এ বছরটা যেন আলো–অন্ধকারের অদ্ভুত টানাপড়েন হয়ে রয়েছে পরিচালক অর্জুন দত্তের জীবনে। ‘ডিপ ফ্রিজ’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কারের গৌরব, দিল্লির মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই স্বীকৃতি পাওয়া—সবই ছিল তাঁর ঝলমলে অধ্যায়।

অর্জুন দত্ত।
শেষ আপডেট: 17 November 2025 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ বছরটা যেন আলো–অন্ধকারের অদ্ভুত টানাপড়েন হয়ে রয়েছে পরিচালক অর্জুন দত্তের জীবনে। ‘ডিপ ফ্রিজ’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কারের গৌরব, দিল্লির মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই স্বীকৃতি পাওয়া—সবই ছিল তাঁর ঝলমলে অধ্যায়।
কিন্তু পুরস্কার নিয়ে শহরে ফেরার পরেই শুরু হল আর এক দফা সংগ্রাম। বড় অস্ত্রোপচারের ধকল কাটিয়ে উঠতেই জীবনে নেমে এল সবচেয়ে কঠিন ছায়া। ঠিক যখন নতুন ছবির মুক্তি নিয়ে চারদিকে উত্তেজনা, তখনই অপ্রত্যাশিত ভাবে হারালেন নিজের দাদাকে। বছরখানেক আগেই মাকে হারিয়েছেন অর্জুন। সেই শোক কাটতে না কাটতেই আবার প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা।
সোমবার সকালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পরিচালকের দাদা। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। আচমকাই পড়ে গিয়ে পা ভেঙে যায়, হয় অস্ত্রোপচারও। ডায়াবিটিসে ভুগতেন, ফলে চোখেও সমস্যা দেখা দেয়। সেখানেও করতে হয় আলাদা অস্ত্রোপচার। কেউ ভাবতেই পারেনি তার পরেই সবকিছু এত দ্রুত ভেঙে পড়বে।
এমন অবস্থায় অর্জুনের মানসিক অবস্থা সামলানোই দুরুহ হয়ে উঠেছে পরিবারের জন্য। বয়স্ক বাবা, দাদা-বৌদি আর তাঁদের দুই সন্তান—এই নিয়েই ছোট্ট পরিবারটি। বছর ঘুরে আবার মৃত্যুর ছায়া, আর সেই গভীর শোকের মাঝেই অর্জুনকে সামনে আসতে হচ্ছে নিজের নতুন ছবির প্রচারের দায় নিয়ে।
‘ডিপ ফ্রিজ’-এর প্রচার ইতিমধ্যেই পুরোদমে চলছে। কিন্তু এমন মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির মাঝে পরিচালক কতটা এই প্রচারের সঙ্গে থাকতে পারবেন, তা স্পষ্ট নয়। কারণ কিছু দিন আগেই তিনিও পড়েছিলেন বড়সড় বিপদের সামনে। সিঁড়ি থেকে পিছলে পড়ে শিরদাঁড়ায় গুরুতর চোট পান তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “মায়ের অসুস্থতার সময় থেকেই কোমরে সমস্যা হচ্ছিল। একটু বসলেই পায়ে ঝিঁঝি ধরত। পাত্তা দিইনি। কাজের মধ্যেই চালিয়ে গেছি। গোলমাল হল পুরস্কার নিতে যাওয়ার দিন। দুটো সিঁড়ি পিছলে পড়লাম। আর তখনই শিরদাঁড়ায় চোট লাগে।” তার পরই হয় অস্ত্রোপচার। শরীর সামলে উঠতেই ফের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
এই অবস্থায় অনেকেই ভাবছেন—ছবির মুক্তি কি পিছিয়ে যাবে? যদিও সূত্র বলছে, নির্দিষ্ট তারিখেই ‘ডিপ ফ্রিজ’ প্রেক্ষাগৃহে আসবে। পাশাপাশি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর আর এক ছবি, ‘বিবি পায়রা’।
পুরস্কার, সাফল্য, শোক আর সংগ্রাম—সব মিলিয়ে অর্জুনের বছর যেন এক অদ্ভুত দোলাচল। প্রিয় মানুষদের হারিয়ে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন। তবু শিল্পী হিসেবে অর্জুন দত্তর পথচলা থামছে না।