আমি তো উত্তর কলকাতার মেয়ে। এখন থাকি দক্ষিণে। সেই ছোটবেলায় বেলুনের মধ্যে লজেন্স, টফি সব থাকত। সেগুলো আমরা হ্যাপি বার্থ ডে বলে ফাটাতাম। বেলুনটা ফাটালেই টফিগুলো সব ঝরেঝরে পড়ত।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 18 July 2025 17:38
আটের দশকের সুন্দরী দেবিকা। অঞ্জন চৌধুরীর 'ছোট বউ' বলেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয় কিন্তু মৃণাল সেন থেকে তপন সিনহা সবার আইকনিক ছবিতেই কাজ করেছেন দেবিকা। 'আকালের সন্ধানে, 'বাঞ্ছারামের বাগান', 'আদালত ও একটি মেয়ের মতো ছবিও করেছেন তিনি। ওম পুরীর নায়িকা হয়ে করেছেন হিন্দি ছবি।
কিন্তু 'ছোট বউ'-এর বাইরে তাঁকে নিয়ে চর্চা হয়নি। আজও তিনি বাংলার 'ছোট বউ'। আজ জন্মদিনে কী করছেন দেবিকা মুখোপাধ্যায়? কেমন ভাবে কাটাচ্ছেন জন্মদিন? খোঁজ নিল 'দ্য ওয়াল'।

দেবিকা মুখোপাধ্যায়কে সকাল বেলা ফোন করতেই যেই শুভ জন্মদিন বললাম, দেবিকা বললেন 'আপনি কী করে জানলেন আজ আমার জন্মদিন? খুব খুব খুশি হলাম। খুব ভাল লাগল আপনি মনে করে ফোন করলেন।'
কী করছেন আজ সারাদিন ছোট বউ? দেবিকা বললেন ' কাল রাত বারোটা বাজতেই মেয়ে আমার জন্য কেক বানিয়ে এনেছে। সেই কেক কেটে আমার জন্মদিন শুরু হল।
আমি খুব শিব ঠাকুরের ভক্ত। সকাল বেলা জোড়া শিবমন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলাম। 'মেনকা' সিনেমা হলের কাছে। খুব জাগ্রত। সেখানে মা কালীও আছেন। ঐ মন্দিরে আমি বহুকাল ধরেই যাই। আগে নারায়ণকে আমার নামে তুলসী দিতেন আমার মা। এখন আমিই আজ তুলসী দিয়ে এলাম জন্মদিনে। এরপর বাড়ির ঠাকুরকে পায়েস দেব। সেই পায়েস আজ আমার মেয়ে টিনা রাঁধছে। গোবিন্দভোগ চালের পায়েস। আমার জন্মদিনের এই পায়েস আগে ঠাকুরকে নিবেদন করে তারপর খাব। এই দিনটা আমার এভাবেই চলে।'

জন্মদিনে পার্টি শার্টি কী করছেন দেবিকা? 'নাহ না। সেলেব মানেই জন্মদিনে পার্টি করতে হবে, ড্রিঙ্কস করতে হবে, এরকম আমি একদমই নই। পায়েস খেয়ে জন্মদিন পুরনো ধরণটাই আমার পছন্দের। আমার জন্মদিন ঠাকুরকে নিবেদিত। তাই আজ পরিবারের সবাই মিলে আদ্যাপীঠে যাচ্ছি। আদ্যা মায়ের ভোগ দিয়েই দুপুরের আহার সারব। সারাদিন আজ আদ্যাপিঠে।
তবে খুব ছোটবেলায় জন্মদিনে ঘরোয়া পার্টি হত। তখন আমরা আমহার্স্ট স্ট্রিটে থাকতাম। আমি তো উত্তর কলকাতার মেয়ে। এখন থাকি দক্ষিণে। সেই ছোটবেলায় বেলুনের মধ্যে লজেন্স, টফি সব থাকত। সেগুলো আমরা হ্যাপি বার্থ ডে বলে ফাটাতাম। বেলুনটা ফাটালেই টফিগুলো সব ঝরেঝরে পড়ত। আমি, আমার বন্ধুবান্ধবরা, মা, দাদারা সবাই কুড়িয়ে নিতাম। সে ছিল এক আলাদা আনন্দ।'

চার দিন আগে আর পরে দেবিকা ও তাঁর বরের জন্মদিন। ১৪ ই জুলাই ছিল দেবিকার বরের জন্মদিন আর আজ ১৮ই জুলাই তাঁর জন্মদিন। তবে একদম হুল্লোড়ে বিশ্বাসী নন ছোট বউ। ভক্তিমতী দেবিকা বললেন 'সো কলড সিনেম্যাটিক পার্টি, ড্রিঙ্কস, হৈহৈ এগুলো ঠিক কোনওদিনই হয়নি আমার। আজ পয়লা শ্রাবণ তাই বাবার মাথায় জল ঢেলেই সকাল শুরু। পুরো শ্রাবণ মাস শিব ঠাকুরকে উৎসর্গ করে আমি নিরামিষ খাবার খাব। রোজ রোজ। আগে করতাম শুধু সোমবার। এবার আমি ঠাকুরকে বলে এসছি ঠাকুর সারা শ্রাবণ মাস যেন নিরামিষ খাবার ব্রত পূরণ করতে পারি। তোমার প্রসাদ যেন সারা মাসটা খেতে পারি মহাদেব।'
সকালে শিব পুজো দিতে গিয়ে লাল শাড়ি আর দুপুরে দেবিকা পড়লেন হলুদ খোল নীল পাড় শাড়ি। মাথায় জুঁইয়ের মালা। চোখে গোগো পড়ে নায়িকা মন শুদ্ধ করলেন জন্মদিনে।