প্রথম থেকেই একাধিকের বয়ানে অসামঞ্জস্য চোখে পড়েছে। শুরুর দিকে জানানো হয়েছিল, প্যাকআপের পর দুর্ঘটনাটি ঘটে। কিন্তু পরে পরিচালকের বক্তব্য—শুটিং চলাকালীনই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কেন এই পরিবর্তন?
_0.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 31 March 2026 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তালসারি সমুদ্র সৈকত-এ শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunodoy Banerjee News)-এর। এ শোক ভোলার নয়। ঘটনাটি যত সামনে আসেছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে, এ শুধু দুর্ঘটনা নয় (Rahul Arunodoy Banerjee Death), বরং একাধিক গাফিলতি ও অসংগতির ছবি লুকিয়ে রয়েছে কোথাও না কোথাও। ফলে চাপ বাড়ছে সিনেপাড়ার অন্দরমহলে। অভিযোগের আঙুল উঠছে প্রযোজনা সংস্থার দিকে। শিল্পীরাও হয়েছেন সরব।
প্রথম থেকেই একাধিকের বয়ানে অসামঞ্জস্য চোখে পড়েছে। শুরুর দিকে জানানো হয়েছিল, প্যাকআপের পর দুর্ঘটনাটি ঘটে। কিন্তু পরে পরিচালকের বক্তব্য—শুটিং চলাকালীনই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কেন এই পরিবর্তন? দায় এড়াতেই কি প্রথমে অন্য কথা বলা হয়েছিল—এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে টলিপাড়ায়।
এখানেই শেষ নয়। ওড়িশা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিই ছিল না। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কীভাবে এত বড় ইউনিট নিয়ে সমুদ্রতটে শুটিং চলল? আরও আশ্চর্যের, সংশ্লিষ্ট ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থার তরফে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি দাবি করেছেন, চিত্রনাট্যে তেমন গভীরে যাওয়া জলের কোনও দৃশ্যই ছিল না। যা হওয়ার কথা, সবটাই সামান্য জলে, পা ভিজিয়ে। তা হলে প্রশ্ন থেকেই যায়, সেই সামান্য জলে কীভাবে তলিয়ে গেলেন অভিনেতা? (যদিও লীনা গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। যা বলছেন, সবটাই শোনা কথা)
ঘটনার পর সরব হয়েছে অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (AICWA)। তাদের অভিযোগ, খরচ বাঁচাতে বারবার শিল্পী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে আপস করা হয়। এর জেরেই দেশে প্রায় প্রতি বছরই এমন দুর্ঘটনা ঘটে, অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা ধামাচাপা পড়ে যায়। এই মৃত্যুর ঘটনাতেও একই আশঙ্কা তুলে ধরেছে সংগঠন।
তাদের দাবি, অবিলম্বে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। করতে হবে FIR। সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হোক। শুধু তাই নয়, ধারাবাহিকটির সঙ্গে যুক্ত প্রযোজক, প্রযোজনা সংস্থা এবং সম্প্রচারকারী চ্যানেল—সকলকেই কালো তালিকাভুক্ত করার দাবিও উঠেছে। পাশাপাশি, রাহুলের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়েছে সংগঠন।
রাহুলের মৃত্যুর পর থেকেই শিল্পীরা প্রশ্ন তুলছেন, এখনও কেন প্রযোজন সংস্থা থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হল না। চাপ বাড়ছে অন্দরমহলে। প্রযোজন-পরিচালক রানা সরকারও সোশ্যাল মিডিয়ায় ধরলেন কলম। লিখলেন-- এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়...। কিন্তু ষ্টার জলসা ও প্রযোজক ম্যাজিক মোমেন্টস-এর উচিত কর্মরত অবস্থায় মৃত একজন শিল্পীর পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা। তদন্ত যা হওয়ার আইনি পথে হবে আশা রাখছি। আশা রাখছি দোষীর শাস্তি হবে, কাউকে বাঁচিয়ে দেওয়ার জন্য প্রভাব খাটানো হবে না। কিন্তু আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা এক্ষুনি করতে হবে।
এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও লেখেন, এত বড় একটা চ্যানেল, এত বড় একটা প্রযোজনা সংস্থা, এখনও আপনারা কোন বিবৃতি দিতে পারলেন না, আপনাদের লজ্জা হত্তয়া উচিত। শোকস্তব্ধ পরিবার হয়তো আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানও করতে পারে, কিন্তু আপনাদের দায়িত্ব আপনারা পালন করুন।
এছাড়াও, অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল তদন্তের দাবি করেছেন। একইভাবে তদন্তের কথা বলেছেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহল থেকেও। শতরূপ ঘোষও একইভাবে 'সত্যি সামনে আসুক' দাবি করেন।