
পরিচালক করণ জোহর
শেষ আপডেট: 9 May 2025 14:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিন আগে পর্যন্তও বি-টাউনের হেডলাইনে ছিলেন পরিচালক করণ জোহর (bollywood director Karan Johar)। নেপথ্যে তাঁর ছিপছিপে শরীর, সবার মনে একটাই প্রশ্ন ছিল- কী করে এমন পরিবর্তন হল! এবার পরিচালক প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন, তিনি বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডারের (body dysmorphic disorder) সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। ‘আয়নায় নিজেকে দেখতে পর্যন্ত পারি না’, জানালেন করণ।
কী এই বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার (body dysmorphic disorder)?
এর শিকড় লুকিয়ে রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্যের গভীরে। ছোটখাট শারীরিক ত্রুটি সকলেরই থাকে, তা অনেক সময় উল্টোদিকের মানুষটার চোখেও পড়ে না। কিন্তু যাঁরা এই ডিসঅর্ডারে ভোগেন, তাঁদের মনে সর্বক্ষণ সেই জিনিসটাই চলতে থাকে। কিছুতেই সেই মানসিক জাঁতাকল থেকে বেরতে পারেন না তাঁরা। ঘিনঘিনে অনুভূতি পিছু ছাড়ে না।
এই মানসিক স্থিতি সাধারণত কৈশোরে আসে, কিন্তু অনেকেই আছেন যাঁরা ৫০-এর কোঠাতে এসেও এই ভাবনা থেকে মুক্তি পান না।
ড. শৌনক অজিঙ্কের (সাইকিয়াট্রিস্ট, কোকিলাবেন ধীরুভাই অম্বানি হাসপাতাল, মুম্বই) কথায়, ‘আমি অনেক বেশি বয়সেও মানুষকে এই মানসিক স্থিতিতে দেখেছি। যে কোনও বয়সেই এটা মাথাচাড়া দিতে পারে, তবে সাধারণত অল্প বয়সেই বেশি দেখা যায়। মাঝে মাঝে এমনও দেখা গেছে যে অল্প বয়স থেকে মনের মধ্যে জমতে জমতে বেশি বয়সে এসে সেটা প্রকাশ পেয়েছে। মানুষ তাঁদের বিচার করবেন এমনটা মনে মনে কাজ করলেও প্রকাশ্যে স্বীকার করতে সমস্যা বোধ হয়।’ রোজকার জীবনেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে।
অনেক কম বয়সেও যদি জানা যায় কেউ এই ডিসঅর্ডারে ভুগছেন, তাহলে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া শিখতে পারে মানুষ। কিন্তু কোনও দিন পুরোপুরি সেরে উঠতে পারে না কেউ। সারাজীবনে মাঝে মাঝেই অযাচিতভাবে মাথাচাড়া দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, বয়স ১৬ হোক বা ৬০, যখনই মনে হবে সাহায্যের প্রয়োজন, মনে মনে কষ্ট না পেয়ে নির্দ্বিধায় এগিয়ে আসুন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
কীভআবে সামাল দিতে পারেন নিজেকে?
• কোন কোন জিনিস থেকে উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন, সেদিকে নজর রাখুন।
• পরিস্থিতি, মানুষ, সোশ্যাল মিডিয়া আপনার এই সিম্পটম বাড়াতে পারে। তাই তা এড়িয়ে চলাই ভাল।
• জার্নালিং-এর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
• নিজের বাহ্যিক আবরণ নিয়ে যখনই কোনও নেগেটিভ কথা মাথায় আসবে, অন্যদিকে মন সরানোর চেষ্টা করুন। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন এই কথাগুলি বাস্তব নাকি কেবল আপনারই মনে হচ্ছে, নেগেটিভ কথাকে পজিটিভ ধারণায় বদলে দিন আস্তে আস্তে।
একটা ভাল ট্রিকের কথা বলে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। তা হল, আপনার আয়না ঢেকে রাখুন, আর তাতে আটকান স্টিকি নোটস- যেখানে লেখা থাকবে আপনি আয়নার দিকে কতবার তাকাবেন বা তাকাবেন না। সেই সময়টায় নিজের যত্ন নিতে ব্যয় করুন। ঘুমোন, পুষ্টিকর খাবার খান, ব্যায়াম করুন। পরিস্থিতি এড়াতে ধূমপান-মদ্যপানের সাহায্য নেবেন না। নিজের শরীরের প্রতি পজিটিভ ধারণা আনুন, সে কী করতে পারে, সাজগোজে নজর দিন। নিজেকে খুশি রাখার চেষ্টা করুন, দেখুন আপনার শরীর তাতে অংশ নেবে। মেডিটেশনও অনেক সময় কাজ দেয় এই ক্ষেত্রে।
সবথেকে বড় কথা- যে মুহূর্তে আপনার মনে হবে একা একা আপনি পারছেন না নিজের সঙ্গে লড়তে, আপনার রোজকার জীবনের খুঁটিনাটিতেও সমস্যা হচ্ছে, অবিলম্বে মনোবিদের সাহায্য নিন।