ফেলুদা যেমন সময়ের সঙ্গে বদলেছে, তেমনই ব্যোমকেশও পেয়েছে একাধিক রূপ বড় পর্দায়। বহু অভিনেতার মধ্যে অন্যতম গৌরব চট্টোপাধ্যায়— একসময়ে তিনিই ছিলেন সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ।

মা-বাবা ও ‘ব্যোমকেশ’।
শেষ আপডেট: 31 October 2025 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেলুদা যেমন সময়ের সঙ্গে বদলেছে, তেমনই ব্যোমকেশও পেয়েছে একাধিক রূপ বড় পর্দায়। বহু অভিনেতার মধ্যে অন্যতম গৌরব চট্টোপাধ্যায়— একসময়ে তিনিই ছিলেন সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ। আর পাশে ছিলেন তাঁর বাস্তব জীবনের সঙ্গিনী ঋদ্ধিমা ঘোষ, যিনি সিনেমাতেই হয়েছিলেন সত্যবতী। এবার বাস্তবেই তাদের ঘরে জন্ম নিয়েছে সেই জুটিরই ছোট্ট ‘ডিটেকটিভ’। হ্যাঁ, এবার স্কুলের হ্যালোইন উৎসবে ব্যোমকেশ সেজেছে গৌরব-ঋদ্ধিমার পুত্র ধীর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঋদ্ধিমা যেসব ছবি ভাগ করে নিয়েছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে— ধুতি, পাঞ্জাবি, চোখে চশমা, পায়ে হাওয়াই চটি— যেন একেবারে ছোট্ট ব্যোমকেশ বক্সী! ঠোঁটের কোণে নিষ্পাপ হাসি, চোখে বুদ্ধিদীপ্ত ঝিলিক, দেখে মনে হচ্ছে যেন সব্যসাচী চক্রবর্তীর নাতি এক পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
ছবিগুলি পোস্ট করে ঋদ্ধিমা লিখেছেন, ‘আজ স্কুলে হ্যালোইন! যেখানে ছোট্ট ছোট্ট সুপারহিরোরা ঘুরে বেড়াচ্ছিল— কেউ সুপারম্যান, কেউ ব্যাটম্যান, কেউ বা স্পাইডারম্যান। আর আমাদের ছোট্ট সত্যান্বেষী, ধুতি আর চশমা পরে হেঁটেছিল গর্বভরে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘সুপারম্যান বা স্পাইডারম্যান না জানলেও ক্ষতি নেই, কিন্তু আমাদের নিজেদের সুপারহিরোদের জানা দরকার। ব্যোমকেশ আর ফেলুদার মতো চরিত্রগুলোই আসল অনুপ্রেরণা। ধীর এখন থেকেই জানে— ওর সুপারহিরো বাবা যেমন, ও একদিন তেমন হতে চায়।‘
লেখার শেষে ঋদ্ধিমা যেন মৃদু হাসিতে যোগ করলেন, ‘হয়তো পরের বছর ও আরও এক ধাপ এগোবে... আর সেজে উঠবে ওর সুপারহিরো ঠাকুরদা। কি বলো?’ ছবিগুলিতে কখনও দেখা যাচ্ছে ধীরকে ব্যোমকেশের ভঙ্গিতে দুষ্টুমি করতে, কখনও মন দিয়ে শুনছে বাবার কথা, আবার কখনও মায়ের কোলে চেপে হাসছে একরাশ আলো ছড়িয়ে। বাবা-মায়ের সঙ্গে শেষ ছবিতে ছোট্ট ব্যোমকেশকে দেখে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন নেটবাসীরা।
অভিনেত্রী সোহিনী সরকার মজার ছলে কমেন্ট করেছেন, ‘সত্যবতীর কাস্টিংটা কি হবে?’ তার উত্তরে ঋদ্ধিমা লেখেন, ‘তুই আর আমি অডিশন নেব।’
২০১৭ সালে গৌরবের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন ঋদ্ধিমা। ২০২৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁদের জীবনে আসে ছোট্ট ধীর— আলো ছড়িয়ে দেয় মা-বাবার জগতে। সম্প্রতি দীপাবলির সময়েও দেখা গিয়েছিল বাবা আর ছেলেকে একই রঙের পাঞ্জাবিতে, যেন আয়নার দুই প্রতিবিম্ব।
আজ তাই মনে হয়, ব্যোমকেশের গল্পের মতোই এই পরিবারের গল্পেও লুকিয়ে আছে এক মিষ্টি রহস্য— ভালোবাসার, উত্তরাধিকার আর নতুন প্রজন্মের। আর সেই গল্পের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে হাসছে এক ছোট্ট সত্যান্বেষী— নাম তার ধীর, গৌরব-ঋদ্ধিমার ঘরের সবচেয়ে সুন্দর সত্য।