দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জনের মাঝেই ধনুষের জীবনে বড় ঝড়!

ধনুষ
শেষ আপডেট: 18 January 2026 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধনুষ ও সোনম কাপুরের অভিনীত সুপারহিট ছবি ‘রাঞ্ঝনা’–র স্মৃতি উসকে দিয়ে পরিচালক আনন্দ এল রাই যখন নতুন ছবি ‘তেরে ইশক মে’–র ঘোষণা করেছিলেন, তখন থেকেই দর্শকমহলে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। মুক্তির পর বক্স অফিসেও ভালো ফল করে ধনুষ–কৃতি শ্যাননের জুটি। কিন্তু সেই সাফল্যের মধ্যেই এ বার ছবিটি জড়িয়ে পড়ল বড়সড় আইনি জটিলতায়। পরিচালক আনন্দ এল রাই এবং তাঁর প্রযোজনা সংস্থা কালার ইয়েলো প্রোডাকশনস–এর বিরুদ্ধে ৮৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছে নামী স্টুডিও ইরোস ইন্টারন্যাশনাল।
এই আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ছবির স্বত্ব এবং সিক্যুয়েল সংক্রান্ত অধিকার। ইরোসের অভিযোগ, ‘তেরে ইশক মে’ ছবিটিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ‘রাঞ্ঝনা’–র আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি বা ‘স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়েল’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। সংস্থার দাবি, ২০১৩ সালের কাল্ট হিট ‘রাঞ্ঝনা’–র সমস্ত মেধাস্বত্ব তাদের অধীনেই রয়েছে। সেই অনুযায়ী, ছবিটির কোনও সিক্যুয়েল, প্রিক্যুয়েল বা রিমেক নির্মাণ করতে হলে ইরোসের অনুমতি এবং অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।
ইরোস ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য, আনন্দ এল রাই ও তাঁর টিম কৌশলে ‘রাঞ্ঝনা’–র নস্ট্যালজিয়া ব্যবহার করে নতুন ছবির ব্র্যান্ডিং করছে, যা বাণিজ্যিক নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এবং কালার ইয়েলো প্রোডাকশনসের কাছে ৮৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। ইরোসের মতে, এর ফলে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এখানেই শেষ নয়। দুই ছবিতেই মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব অভিনীত জনপ্রিয় চরিত্র ‘মুরারি’–কে ফেরানো নিয়েও তীব্র আপত্তি তুলেছে ইরোস। তাদের দাবি, অনুমতি ছাড়া এই চরিত্রের বাণিজ্যিক ব্যবহার তাদের আইনি অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
এছাড়াও ইরোসের অভিযোগ, ‘তেরে ইশক মে’–তে ধনুষের অভিনীত ‘শঙ্কর’ চরিত্রটির আবেগ, সংলাপ ও জীবনদর্শনের সঙ্গে ‘রাঞ্ঝনা’–র ‘কুন্দন শঙ্কর’ চরিত্রের বিস্ময়কর মিল রয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই ও সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে তারা একাধিক সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল। পরে প্রচার থেকে সাময়িক ভাবে ‘রাঞ্ঝনা’ নামটি সরানো হলেও বাস্তবে ছবিটিতে এখনও ব্যাপক কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন হচ্ছে এবং একে ‘রাঞ্ঝনা’–র এক ধরনের আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
অন্যদিকে, আনন্দ এল রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ‘তেরে ইশক মে’ সম্পূর্ণ আলাদা গল্পের ছবি এবং এটি কোনও ভাবেই ‘রাঞ্ঝনা’–র সরাসরি সিক্যুয়েল নয়। পরিচালকের বক্তব্য, কেবল আবেগ বা ইমোশনের স্তরে ছবিদুটির মধ্যে কিছু সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়ার কারণেই এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তবে আইনি লড়াই শুরু হয়ে যাওয়ায়, শেষ পর্যন্ত এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ইন্ডাস্ট্রি।