Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
West Bengal Election 2026 | ‘৫০-আসন জিতে তৃণমূলকে ১৫০-আসনে হারাব’ মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্ল

'প্রতিবার প্রেমে নতুন জনম, জীবন কী করে একটাই?' 'কোকিলকণ্ঠী' শুভমিতা 'বৃষ্টি পায়ে পায়ে' নিয়ে এলেন বসন্ত

শুভমিতা হলেন নচিকেতা চক্রবর্তীর আবিস্কার। এক সাদামাটা কৃষ্ণকলি মেয়ের কুহকিনী কণ্ঠ শুনে নচিকেতার জহুরির চোখ হীরে চিনতে ভুল করেননি। 

'প্রতিবার প্রেমে নতুন জনম, জীবন কী করে একটাই?' 'কোকিলকণ্ঠী' শুভমিতা 'বৃষ্টি পায়ে পায়ে' নিয়ে এলেন বসন্ত

গ্রাফিক্স দিব্যেন্দু দাস

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 7 September 2025 15:09

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

দ্য ওয়াল মিউজিক রিভিউ 
'বৃষ্টি পায়ে পায়ে ... ২০ বছর পার'

২০ বছর আগের কথা। 'বোরলীন গার্ল' জিঙ্গেল কুইন শ্রাবন্তী মজুমদার সে বার বিলেত থেকে কলকাতা এসছেন। এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল 'এখনকার নতুন শিল্পীদের মধ্যে কার গান আপনার সবচেয়ে ভাল লাগে?' শ্রাবন্তী বললেন 'কারুর গান তো দাগ কাটে না সেরকম। তবে শুভমিতা বলে একটি নতুন মেয়ের গান শুনলাম। ওঁর গলা কিন্তু অনেক দূর যাবে।' শ্রাবন্তী মজুমদারের ভবিষ্যদ্বাবাণী মিলে গেল। ২০ বছর পর সত্যি শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোকিলকণ্ঠ মুগ্ধ করে দেয়। দুই দশক পার করল শুভমিতার 'বৃষ্টি পায়ে পায়ে' সিগনেচার গান। যে গান দিয়েই তাঁর উত্থান শুরু। 'বৃষ্টি পায়ে পায়ে' গানের ২০ বছর পূর্ণতে এই গানের সুরকার জয় সরকার, গীতিকার অর্ণা শীল ও শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিবেদন প্রথমার্ধে মন ছুঁল। দ্বিতীয়ার্ধে ছিল শুভমিতার একক নিবেদন অন্য সুরকার গীতিকারদের গানে। ৫ই সেপ্টেম্বর জি ডি বিড়লা সভাঘরে উদযাপিত হল শুভমিতার 'বৃষ্টি পায়ে পায়ে' ও তাঁর গান জীবনের ২০ বছর।

শুরুতেই শুভমিতা মন জয় করে নিলেন তাঁর সাজে। খোলা লম্বা চুলে গায়িকা তো আজকাল চট করে দেখা যায় না। এলো চুলে আর রুচিপূর্ণ শাড়িতে অসাধারণ লাগছিল শুভমিতাকে। প্রথমেই 'নউ তুমি নউ এত চেনা' গান দিয়ে শুরু করলেন। মন জয় করে নিলেন 'চলে যেও না হায়, কেউ থাকে না তো'। ধারালো কণ্ঠে সুরমুর্চ্ছনা ছড়িয়ে পড়ল 'আড়াল ভেঙে দাও, এ আড়াল ভেঙে দাও, কথা দাও যেন হয় কথা দাও' সঞ্চারীতে।

পরের গানটি ছিল দু দশক আগে তৈরি 'তেরে বিনা থাকব কিনা, না জানিনা'। স্বল্পশ্রুত গান এত বছর পর নতুন ভাবে পেল শ্রোতারা।

অর্ণা শীলের পরিচয় শুধুমাত্র শ্রীকান্ত আচার্যর স্ত্রী নয়। বাংলা বেসিক গানের গীতিকার রূপে তিনি জনপ্রিয়। অন্যদিকে জয় সরকারের সুরে একাধিক গান গেয়েছেন শুভমিতা তাঁর শুরুর জীবন থেকে। তাই এই ট্রায়ো প্রথম পর্বে নিজেদের কথায় সুরে একের পর এক গান গাইলেন। ২০০৪ সালে অর্ণা লিখেছিলেন 'নাইয়া' গানটি। যাতে অসাধারণ সুর করেন জয়। যদিও 'ইচ্ছে পাড়ি' অ্যালবামের এই গানটি সে অর্থে জনপ্রিয়তা পায়নি। কিন্তু নদীপথে মাঝিমল্লার সেই আমেজ উঠে এল মঞ্চে তেমনই শুভমিতার কণ্ঠে 'উথালি পাথালি ঢেউয়ে চলে নাইয়া'।

শুভমিতা হলেন নচিকেতা চক্রবর্তীর আবিস্কার। এক সাদামাটা কৃষ্ণকলি মেয়ের কুহকিনী কণ্ঠ শুনে নচিকেতার জহুরির চোখ হীরে চিনতে ভুল করেনি। মালদার মেয়ে শুভমিতা গানের কেরিয়ার গড়তে কলকাতায় চলে আসেন। শুভমিতার জন্য গান লিখে সুর করে দেন নচিকেতাই প্রথম। অনুষ্ঠানে শ্রীকান্ত আচার্য মঞ্চে নিজেই এসে বললেন 'সালটা ১৯৯৮। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর থেকে ফোন পেলাম তাঁর বাড়িতে একটি নতুন মেয়ে গাইতে আসছে। আমরা অনেকেই ছিলাম। আজকের যে চুলের স্টাইল করা শুভমিতাকে দেখছেন, তখন সে ছিল খুব সাদামাঠা। আমরা ওকে দেখে ভাবতে পারিনি এমন রেঞ্জে গাইতে পারে। 'শুনি সাঁঝবেলার সে গান' যখন শুভমিতা ধরল আমরা সবাই চুপ হয়ে গেলাম। সেদিনকার সন্ধেতে তিনবার শুভমিতাকে 'সাঁঝবেলার সে গান' গাইতে হয়েছিল। তারপর সেই গান রিলিজ হতে এক গানেই শুভমিতা লাইমলাইটে চলে এল।'

নচিকেতার কথায় জয় সরকারের সুরে শুভমিতা এবার গাইলেন 'যখন ভাবি তোমার কথা'। এই গানের সঞ্চারী রেকর্ডিং সময় নচিকেতা তখনও লেখেননি। জয়ের ফোন 'নচিদা সঞ্চারী নেই রেকর্ড কী করে হবে গান?' নচিকেতা বললেন 'পাঁচ মিনিট দে!' পরের ফোন করতেই সঞ্চারী ফোনে বলে দিলেন নচিকেতা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে জয় বললেন এই মানুষটার জন্য করতালি হোক। এদিন শুভমিতার অনুষ্ঠানে তাঁর মেন্টর নচিকেতার উপস্থিতি মিস করছিল সবাই।

Brishti Paye Paye - Album by Subhamita - Apple Music

অর্ণা শীল ছিলেন পাঠে। তাঁর পদ্য চয়ণ বেশ ভাল। 'কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি' পাঠে যদিও নাটকীয়তা অর্ণার কণ্ঠে পাওয়া গেল না। কিন্তু পদ্য চয়ণ যথাযথ। তারপরই শুভমিতা ধরলেন 'দেখেছ কী তাকে, ঐ নীল নদীর ধারে, বৃষ্টি পায়ে পায়ে, তার কী যেন কী নাম'। যে গানের ২০ বছর উদযাপন সে গানে কোকিলকণ্ঠী শুভমিতা মন্ত্রমুগ্ধ করে দিলেন। কোরাসের নতুন প্রজন্ম অসাধারণ। গান শেষ হতে হাউসফুল প্রেক্ষাগৃহের করতালি আর থামে না। অশ্রুসজল শুভমিতা বললেন 'এতক্ষণে এই গানের ২০ বছর সার্থক হল'। গান তো শুধু শিল্পীর নয়। টিমওয়ার্ক। তাই এই গানের প্রতিটি কলাকুশলী অ্যারেঞ্জার প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঁশি নির্মাল্য হামটু দে, তবলায় জয়দেব নন্দী, গীটার জয় সরকার সকলকেই সংবর্ধিত করা হয়। যা এই সন্ধ্যার মান আরও বাড়িয়ে দিল। 
তবে এই গান তৈরির গল্প সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন জয় সরকার। 'বৃষ্টি পায়ে পায়ে' গান গাইবার প্রথমে কথা ছিল লোপামুদ্রা মিত্রর। লোপাকে ভেবেই বর জয় এই গানটি লেখেন। কিন্তু লোপার সে বারের অ্যালবামের গানের তালিকায় এই গানটি মানাচ্ছিল না। গানটি পড়েই ছিল। শুভমিতা তখন গানটি গাইবেন বলে চেয়ে নেন জয়ের থেকে। এই নিয়ে লোপা একটু অভিমান করেছিলেন। কিন্তু শুভমিতার কণ্ঠে 'বৃষ্টি পায়ে পায়ে' শুনে লোপামুদ্রা বলেছিলেন 'এই গান শুভমিতা আমার থেকেও ভাল গেয়েছে'। এদিনের অনুষ্ঠানে ব্যাকস্টেজে বসে লোপামুদ্রা শুভমিতাকে ভরসা জোগাতে বসেওছিলেন। দর্শকাসনে হাজির ছিলেন জয়তী চক্রবর্তী, পণ্ডিত তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার, শ্রীকান্ত আচার্যর মতো শিল্পীরা।

এই সন্ধ্যার চমক ছিল, জয়-অর্ণা-শুভমিতা আবার নতুন গান রিলিজ করলেন এই অনুষ্ঠানেই। পর্দায় ভেসে উঠল 'এখনও বৃষ্টি পায়ে পায়ে গান / আলোর ঠিকানা'। ২০ বছর পর সেই গানের দ্বিতীয় পর্ব যেন।

দ্বিতীয়ার্ধে শ্রীকান্ত আচার্য বললেন 'বাংলা গানে খুব কম মহিলা শিল্পী আছেন যাঁরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত তুমুল চর্চা করেও আধুনিক গানে নাম করেছেন। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, আরতি মুখোপাধ্যায়, শিপ্রা বসুদের সে এক যুগ ছিল। এ যুগে একমাত্র শুভমিতা এগিয়ে। ওঁর ক্লাসিকালের আলাদা অনুষ্ঠান করা যায়।' মঞ্চেই শ্রীকান্তকে প্রণাম করলেন শুভমিতা। তারপরই শুভমিতা ধরলেন 'কে বাজায় বাঁশিতে'। শ্রীকান্ত আচার্যর সুরে শুভমিতা গাইলেন 'শুধু তোমায় ভেবে ভেবে কত দিনরাত গেছে বয়ে... ' একতরফা প্রেমের বেদনার ছবি শুভমিতার কুহকিনী কণ্ঠে ফুটে ওঠে।

শুভমিতার এমন কোকিলকণ্ঠ সেভাবে কিন্তু ফিল্মের প্লে ব্যাকে ব্যবহার হল না এই ২০ বছরে। এমন বিরল কণ্ঠ বাংলা ছবির নায়িকাদের ঠোঁট পেল না। মনে পড়ছে, প্রভাত রায়ের 'পিতৃভূমি' ছবিতে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়-জিতের লিপে শুভমিতা-শ্রীকান্ত আচার্য গেয়েছিলেন 'যদি তারে নাই চিনি গো সেকী'। দু'জন শিল্পীই উপস্থিত থাকলেও সেই ডুয়েট এই অনুষ্ঠানে শোনা যায়নি যদিও। তবে মৌলিক গানের প্লে ব্যাকে শুভমিতাকে কেউ সে অর্থে ব্যবহার করেননি। ব্যতিক্রম ঋতুপর্ণ ঘোষ। এক ছবিতেই শুভমিতাকে নিয়ে বাজিমাৎ করেন তিনি। 'মেমোরিজ ইন মার্চ' ছবির সেই আইকনিক গান '
বহু মনোরথে সাজু অভিসারে পেহলু সুনীল বেশ', যে গানের জন্য সবাই অপেক্ষা করছিলেন সেই গান গাইলেন শুভমিতা।

শ্রীজাতর কথায় সুরে 'গালিব নামা' থেকেও গান গাইলেন শিল্পী।

বুকে ঝড় তুলল যখন 'মনের হদিশ' অ্যালবাম থেকে শুভমিতা গাইলেন 'প্রতিবার প্রেমে নতুন জনম, জীবন কী করে একটাই? 
যত ভাগে ভাগ কর না প্রেম, হৃদয় কিন্তু একটাই'।

মঞ্চের আলো পড়ন্ত হয়ে এল নচিকেতার কম্পোজিশনে কোকিলকণ্ঠী শুভমিতার 'আমাদের জানলার ফাঁক দিয়ে দেখা যায়, হলুদ টিপের মতো এক ফালি চাঁদ'।


```