'ধুরন্ধর' ছবির শেষে দেখা যায়, অপরাধ জগতের দাপুটে নেতা রহমান ডাকাতের মৃত্যু। হামজা (রণবীর সিংয়ের চরিত্র) ও চৌধুরী আসলাম খানের (সঞ্জয় দত্তের চরিত্র) যৌথ পরিকল্পনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উজাইয়ের বালোচ
শেষ আপডেট: 21 December 2025 20:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছু সিনেমা শুধু গল্প বলে না, বাস্তবের এক অন্ধকার অধ্যায়ের দরজা খুলে দেয়। রণবীর সিং অভিনীত 'ধুরন্ধর' ঠিক তেমনই এক ছবি। ছবির শেষ দৃশ্যে যে নীরব শোক আর অজানা প্রতিশোধের ইঙ্গিত রাখা হয়েছে, তার শিকড় লুকিয়ে রয়েছে পাকিস্তানের করাচির লয়ারির ভয়ংকর গ্যাং ইতিহাসে। পর্দার উজাইয়ের চরিত্রটির পেছনে রয়েছে এমন এক বাস্তব কাহিনি, যা সিনেমার চেয়েও বেশি নির্মম।
'ধুরন্ধর' ছবির শেষে দেখা যায়, অপরাধ জগতের দাপুটে নেতা রহমান ডাকাতের মৃত্যু। হামজা (রণবীর সিংয়ের চরিত্র) ও চৌধুরী আসলাম খানের (সঞ্জয় দত্তের চরিত্র) যৌথ পরিকল্পনায় তাঁর মৃত্যু হয়। মনে হয়েছিল গল্পটা হয়তো এখানেই শেষ। কিন্তু আসলে এখান থেকেই শুরু হয় আরেক অধ্যায়।
ছবির শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে ছুটে আসে রহমানের ছোট ভাই উজায়ের। ভাইয়ের মৃতদেহ চোখের সামনে দেখে ভেঙে পড়েছিলেন, অজান্তেই জড়িয়ে ধরেছিলেন সেই ব্যক্তিকে, যে তাঁর ভাইকে হত্যা করেছে। এই দৃশ্যই ভবিষ্যতের ভয়ংকর ইঙ্গিত দেয়, যে উজায়েরের গল্প এখানেই শেষ নয়।
বাস্তব জীবনেও উজায়ের বালোচের উত্থান ঠিক এইভাবেই শুরু হয়েছিল। রহমান ডাকাতের মৃত্যুর পর করাচির লয়ারি এলাকায় তাঁর অপরাধ সাম্রাজ্যের দায়িত্ব নেয় উজায়ের। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হয়ে ওঠেন এলাকার সবচেয়ে ভয়ংকর নাম।
উজায়েরের অপরাধজীবনের আড়ালে ছিল ব্যক্তিগত ক্ষত। ২০০৩ সালে তাঁর বাবা ফয়েজ মহম্মদকে অপহরণ করে খুন করা হয়। এই ঘটনার জন্য দায়ী ছিল কুখ্যাত গ্যাংস্টার আরশাদ পাপ্পু। প্রতিশোধের আগুনই উজায়েরকে টেনে আনে অপরাধের জগতে।
২০১৩ সালে সেই প্রতিশোধ চরম রূপ নেয়। আরশাদ পাপ্পুকে হত্যা করা হয় এবং তাঁর দেহ ভয়াবহভাবে বিকৃত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লয়ারির রাস্তায় দেহাংশ প্রদর্শন করা হয়, এমনকি কাটা মাথা নিয়ে ফুটবল খেলার মতো নির্মম ঘটনাও ঘটে। এই নৃশংসতা গোটা এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়াও ছিল উজায়েরের শক্তি। পিপিপি-ঘনিষ্ঠ পিপলস আমন কমিটির মাধ্যমে লয়ারিতে তাঁর দাপট বজায় ছিল দীর্ঘদিন। যদিও ২০১২ সালে এই সংগঠন নিষিদ্ধ হয়, তবু উজায়েরের প্রভাব কমেনি।
২০১৫ সালে দুবাই থেকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে ফেরানো হয় উজায়ের বালোচকে। বহু মামলায় অভিযুক্ত এই গ্যাংস্টার বর্তমানে কারাগারেই রয়েছে।
'ধুরন্ধর ২' মুক্তি পেলে, এই উজায়ের চরিত্রের উত্থান আরও গভীরভাবে দেখানো হবে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। সিনেমার পর্দায় যেমন, বাস্তব জীবনেও রহমানের মৃত্যু গল্পের শেষ ছিল না, বরং তা ছিল এক নতুন, আরও ভয়ংকর অধ্যায়ের শুরু।