পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েনই দেবলীনাকে ক্রমে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছিল। সেই অশান্তির জেরেই তিনি মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে নেন নিজেকে শেষ করতে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে সোশ্যাল মিডিয়া ও তাঁর অনুরাগীরা।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 6 January 2026 14:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝলমলে ফ্রেম, হাসিখুশি মুখ, সুরেলা কণ্ঠ—সোশ্যাল মাধ্যমে দেবলীনা নন্দী মানেই প্রাণবন্ত উপস্থিতি। কিন্তু সেই উজ্জ্বল ছবির আড়ালেই যে জমে উঠছিল গভীর বিষাদ, তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না। দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘ টানাপোড়েন, মানসিক ক্লান্তি আর একাকিত্ব মিলিয়ে এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছিলেন তিনি, যেখানে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তই একমাত্র পথ বলে মনে হয়েছিল তাঁর কাছে। শেষমেশ বন্ধু অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী ও বেশকিছু কাছের মানুষের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে যান সঙ্গীতশিল্পী ও ইনফ্লুয়েন্সার দেবলীনা নন্দী। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আপাতত বিপন্মুক্ত বলেই দ্য ওয়ালকে জানিয়েছেন সায়ক চক্রবর্তী।
পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েনই দেবলীনাকে ক্রমে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছিল। সেই অশান্তির জেরেই তিনি মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে নেন নিজেকে শেষ করতে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে সোশ্যাল মিডিয়া ও তাঁর অনুরাগীরা। সোমবার সন্ধ্যায় দেবলীনাকে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছে যান সায়ক চক্রবর্তী। সেখান থেকেই ফেসবুক লাইভে দেবলীনা নিজেই সে ভয়াবহ রাতের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে নেন। পাশাপাশি জানান, তিনি ভালো আছেন, সুস্থ হয়ে আবারও কাজে ফিরবেন। এবার বাঁচবেন নিজের জন্য়ে।
লাইভে দেবলীনার কথায় উঠে আসে তীব্র অসহায়তার ছবি। তিনি জানান, বহুবার ভেবেছিলেন পরিস্থিতি বদলাবে। নিজের জীবনের অগ্রাধিকার বদলে যাওয়ার কথাও অকপটে বলেন দেবলীনা। বিয়ের আগে যেখানে গান, মা আর নিজের সত্তাই ছিল জীবনের কেন্দ্র, বিয়ের পর সেখানে সবকিছু পাল্টে যায়। সেই বদল মানসিকভাবে তাঁকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
সঙ্গীত জগতের পরিচিত মুখ দেবলীনা নন্দী নিয়মিত মঞ্চে গান করেন, পাশাপাশি সোশ্যাল মাধ্যমে তাঁর অনুরাগীর সংখ্যাও কম নয়। গত শনিবার রাতেই আচমকা ফেসবুক লাইভে এসে ব্যক্তিজীবনের অশান্তি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন তিনি। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—গ্ল্যামার আর সাফল্যের আড়ালে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চাপ কতটা ভয়াবহ হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন, সময়মতো পাশে দাঁড়ানো আর সাহায্যের হাত বাড়ানো যে কতটা জরুরি, দেবলীনা নন্দীর অভিজ্ঞতা সেটাই আবার মনে করিয়ে দিল।