বলিউড—এক রঙিন কিন্তু রহস্যময় এক জগত। যেখানে স্বপ্ন বাস্তব হয়, আবার মন ভাঙার গল্পগুলোও মঞ্চে আসে আড়ালে-আবডালে।

বলিউড—এক রঙিন কিন্তু রহস্যময় এক জগত।
শেষ আপডেট: 8 July 2025 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড—এক রঙিন কিন্তু রহস্যময় এক জগত। যেখানে স্বপ্ন বাস্তব হয়, আবার মন ভাঙার গল্পগুলোও মঞ্চে আসে আড়ালে-আবডালে। নয়ের দশক ছিল বলিউডের এক স্বর্ণযুগ—‘তাল’, ‘ইয়েস বস’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’-র মতো ব্লকবাস্টার ছবি আর ‘পেহলা নশা‘, ‘ওয়াদা রহা’র মতো অমর সুরের জন্ম এ সময়েই।
কিন্তু এই যুগ শুধু সিনেমা বা সুরের জন্যই নয়, তারকাদের প্রেমকাহিনি আর বিতর্কিত সম্পর্কগুলোর জন্যও আজও আলোচিত। সম্পর্ক এসেছে, ভেঙেছে, কেউ কাউকে ঠকিয়েছে, আবার কেউ চোখের জল মুছে এগিয়ে গিয়েছে। ফিরে দেখা যাক এমনই কিছু চর্চিত প্রেমকাহিনি যা নয়ের দশকের বলিউডকে করে তুলেছিল আরও রোমাঞ্চকর।
সলমন খান ও ঐশ্বর্য্য রাই ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ ছবির সেটেই শুরু এই প্রেম, যা পরে রূপ নেয় এক নির্মম গাথায়। সম্পর্কের শেষটা হয় সহিংসতার অভিযোগ ও মানসিক চাপে। ঐশ্বর্য্যকে ঘিরে সলমনের অধিকারবোধ এতটাই বেশি ছিল যে, ব্রেকআপের পরও তিনি তাঁকে শান্তিতে থাকতে দেননি।

সঞ্জয় দত্ত ও মাধুরী দীক্ষিত মাধুরীর ‘ধক ধক’ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন সঞ্জয়। বিয়ের গুঞ্জন উঠলেও ১৯৯৩ সালে সঞ্জয় দত্তের গ্রেপ্তারের পর শেষ হয়ে যায় সম্পর্ক।

অক্ষয় কুমার ও রবীনা ট্যান্ডন ‘খিলাড়িয়োঁ কা খিলাড়ি’ ছবির শুটিংয়ের সময়ই রবীনাকে ঠকান অক্ষয়। রেখার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা সম্পর্ক ভাঙার কারণ হয়। রবীনা আর তাঁকে দ্বিতীয় সুযোগ দেননি।

অক্ষয় কুমার ও শিল্পা শেট্টি ‘ধড়কন’ ছবিতে তাঁদের রসায়ন নজর কাড়ে সবার। বিয়ের জল্পনা চললেও হঠাৎ করেই অক্ষয় বিয়ে করে ফেলেন টুইঙ্কল খান্নাকে, আর শিল্পা পড়ে থাকেন একা, প্রতারিত।

অজয় দেবগন ও রবীনা ট্যান্ডন প্রেম জমেছিল, কিন্তু সে সম্পর্কে করিশ্মা কাপুরের প্রবেশে সব ভেঙে যায়। রবীনা চলে যান, কিন্তু অজয়-করিশ্মার সম্পর্কও বেশিদিন টেকেনি।

বিক্রম ভাট ও সুস্মিতা সেন ডিভোর্সের যন্ত্রণায় থাকা বিক্রম খুঁজে পান শান্তি সুস্মিতার কাছে। সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী না হলেও স্মৃতিটা আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে।

ববি দেওল ও নীলম কোঠারি প্রেম জমে উঠলেও ধর্মেন্দ্রর আপত্তির মুখে থেমে যায় বিয়ের স্বপ্ন। নীলমকে ছেড়ে দিতে হয়।

গোবিন্দা ও রানি মুখার্জি ‘হদ কর দি আপনে’ ছবির শুটিংয়ে প্রেমে পড়েন দু’জন। সমস্যা একটাই—গোবিন্দা ছিলেন বিবাহিত। স্ত্রী সুনিতা ছেড়ে যেতে চাইলে, তিনি ছেড়ে দেন রানিকে।

তব্বু ও সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা স্ত্রীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়া সাজিদ ভালোবাসা খুঁজে পান তব্বুর মধ্যে। কিন্তু দিব্যা ভারতীর স্মৃতি ভোলার মতো ছিল না, তব্বুও এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন।

এদের মধ্যে অনেকেই এখন সুখী সংসার করছেন তাঁদের বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গে। তবে নয়ের দশকে ঘটে যাওয়া এই প্রেম-প্রতারণার গল্পগুলো আজও দর্শকের মনে রয়ে গেছে রসালো গসিপ হিসেবে। সে সব রোমাঞ্চকর দিনের ঝলক আজও যেন ফিরিয়ে আনে এক অন্যরকম বলিউডের সুবাস!