১৯৭৫ সালে পর্দায় এসেছিল যে গল্প, ২০২৫ সালে এসে তা শুধু সিনেমা নয়, এক ইতিহাস। ভারতীয় সিনেমার কালজয়ী ক্লাসিক 'শোলে' আজ পা দিল ৫০ বছরে।

শোলে
শেষ আপডেট: 5 July 2025 19:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৭৫ সালে পর্দায় এসেছিল যে গল্প, ২০২৫ সালে এসে তা শুধু সিনেমা নয়, এক ইতিহাস। ভারতীয় সিনেমার কালজয়ী ক্লাসিক 'শোলে' আজ পা দিল ৫০ বছরে। আর সেই বিশেষ মুহূর্তেই ইতালির প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হল ছবির রিস্টোরড ভার্সন। সেই উপলক্ষে স্মৃতির সরণিতে হাঁটলেন ছবির অন্যতম প্রাণভোমরা, ধর্মেন্দ্র। ছবিটির নতুন করে প্রাণ ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গে ধর্মেন্দ্র জানান, “ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন এতে প্রাণ সঞ্চার করেছে।”
ধর্মেন্দ্রর সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্য? অনেকেই ভাবেন হয়তো ট্যাঙ্কের অ্যাকশন কিংবা মন্দিরের সেই বিখ্যাত শট—কিন্তু না। ধর্মেন্দ্রর চোখে শোলে-র সবচেয়ে গভীর মুহূর্ত, যেখানে অমিতাভ বচ্চনের চরিত্র জয় মারা যায়। “সেই দৃশ্য থেকে জীবন এক অন্য মোড়ে যায়,” বলেন বীরু। “দুই বন্ধুর আবেগ সেখানে যেন উথলে ওঠে। আমি খুব ভালবাসি সেই মুহূর্তটাকে।”
ধর্মেন্দ্র নিজে কীভাবে তৈরি হয়েছিলেন এমন দৃশ্যের জন্য? উত্তরে বলেন—“আমি কোনও প্র্যাকটিস করি না। আমি তো নিজেকে ধর্মেন্দ্র ভাবি না তখন। আমি তখন বীরু।” নিজের কেরিয়ারে বিভিন্ন ছবির কথা টেনে ধর্মেন্দ্র ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে প্রতিটি চরিত্রে তিনি মিশে গিয়েছেন। 'প্রতিজ্ঞা', 'চুপকে চুপকে'—সব ছবিতেই তিনি নিজেকে হারিয়েছেন চরিত্রের মধ্যে।
“অনেক অভিনেতাকে দেখেছি, সব সময়েই তাঁরা তাঁদের মতোই দেখতে। কিন্তু আমি চরিত্রে ঢুকে যাই, এক সেকেন্ডেই।” এই কথাগুলির মধ্যেই যেন ফুটে ওঠে তাঁর অভিনয়ের সরলতা, আর তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকা নিখুঁত শৈল্পিকতা।
‘শোলে’ নিয়ে আরও একটা অসাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর মতে, ছবির আসল নায়ক ছিল একটা কয়েন! হ্যাঁ, সেই কয়েন যার দু’দিকেই ছিল হেড। জয় ও বীরু টস করত ঠিক করার জন্য—কিন্তু জয় চেয়েছিল সিদ্ধান্ত যেন সব সময়েই বীরুরই হয়। “ছবির প্রতিটি চরিত্রই একজন নায়ক,” বলেন ধর্মেন্দ্র, “কিন্তু আসল নায়ক হল সেই কয়েন।”
শুধু বীরু নন, ধর্মেন্দ্রকে ছবিতে গব্বর সিং ও ঠাকুরের চরিত্রেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি বেছে নেন বীরুকে, কারণ তাঁর মতে, বীরুর মতোই তাঁর ব্যক্তিত্ব। ৫০ বছর পার করে এসে যখন 'শোলে' আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মান পাচ্ছে, তখন ধর্মেন্দ্রর এই আত্মজ কথাগুলি যেন ইতিহাসের এক টুকরো হয়ে ওঠে।