর্তি, ফ্লোরাল চাদর, খোলা চুলে হাসিমুখের এক চেনা নায়িকা। পাশে কাঞ্চন— সাদা আর নীলের মেলানো ফুল হাতা সোয়েটারে, এক হাতে অলিভিয়ার গলা জড়িয়ে, অন্য হাতে আঙুল তাক করা যেন সিনেমার দৃশ্যের মতো। আর দ্বিতীয় ছবিতে কাঞ্চনের পাশে এবার শোলাঙ্কি রায়। ক্রিম রঙের হুডি পরা, চুল বাঁধা, তবু মুখে সেই চেনা মিষ্টি হাসি। দু’জনের মুখেই যেন হালকা আলোর ঝিলিক।
এই দুটি ছবি একসঙ্গে পোস্ট করে শ্রীময়ীর ক্যাপশনে লেখা— “কাঞ্চন আবার???? আর না প্লিজ।” এক মুহূর্তে হুল্লোড় পড়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই ভাবলেন, নতুন কোনও ঝামেলা কি? চতুর্থবার বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন নাকি কাঞ্চন? কিন্তু না— এই নাটকীয় ক্যাপশনের আড়ালে ছিল নিখাদ মজা, মিষ্টি ঠাট্টা, আর রসিকতার খুনসুটি।
কারণ শ্রীময়ী জানেন, এই কাঞ্চন তাঁরই মানুষ—স্ত্রী হিসেবে তিনিই আজ কাঞ্চনের জীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায়। তাঁদের বয়সের পার্থক্য নিয়ে যতই কেউ বলুক, তাঁদের চোখের মায়ায়, কথার ছলেই বোঝা যায়— ভালোবাসা বয়স মানে না। তবু সমাজের চোখ বড় কড়া। তৃতীয় বিয়ে, নবজাতকের আগমন— সব কিছুকেই এক একসময় নিশানা বানিয়েছিল কটূক্তি। প্রশ্ন উঠেছিল, কটাক্ষ ছোড়া হয়েছিল, অভিযোগের ঢেউ উঠেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
তবু এই দম্পতি কোনওদিন সেসব কথার তোয়াক্কা করেননি। বরং শ্রীময়ীর রসবোধই যেন তাঁদের অস্ত্র হয়ে উঠেছে। কোথাও রাগ নেই, শুধু আছে জীবনের প্রতি এক নরম হাসি। তিনি জানেন, প্রতিটি ট্রোলের মাঝেও লুকিয়ে থাকে অজ্ঞতা, আর প্রতিটি ভালোবাসার মধ্যেই থাকে একটুখানি নাটক। তাই বারবার তিনি রসিকতার ছলে ফিরিয়ে দেন উত্তর— কখনও পোস্টে, কখনও ক্যাপশনে, কখনও হাসির ইমোজিতে।