রাহুলের অকালমৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। প্রতিক্রিয়ার ঢেউ আছড়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও লিখেছেন, "রাহুলের এই হঠাৎ চলে যাওয়া বাংলার অভিনয় জগতের জন্য, টলিউড ও টেলিউডের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।"

শেষ আপডেট: 30 March 2026 09:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্তব্ধ টলিউড। বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee News) আর নেই। দিঘায় শ্যুটিং করতে গিয়ে তালসারিতে সমুদ্রে স্নানের সময় দুর্ঘটনায় তলিয়ে যান তিনি। উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত (Rahul Arunoday Banerjee Death) বলে ঘোষণা করা হয়।
রাহুলের অকালমৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। প্রতিক্রিয়ার ঢেউ আছড়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও লিখেছেন, "রাহুলের এই হঠাৎ চলে যাওয়া বাংলার অভিনয় জগতের জন্য, টলিউড ও টেলিউডের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।"
রাহুলের মৃত্যুর খবরে যখন মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড়, তখনই এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, "বিশিষ্ট, তরুণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা, রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি হঠাৎ আর আমাদের মধ্যে নেই, এই খবর পেয়ে আমি হতচকিত, মর্মাহত ও শোকাহত।"
রাহুলকে খুব পছন্দের অভিনেতা ও মানুষ বলে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, কী করে এমন হল এখনও মেনে নিতে পারছেন না। প্রয়াত অভিনেতার পরিবার, পরিজন ও অনুরাগীদের সমবেদনা জানান তিনি।
বিশিষ্ট, তরুণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা, রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি হঠাৎ আর আমাদের মধ্যে নেই, এই খবর পেয়ে আমি হতচকিত, মর্মাহত ও শোকাহত।
কী করে যে কী হয়ে গেল, আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। সে আমার খুব পছন্দের অভিনেতা ও মানুষ ছিল।
তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, পরিজন ও অগণিত অনুরাগীদের…— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 29, 2026
একইভাবে শোকজ্ঞাপন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee)।
মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউড থেকে থিয়েটার জগতে। মৃত্যুর সময় তিনি স্টার জলসার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন।
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম রাহুলের। ছোট থেকেই মঞ্চের সঙ্গে তাঁর যোগ—বাবা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাট্যদলের হাত ধরে তিন বছর বয়সে অভিনয়ে হাতেখড়ি। দীর্ঘ কেরিয়ারে ৪৫০-রও বেশি নাটকে অভিনয় করেন তিনি।
২০০৮ সালে চিরদিনই তুমি যে আমার (Chirodini Tumi Je Amar) ছবির মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে ওঠেন রাহুল। এরপর ‘চতুষ্কোণ’, ‘ব্যোমকেশ ফিরে এল’-সহ একাধিক ছবিতে নিজের অভিনয়ের ছাপ রাখেন। ছোটপর্দায় ‘তুমি আসবে বলে’, ‘দেশের মাটি’-র মতো ধারাবাহিক এবং ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’-সহ ওয়েব সিরিজেও ছিলেন সমান স্বচ্ছন্দ।
ব্যক্তিগত জীবনে সহ-অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের (Priyanka Sarkar) সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও বহু চর্চিত। বিচ্ছেদের পর ফের একত্রে থাকার সিদ্ধান্ত তাঁদের জীবনে নতুন অধ্যায় খুলেছিল।
মঞ্চ থেকে সিনেমা, টেলিভিশন থেকে ওয়েব—সব ক্ষেত্রেই নিজের স্বাক্ষর রেখে গেলেন রাহুল। তাঁর প্রয়াণে বাংলা বিনোদন জগতে তৈরি হল এক অপূরণীয় শূন্যতা।