২০০২ সালে নীরবে নিজের গ্রামে ফিরে যান ধর্মেন্দ্র। শৈশববন্ধুর সঙ্গে দেখা করেন, ভাগ করে নেন পুরোনো স্মৃতি ও আবেগ।
.jpg.webp)
ধর্মেন্দ্রর পাঞ্জাবের সেই বাড়ি।
শেষ আপডেট: 11 November 2025 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের সোনালি যুগের নায়ক ধর্মেন্দ্র দেওল— যিনি একসময়ে পর্দায় ছিলেন শক্তি, আবেগ আর মাধুর্যের প্রতীক, তিনি জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও নিজের মাটি ও মানুষকে ভুলতে পারেননি। খ্যাতি, সম্পদ, প্রাসাদোপম বাড়ি, সব কিছু পেরিয়েও এক রাতের নিভৃতে তিনি ফিরে গিয়েছিলেন সেই গ্রামে, যেখানে তাঁর শৈশব কেটেছিল এক সাধারণ স্কুলশিক্ষকের পুত্র হয়ে।
ধর্মেন্দ্র, যিনি এক সময় ‘ফুল অউর পাত্থর’, ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘ধরম-বীর’ কিংবা ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’-এর মতো ছবিতে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন, সেই অভিনেতাই জীবনের আলো ঝলমলে অধ্যায় পেরিয়ে এক রাতে উড়ে গেলেন পাঞ্জাবের ছোট্ট গ্রাম লালটন কালানে। বছরটি ছিল ২০০২। রাত তখন প্রায় সাড়ে ন’টা। দিন হলে গ্রামে প্রবেশ করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব, মানুষ চিনে ফেলবে। তাই বেছে নিয়েছিলেন রাতের নীরবতা।
রাম সিং নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের কুঁড়েঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কড়া নাড়েন তিনি। দরজা খোলেন রাম সিংয়ের বৌমা। প্রথমে অচেনা মুখ, পরক্ষণেই লণ্ঠনের আলোয় চেনা চোখজোড়া। বিস্ময়ে অবশ হয়ে যান তিনি। ধর্মেন্দ্র হাসিমুখে বলেন, “ভয় পাবেন না, আমি সেই ধর্ম সিং, ছোটবেলায় আপনাদের ঘরেই ভাড়া থাকতাম।” মুহূর্তেই আবেগে ভেসে ওঠে সেই গ্রামীণ কুটির।
রাম সিং তাঁর পুরোনো বন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। সেই সাধারণ ছেলেটিই আজ বলিউডের কিংবদন্তি। দু’জন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন, যেন কৃষ্ণ-সুদামার পুনর্মিলন ঘটল চল্লিশ বছর পর। খবরটা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে মানুষ ভিড় জমায় ধর্মেন্দ্রকে দেখতে। কেউ নিয়ে আসে দুধ, কেউ জিলিপি, কেউ বা ঘরে বানানো মক্কি কি রোটি। গ্রামের মানুষদের সেই উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে অন্ধকার রাত।
ফটোগ্রাফার বালিন্দর ধিলনের হাতে তখন গ্রামে একমাত্র ক্যামেরা। তাঁর ফিল্ম রোল শেষ হয়ে যায় কিছুক্ষণের মধ্যেই। যাঁরা ছবি তুলতে পারেননি, তাঁরা শুধু হাত মেলাতেই তৃপ্ত হন, যেন ছুঁয়ে দেখা এক জীবন্ত কিংবদন্তিকে।
ধর্মেন্দ্রর চোখে জল আসে যখন রাম সিং তাঁর বাবার পুরনো ছবি তাঁকে উপহার দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, শৈশববন্ধু সুরজিৎ সিং বহু বছর আগেই প্রয়াত। ধর্মেন্দ্র দেখা করেন সুরজিৎয়ের স্ত্রী ও কন্যার সঙ্গে, তাঁদের আর্থিকভাবে সাহায্যও করেন নিঃশব্দে।
সেই রাত কাটে গল্পে, হাসিতে, স্মৃতিতে। গ্রামের তরুণদের সঙ্গে তিনি ভাগ করে নেন শৈশবের দিনগুলির কথা, কেমন ছিল ছোটবেলার পাঞ্জাবের জীবন, কীভাবে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন পর্দায় নায়ক হওয়ার। রাতভর চলতে থাকে আড্ডা। এরপর ভোর হতেই ধর্মেন্দ্র চুপিচুপি ফিরে যান মুম্বই, নিজের ফার্মহাউসের নির্জনতায়।
আজও ধর্মেন্দ্রকে ঘিরে বলিউডে অসংখ্য কিংবদন্তি প্রচলিত, কিন্তু লালটন কালানের সেই রাতের গল্পটি জানেন খুব কম মানুষ। একজন প্রকৃত শিল্পীর মতো, তিনি ফিরে গিয়েছিলেন তাঁর শিকড়ের কাছে— আলো থেকে অন্ধকারে, শহর থেকে মাটির ঘ্রাণে।