বসুশ্রীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উত্তম-সুচিত্রার ছবি থেকে সত্যজিৎ রায়ের 'পথের পাঁচালি'র ইতিহাস। সেই হল আবার মানুষ হাউসফুল করছে তা আমাদের যেন আলোর দিন ফিরিয়ে দিল।

গ্রাফিক্স শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 16 August 2025 15:44
'বাংলা ছবি চলে না', 'বাংলা ছবির পাশে দাঁড়ান' এসব মিথ ভেঙে প্রতিটি শোতে হাউসফুলের রের্কড গড়ল কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত দেব-শুভশ্রীর 'ধূমকেতু'। মুক্তির দিন ১৪ অগস্ট সকাল সাতটার থেকে পর পর শো হাউসফুল ছিল মাল্টিপ্লেক্সগুলিতে। কিন্তু এবার সিঙ্গেলস্ক্রিনে ইতিহাস সৃষ্টি করল 'ধূমকেতু'। দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়ের 'বসুশ্রী' সিনেমাহলের সব কটি সিট ভরে গেল দেবের ছবি দেখতে। কলকাতার সব কটি সিনেমাহলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যার আসন বসুশ্রীতেই। বহুদিন পর সিঙ্গেলস্ক্রিনে এমন বিরল ঘটনা ঘটল।
শুধু তাই নয়, 'ধূমকেতু'র সাফল্য পিছনে ফেলে দিল হৃতিক রোশনের 'ওয়ার ২' ছবিকে। হিন্দির থেকেও বাংলা ছবি বক্সঅফিসে এগিয়ে রইল বহু যোজন। যা বাঙালিদের কাছে গর্বের। দেব-শুভশ্রী-কৌশিকের হাত ধরেই বাংলা ছবির শুভ দিন ফিরল। প্রযোজক রাণা সরকার ও দেবের যৌথ প্রযোজনায় দশ বছর আগের ছবি 'ধূমকেতু' ঝলমলিয়ে দিল ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গেলস্ক্রিনকে।
গতকাল কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় নিজের পেজে সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার দুটি সিঙ্গেলস্ক্রিন 'বসুশ্রী' আর 'বিজলি'র শো হাউসফুল হবার কথা। সিঙ্গেলস্ক্রিনের ভগ্নদশা নিয়ে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ই অতীতে ছবি করেছিলেন 'সিনেমাওয়ালা'। তাই 'ধূমকেতু' দেখতে সিঙ্গেলস্ক্রিনে মানুষের ভিড় মন ভাল করে দিল পরিচালকের।

বহুদিন পর সিঙ্গেলস্ক্রিনের এই সাফল্যের কথা জানতে দ্য ওয়াল থেকে যোগাযোগ করা হয় 'বসুশ্রী'র দেবজীবন বসুর সঙ্গে, তিনি বলেন 'ধূমকেতু রিলিজের আগে কিন্তু যশ চোপড়া প্রোডাকশানের হৃতিক রোশনের 'ওয়ার ২' নিয়ে বেশি টিকিট বুক হচ্ছিল। কিন্তু ১৪ অগস্ট থেকে চিত্রটা বদলে গেল। এক লাফে 'ধূমকেতু'র টিকিট অগ্রিম বুকিং হতে থাকল। আমাদের ব্যালকনি আর রিয়্যার স্টলের সব সিট ভরে যাচ্ছে। বহুদিন পর ঢেউয়ের মতো টিকিট বিক্রি হচ্ছে। সন্ধ্যেবেলার একটাই শো আছে, কিন্তু মনে হচ্ছে শো বাড়াতে হবে। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ এমন একটি ছবি আমাদের উপহার দেবার জন্য। কৌশিক বাবুর 'সিনেমাওয়ালা' ছবিটিও এই বসুশ্রীতে চলেছিল। আর দেব আমার কাছে আমাদের কাছে আলাদা একটা আবেগ। দেব সব ছবিই আমাদের হলে এসেছে। তবে দেব-শুভশ্রীর 'ধূমকেতু' সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেল। তারকা দেবের পাশাপাশি মানুষ দেব আমার খুব প্রিয়। বাংলা ছবির সেই সোনার দিন ফিরল যা প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতাদের সঙ্গে আমাদের হল মালিকদের জন্য বড় খবর।
আগে তো এই ভবানীপুরে ভারতী, উজ্জ্বলা, ইন্দিরা, পুন্য,কালিকা আরও কত সিনেমাহল ছিল। কিন্তু সব উঠে গিয়েছে। বসুশ্রী আর বিজলী বেঁচে আছে। আর বসুশ্রীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উত্তম-সুচিত্রার ছবি থেকে সত্যজিৎ রায়ের 'পথের পাঁচালি'র ইতিহাস। সেই হলে আবার মানুষ হাউসফুল করছে তা আমাদের যেন আলোর দিন আবার ফিরিয়ে দিল। বসুশ্রী হাউসফুল হওয়া মানে বিরাট ব্যাপার। কলকাতার মধ্যে আমাদের হলে সিট সবথেকে বেশি। বসুশ্রীর সব সিট ভর্তি মানে একটা বিরাট খবর। অন্য হলেও তাহলে ছবিটি কত চলছে। ওয়ার ২ র থেকেও ধূমকেতুর দর্শক অনেক অনেক বেশি আসছে। হিন্দি ছবির সঙ্গে বাংলা ছবির পাল্লা বলব না। এমনিতেই বাংলা ছবি ধূমকেতু অনেক বেশি এগিয়ে গিয়েছে। বিশাল অ্যাচিভমেন্ট।'

সত্যি তাই, মাল্টিপ্লেক্সের যুগে সিঙ্গেলস্ক্রিন হাউসফুল করা বিশাল অ্যাচিভমেন্ট। মেনস্ট্রিম ছবিতেই শৈল্পিক কাজ, ভাল গল্প, ভাল অভিনয় করিয়ে দেখালেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। দশ বছর আগের ছবি দশ বছর পরে রিলিজ হয়েও যে এমন সাফল্যের রেকর্ড গড়ে তা বাংলা ছবির ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকল। জয়তু 'ধূমকেতু'।