ভিডিওতে দেখা যায়, হালকা মেজাজে দৌড়তে দৌড়তেই কথোপকথন চলছে দুই নেতার মধ্যে। সেই সময় কার্নি প্রশ্ন করেন স্টাবকে, ভারতে তাঁর ইনস্টাগ্রাম জনপ্রিয়তা হঠাৎ এত বেড়ে গেল কীভাবে। স্টাবের জবাব, তিনি যখন জানান যে, তিনি ‘ধুরন্ধর’ দেখেছেন, তার পরেই ব্যাপক সাড়া পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁর কথায়, প্রতিক্রিয়া ছিল “বিশাল”।

জগিংয়ের ফাঁকে ‘ধুরন্ধর’ প্রসঙ্গে মজে দুই রাষ্ট্রনেতা
শেষ আপডেট: 18 March 2026 13:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লন্ডনের এক সকাল, হাইড পার্কে সকালের জগিং সারছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। কোনও এক বিষয় নিয়ে নিজের মধ্যে গভীর এক আলোচনায় মগ্ন তাঁরা। জানেন সেই আলোচনার বিষয় কী? জানা গেল, বলিউড ছবি ‘ধুরন্ধর’ (Bollywood movie Dhurandhar)-কে ঘিরেই রীতিমতো আড্ডা চলছিল তাঁদের মধ্যে (Dhurandhar viral video world leaders discussion)। এমনই এক ভিডিও সামনে আসায় তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চা এখন তুঙ্গে।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব নিজেই সেই ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। কথা বলতে-বলতে জগিং করছেন তাঁরা। সঙ্গে ছিলেন দু’জনের সঙ্গীরাও। ভিডিওটি তোলা হয়েছিল কার্নির লন্ডন সফরের সময়।
জগিংয়ের ফাঁকে ‘ধুরন্ধর’ প্রসঙ্গ
ভিডিওতে দেখা যায়, হালকা মেজাজে দৌড়তে দৌড়তেই কথোপকথন চলছে দুই নেতার মধ্যে। সেই সময় কার্নি প্রশ্ন করেন স্টাবকে, ভারতে তাঁর ইনস্টাগ্রাম জনপ্রিয়তা হঠাৎ এত বেড়ে গেল কীভাবে। স্টাবের জবাব, তিনি যখন জানান যে, তিনি ‘ধুরন্ধর’ দেখেছেন, তার পরেই ব্যাপক সাড়া পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁর কথায়, প্রতিক্রিয়া ছিল “বিশাল”।
No ice-hockey rinks available, so a nice morning run in Hyde Park with Prime minister @MarkJCarney, Diana and Suzanne. pic.twitter.com/frvOts0V6v
— Alexander Stubb (@alexstubb) March 17, 2026
ছবিটি দেখার পর তাঁর উপলব্ধি, এটি মোটেই হালকাচালের বিনোদনমূলক ছবি নয়, বরং অত্যন্ত গুরুতর বিষয় নিয়ে তৈরি। ইঙ্গিত ছিল ছবিতে দেখানো সন্ত্রাসবাদ ও গোয়েন্দা কার্যকলাপের মতো সংবেদনশীল প্রসঙ্গের দিকে।
ভাইরাল সেই মুহূর্ত
এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিশেষ করে ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে তা নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়, কারণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি হিন্দি ব্লকবাস্টার। একদিকে বিশ্ব রাজনীতি, অন্যদিকে বলিউড - এই অপ্রত্যাশিত মেলবন্ধনই ভিডিওটিকে ভাইরাল করে তোলে।
‘ধুরন্ধর’: যে ছবিকে ঘিরে এত আলোচনা
‘ধুরন্ধর’, পরিচালনায় আদিত্য ধর এবং অভিনয়ে রণবীর সিং, ২০২৫ সালের শেষ দিকে মুক্তির পরই অন্যতম আলোচিত হিন্দি ছবিতে পরিণত হয়। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক আন্ডারকভার ভারতীয় গোয়েন্দা আধিকারিক, যিনি জড়িয়ে পড়েন সীমান্ত পারাপার সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে উচ্চঝুঁকির টানটান এক অভিযানে।
গোয়েন্দাগিরি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির মতো বিষয়কে সামনে এনে ছবিটি শুধু ভারতে নয়, বিদেশেও যথেষ্ট সাড়া ফেলে। বক্স অফিসেও ছবির পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য।
সিক্যুয়েল আসছে, বাড়ছে প্রত্যাশা
এই ফ্র্যাঞ্চাইজির পরবর্তী ছবি 'ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ' ইতিমধ্যেই ঘোষিত। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ছবির ট্রেলার, যা দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি করেছে। আগামী ১৯ মার্চ মুক্তির কথা রয়েছে এই ছবির। প্রথম ছবির তুলনায় আরও বড় পরিসর, জটিল মিশন এবং বিস্তৃত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গল্প এগোবে বলে জানা যাচ্ছে।
ভারতে আগেই এই ছবির প্রশংসা করেছিলেন স্টাব
২০২৬ সালের মার্চ মাসে ভারতে সরকারি সফরে এসে স্টাব ইতিমধ্যেই ছবিটি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন। তিনি জানান, তাঁর ছেলে তাঁকে ছবিটি দেখার পরামর্শ দিয়েছিল এবং ভারতে আসার আগে তিনি যেন সেটি দেখেন।
এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই অবাক হন, আবার অনেকে স্বাগত জানান এক বিদেশি রাষ্ট্রনেতার মুখে বলিউড ছবির প্রশংসা শুনে।
এর পর থেকেই স্টাবের ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, যার প্রসঙ্গই পরে উঠে আসে হাইড পার্কের সেই দৌড়ের কথোপকথনে।
কূটনীতি ও সংস্কৃতির অদ্ভুত মেলবন্ধন
কার্নির লন্ডন সফর মূলত ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য হলেও, হাইড পার্কে এই জগিংয়ের মুহূর্তটি কূটনীতির এক অন্য দিক তুলে ধরে। ভারতীয় সিনেমা যে এখন আর শুধু দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠছে, এই ঘটনাই যেন তার প্রমাণ।
সিনেমা এবং তার সাংস্কৃতিক প্রভাব, সব মিলিয়ে বলিউড এখন বিশ্বমঞ্চে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। আর সেই প্রভাবই কখনও কখনও উঠে আসছে বিশ্বনেতাদের স্বাভাবিক, দৈনন্দিন আলাপচারিতাতেও।