কাজলের নাম, ছবি বা কণ্ঠস্বর আর অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না—স্পষ্ট নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট।

কাজল
শেষ আপডেট: 21 February 2026 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিপফেক প্রযুক্তির বাড়বাড়ন্তের মধ্যে ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল দিল্লি হাইকোর্ট। সম্প্রতি অভিনেত্রী কাজল-এর (Kajol) ব্যক্তিত্বের অধিকার সুরক্ষায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করেছে আদালত (Delhi High Court)।
শুক্রবার বিচারপতি জ্যোতি সিং-এর একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কাজলের নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর বা তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত কোনও উপাদান তাঁর অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না। তা পণ্যের প্রচার হোক বা ডিজিটাল কনটেন্ট—সব ক্ষেত্রেই তাঁর পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক।
আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, বর্তমান সময়ে AI ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের মতে, ব্যক্তিত্বের অধিকার শুধু আর্থিক স্বার্থের বিষয় নয়, এর সঙ্গে একজন ব্যক্তির মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা গভীরভাবে জড়িত। সেই কারণেই ভবিষ্যতে বিকৃত বা পরিবর্তিত ডিজিটাল কনটেন্টে কাজলের পরিচয় ব্যবহার রুখতে কড়া নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে আদালত।
এছাড়া কাজলকে নিয়ে অনলাইনে প্রকাশিত অশ্লীল ও কুরুচিকর কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে। অভিনেত্রীর হয়ে আদালতে সওয়াল করা আইনজীবী প্রবীণ আনন্দ বলেন, ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যক্তিত্বের অপব্যবহার ঠেকাতে আইনি সুরক্ষা এখন অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনকেও সমানভাবে এগোতে হবে বলেও তিনি মত দেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে বিনোদন, ক্রীড়া, রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়ার বহু পরিচিত মুখ তাঁদের ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এর আগে অমিতাভ বচ্চন এবং ঐশ্বর্য রাই-সহ একাধিক তারকাকেও একই ধরনের আইনি সুরক্ষা দিয়েছে আদালত। এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট, নিজের নাম, পরিচয় ও ব্যক্তিত্বের বাণিজ্যিক এবং ডিজিটাল ব্যবহারের উপর একজন ব্যক্তির একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে।
তবে আদালত একইসঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। ব্যঙ্গ, শিল্পচর্চা, সংবাদ পরিবেশন বা মতামত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এমন ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যাতে ব্যক্তিগত মর্যাদা সুরক্ষিত থাকে এবং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাও অটুট থাকে।