এই ধারাবাহিকে নায়কের অনস্ক্রিন ছেলের চরিত্রে অভিনয় করছিল খুদে অভিনেতা অভিনব বিশ্বাস (Avinaba Biswas), যাকে দর্শকরা চিনতেন লাট্টু নামে।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 21 January 2026 13:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্টার জলসার (Star Jalsa)) জনপ্রিয় মেগা ‘পরশুরাম আজকের নায়ক’ (Parshuram Serial) টিআরপি তালিকার শীর্ষে থেকেছে দীর্ঘদিন। ৩০০-র বেশি পর্ব পেরিয়ে দর্শকমহলে জমে উঠেছিল এই ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা। পর্দায় যেখানে নায়ক দুষ্টের দমন করে ন্যায়ের কথা বলে, বাস্তবে সেই সেট থেকেই উঠে এল একেবারে উল্টো ছবি—এক শিশুশিল্পী করল ‘মানসিক অত্যাচার’-এর অভিযোগ।
ধারাবাহিক ছাড়ল অভিনব
এই ধারাবাহিকে নায়কের অনস্ক্রিন ছেলের চরিত্রে অভিনয় করছিল খুদে অভিনেতা অভিনব বিশ্বাস (Avinaba Biswas), যাকে দর্শকরা চিনতেন লাট্টু নামে। গত কয়েক মাস ধরেই শুটিং ফ্লোরে ক্রমাগত মানসিক চাপ ও হয়রানির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছিল তাকে—এমনটাই দাবি পরিবারের। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় অভিনব।
সম্প্রতি একটি ভিডিয়ো সামনে আসে, যা ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। সেই ভিডিয়োতে দেখা যায়, একটি দৃশ্যের ব্লকিং বোঝাচ্ছেন পরিচালক— কে কোথায় দাঁড়াবে, কী সংলাপ বলবে, সবই চলছে শুটিংয়ের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। ঠিক সেই সময় নায়িকা তৃণা মজা করতে শুরু করেন। যদিও অভিনব ও তার পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই আচরণের মধ্যেই ছিল কটাক্ষের ইঙ্গিত। পরিচালক তৃণাকে কিছুটা সরে দাঁড়াতে বললে তিনি বলেন, “পরশুরামকে আমি জায়গা ছাড়ব না, ওর নামেই তো সিরিয়াল। তাহলে চলবে কী করে! এই তো লাট্টু বলল।” পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে ইন্দ্রজিৎ মন্তব্য করেন, “ব্যাপারটা এবার অন্যদিকে চলে যাচ্ছে…”
কী বক্তব্য অভিনবের?
এই ঘটনার প্রসঙ্গে অভিনব জানায়, “ক্রমাগত হয়রানি আর অপব্যবহারের শিকার হতে হতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। শো ছাড়ার সিদ্ধান্ত আমার মা-বাবার, কারণ আমার জন্য তাঁরাও মানসিক উদ্বেগে ভুগছিলেন। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও আমাকে টার্গেট করা বন্ধ করা হয়নি।”
লাট্টুর শো ছাড়ার খবর সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। দর্শকদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন—শিশুশিল্পীদের নিয়ে কাজ করার সময় কি ন্যূনতম সংবেদনশীলতা বজায় রাখা হয় না? কেউ কেউ আবার প্রযোজনা সংস্থার দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অল্প সময়েই অভিনবের স্বাভাবিক অভিনয় আর মিষ্টি হাসি দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল, তাই তার এমনভাবে বিদায় নেওয়া অনেকের কাছেই কষ্টের।
তবে প্রযোজনা সংস্থা ব্লুজ প্রোডাকশনের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ তোলেনি অভিনব। বরং সে জানিয়েছে, “একটা দাঁড়ানোর বিষয় নিয়ে ডিরেক্টরের সঙ্গে টেকনিক্যাল আলোচনা হচ্ছিল। সেটাই কীভাবে আমার দিকে ঘুরে গেল, সেটাই প্রশ্ন। এমনটা প্রায় রোজই হয়। সেদিন ভাগ্য ভালো ছিল, প্রেস উপস্থিত ছিল এবং তাঁদের দ্বারাই ভিডিয়োটা রেকর্ড হয়। ধন্যবাদ ব্লুজ প্রোডাকশন। বাংলার সেরা হাউসগুলোর একটিতে কাজ করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।”
এই মুহূর্তে অভিনবর জীবনের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে পড়াশোনা আর নিজের শৈশবটা ফিরে পাওয়া। তবে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে টলিউডের শুটিং ফ্লোরে শিশু শিল্পীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষার বিষয়টি। পরশুরাম আজকের নায়ক হয়তো চলবে, লাট্টুর জায়গায় নতুন মুখও আসবে—কিন্তু এক শিশুকে যে মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হলো, তার দায় শেষ পর্যন্ত কার?