২০২৫ সালে যেন নতুন করে জন্ম নিল শুধুমাত্র প্রতিভা। ভাষা, অঞ্চল কিংবা ইন্ডাস্ট্রির সীমানা ভেঙে শুধুমাত্র অভিনয়দক্ষতার উপর ভর করে একের পর এক ছবি ঝড় তুলেছে প্রেক্ষাগৃহে।

শেষ আপডেট: 12 December 2025 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৫ সালে যেন নতুন করে জন্ম নিল শুধুমাত্র প্রতিভা। ভাষা, অঞ্চল কিংবা ইন্ডাস্ট্রির সীমানা ভেঙে শুধুমাত্র অভিনয়দক্ষতার উপর ভর করে একের পর এক ছবি ঝড় তুলেছে প্রেক্ষাগৃহে।
কখনও ঐতিহাসিক মহাকাব্য, কখনও থ্রিলার, কখনও আবার আঞ্চলিক তারকাদের প্রচণ্ড দাপট—সব মিলিয়ে বক্স অফিসের চেহারাই বদলে দিয়েছে এই বছর। সেই উত্তাল সমুদ্রে কে কতটা ঢেউ তুললেন? বছরজুড়ে সংগ্রহ করা আয় আর জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে উঠে এল পাঁচজন তারকার নাম—যাঁরা ২০২৫ সালের সর্বাধিক আয়কারী অভিনেতার তালিকায় শীর্ষে।
সবচেয়ে বড় চমক হয়ে উঠলেন অক্ষয় খান্না। দীর্ঘদিন পর তাঁর প্রত্যাবর্তন যেন রূপকথার মতো। বছরটি শুরুতেই ঐতিহাসিক পটভূমিতে নির্মিত ‘ছাভা’, যা বিশ্বজুড়ে আয় করল অবিশ্বাস্য ₹৮২৭.০৬ কোটি। কিন্তু প্রকৃত বিস্ফোরণটা এল ‘ধুরন্ধর’ দিয়ে—মাত্র তিন দিনে ₹১৪২ কোটি। এই দুই ছবির জোড়া সাফল্য মিলিয়ে অক্ষয়ের বার্ষিক মোট সংগ্রহ পৌঁছে গেল ₹৯৬৯.৬ কোটি—এ বছরের সর্বোচ্চ। ইতিহাসের পটভূমি থেকে আধুনিক থ্রিলারের ছন্দে নিখুঁত যাতায়াত তাঁর বহু প্রতীক্ষিত ‘দ্বিতীয় ইনিংস’-কে শুধু সফলই করেনি, বরং দাপটের সঙ্গে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
বছরের প্রথমার্ধে রাজত্ব করেছেন ঋষভ শেট্টি। ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির আগে তিনিই ছিলেন ২০২৫-এর বক্স অফিস সম্রাট। তাঁর ছবির বিশ্বব্যাপী আয় ₹৮৪৫.১৮ কোটি—যা প্রমাণ করে তিনি শুধু কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির মুখ নন, বরং সমগ্র ভারতীয় দর্শকের প্রিয় এক নাম।
‘কান্তারা’-র পর থেকে লোককথা আর গণমাধ্যমের ভাষাকে তিনি যেভাবে এক সুতোয় বেঁধে দিচ্ছেন, তা তাঁকে করেছে অত্যন্ত বাজারযোগ্য ও দেশের অন্যতম প্রভাবশালী নায়ক। শেষের দিকে খান্নার দাপটে দ্বিতীয় স্থানে নামতে হলেও ২০২৫ সালে শেট্টির সাফল্য নিঃসন্দেহে অবিশ্বাস্য।
তালিকার তৃতীয় স্থান দখল করেছেন ভিকি কৌশল। বছরের অন্যতম বড় ছবিতে তাঁর অভিনয় বিশ্বব্যাপী তুলল ₹৮২৭.০৬ কোটি—‘ছাভা’-র সমপরিমাণ আয়। দেশপ্রেম থেকে ইতিহাস, আবার চরিত্রনির্ভর গল্প—সব ক্ষেত্রেই ভিকির বৈচিত্র্যময় ভূমিকাগুলি তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে নবপ্রজন্মের নির্ভরযোগ্য সুপারস্টারদের তালিকায়। তাঁর অবস্থান এ তালিকায় স্পষ্ট করে দেয়—তিনি আর কেবল সম্ভাবনার নাম নন, বরং টিকিট জানলার বাস্তব শক্তি।
চতুর্থ স্থানে আছেন অক্ষয় কুমার—চিরকালীন ‘ব্যাংকেবল’ তারকা। ২০২৫ সালে তাঁর মুক্তি পেয়েছে চারটি ছবি। প্রতিটি মিলিয়ে মোট আয় ₹৭৮৯.০৯ কোটি। কোনও একক ছবি শীর্ষে ওঠেনি ঠিকই, কিন্তু নানা ঘরানায় সমান দক্ষতা আর অবিচল কর্মস্পৃহা তাঁকে আবারও রেখেছে হেভিওয়েটদের দলে। দশকের পর দশক ধরে বক্স অফিসে টিকে থাকার এই ক্ষমতাই তাঁকে আলাদা মর্যাদা দেয়।
পঞ্চম স্থানে রয়েছেন মালয়ালম সুপারস্টার মোহনলাল। তিনটি ছবি মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ ₹৫৮২.৪ কোটি। কেরালায় তাঁর জনপ্রিয়তার তুলনা নেই, আর প্রবাসীদের মধ্যেও তিনি এক সাংস্কৃতিক প্রতীক। বছরজুড়ে তাঁর অভিনয়বহুল উপস্থিতি প্রমাণ করে—সময় যতই বদলাক, মোহনলালের পর্দা-কারিশমা অটুট।
এক বছরের বাজারচিত্র এভাবেই বদলে দিল পাঁচ তারকার অসাধারণ সাফল্য। আঞ্চলিক সীমারেখা ভেঙে তাঁরা দেখিয়ে দিলেন, আজকের দর্শক ভাষা দেখে ছবি বেছে নেন না—বেছে নেন গল্প আর অভিনয়ের শক্তি। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দাঁড়িয়ে আছে—২০২৬-এ আবার কি এমন উলটপুরাণ দেখা যাবে, নাকি বক্স অফিসে রাজত্ব করবেন একেবারে নতুন কোনও মুখ?