ডিসেম্বরের শীতে হাওয়া গরম করে দেওয়া রণবীর সিং, অক্ষয় খান্না অভিনীত ও আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ এখন ১০০০ কোটির বক্স অফিস সাফল্যের দিকে ছুটছে।

যেখানে এই ছবির কাহিনি শেষ, সেখান থেকেই শুরু হবে আরেকটি স্পাই-থ্রিলার।
শেষ আপডেট: 20 December 2025 20:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিসেম্বরের শীতে হাওয়া গরম করে দেওয়া রণবীর সিং, অক্ষয় খান্না অভিনীত ও আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ এখন ১০০০ কোটির বক্স অফিস সাফল্যের দিকে ছুটছে। ঠিক তখনই এই অ্যাকশন-প্যাকড ছবির দ্বিতীয় ফর্মুলাটি তৈরি হচ্ছে। সাড়ে ৩ ঘণ্টার বেশি সময়ের এই ছবিই শেষ কথা বলেনি। ধুরন্ধর টু রিলিজ করতে চলেছে ২০২৬ সালের মার্চে। অর্থাৎ যেখানে এই ছবির কাহিনি শেষ, সেখান থেকেই শুরু হবে আরেকটি স্পাই-থ্রিলার। যার অন্যতম একটি চরিত্র থাকবে ‘বড়ে সাহাব’। এই রহস্যের গন্ধে মোড়া চরিত্রটি আসলে বাস্তবের কোন ব্যক্তি, তা নিয়ে ধন্দ ছড়িয়ে পড়েছে উৎসুক মহলে।
ধুরন্ধরের দ্বিতীয় পর্যায়ের সিক্যুয়েলের ইতিমধ্যেই চিত্রগ্রহণ শেষ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানের তা রয়েছে ক্যামেরার পিছনের কারিগরদের হাতে। প্রথম পর্বে দেখা গিয়েছে, বেশ কিছু জটিল ঘটনাবর্ত, কিছু ইতিহাস, কিছু কাহিনি। যার শেষ হয়েও শেষ না হওয়া সুর আবর্তিত হবে দ্বিতীয় খণ্ডে। খানিকটা আভাস প্রথম পর্বেই রয়েছে, সেই না-মেলা প্রশ্নের একটি উত্তর অপেক্ষা করছে, আসলে কে ‘বড়ে সাহাব’?
ধুরন্ধর টু-তে বিরাট রহস্যের পর্দা খুলবে এই চরিত্রটিকে ঘিরে। যে নামটি প্রথম পর্বে বারবার ঘুরেফিরে এসেছে। বিরাট ক্ষমতার অধিকারী এই বড়ে সাহাবের প্রসঙ্গ এলেও তার সম্পর্কে খোলসা করে কিছু জানা যায়নি। সঞ্জয় দত্তের চরিত্র এসপি চৌধুরি আসলাম এই বড়ে সাহাবকে ঘটনাক্রমের সবকিছু নেপথ্য থেকে পুতুলনাচের কারিগর বলে ব্যাখ্যা করেছে। বিশেষ করে আসলামকে পুলিশ বাহিনী থেকে সাসপেন্ড করে দেওয়ার পর। এই পর্বেই বলে দেওয়া হয়েছে, বড়ে সাহাব মূল শক্তি যে পাকিস্তানের বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়ছে। যা নিয়ে সিনেমা দর্শকদের মধ্যে বিপুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা হল কে এই প্রকৃত ‘ধুরন্ধর’?
দাউদ ইব্রাহিম
সিনেমা কৌতূহলীদের অধিকাংশেরই দাবি, একদা মুম্বইয়ের ডন দাউদ ইব্রাহিম হল এই বড়ে সাহাব। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই চরিত্রটিকে একাংশ ‘ডি কোম্পানি’র মালিক বলেই ছক কষে রেখেছে। অনুমানের প্রধান কারণ হল, ছবির কাস্ট লিস্টে দাউদ ইব্রাহিমের কথা রয়েছে এবং সেই চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন দানিশ ইকবাল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য ধুরন্ধরে তাকে দেখা গেলেও পরবর্তী পর্যায়ে সেই হয়ে উঠতে পারে মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ দাউদ এদেশ ছেড়ে গেলেও পাকিস্তানের মাটিতে বসে সংগঠিত অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং পাক সেনা-চর সংস্থার আঁতাঁত গড়ে তুলেছিল। যা আরও গভীরভাবে তুলে ধরা হতে পারে পার্ট টু-তে।
মাসুদ আজহার
আরেকটি অনুমান ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে, তা হল বড়ে সাহাব হতে পারে মাসুদ আজহার। কান্দাহারের বিমান ছিনতাই থেকে ধুরন্ধরের কাহিনির যাত্রাপথ শুরু। যেখানে আর মাধবন অভিনীত অজয় সান্যাল ভারতীয় পণবন্দিদের মুক্ত করতে আলোচনা চালাচ্ছেন জঙ্গিদের সঙ্গে। ঐতিহাসিক সত্য যে, এই আলোচনা থেকেই ধৃত জঙ্গি মাসুদ আজহার মুক্তি পেয়েছিল। আজহারের দুই সঙ্গী আহমেদ ওমর সঈদ শেখ ও মুশতাক আহমেদ জারগর ছাড়া পায়। ফলে বড়ে সাহাব মাসুদও হতে পারে। কারণ, বিমান ছিনতাই থেকে পরে জঙ্গি কার্যকলাপ এবং বৃহত্তর ক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টিতে সে-ই কলকাঠি নাড়ত।
ওসামা বিন লাদেন
তৃতীয় যে ব্যক্তিকে উৎসাহ চরমে রয়েছে অনলাইনে, তার নাম আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের একদা নাটের গুরু আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন। লাদেনই অন্ধকারে রেখে সব অশান্তি ছড়াচ্ছিলেন বলেও দেখানো হতে পারে বড়ে সাহাব চরিত্রের মধ্য দিয়ে। যদিও প্রথম পর্বে ওসামার বিন্দুবিসর্গের আভাস নেই, তাই তাকে ঘিরে কৌতূহল চরমে রয়েছে। সব মিলিয়ে এইসব কৌতূহলের অবসান ঘটবে আগামী ১৯ মার্চ, ২০২৬। ওইদিনই মুক্তি পাবে ধুরন্ধর পার্ট টু।