১৯৮৫ সালের ‘রাম তেরি গঙ্গা মেইলি’ ছবির সেই সরল, নিঃসঙ্গ গঙ্গাকে মনে আছে? তিনি আর কেউ নন, মন্দাকিনী। বহুদিন আগেই সিনেমার জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন, কিন্তু তাঁর জীবনের কাহিনি আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

কে এই অভিনেত্রী
শেষ আপডেট: 4 July 2025 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৮৫ সালের ‘রাম তেরি গঙ্গা মেইলি’ ছবির সেই সরল, নিঃসঙ্গ গঙ্গাকে মনে আছে? তিনি আর কেউ নন, মন্দাকিনী। বহুদিন আগেই সিনেমার জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন, কিন্তু তাঁর জীবনের কাহিনি আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে। সম্প্রতি জীবনের এক গভীর দুঃখঘন অধ্যায়ে পা রেখেছেন এই প্রাক্তন অভিনেত্রী — পিতৃহারা হয়েছেন মন্দাকিনী। ২ জুলাই সকালে প্রয়াত হন তাঁর প্রিয় বাবা, জোসেফ।

ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন পোস্টে বাবার একটি ছবি শেয়ার করে মন্দাকিনী লিখেছেন, “আজ আমার হৃদয় ভেঙে গেছে...আজ সকালে আমার প্রিয় বাবাকে হারালাম। তাঁর চলে যাওয়ার যন্ত্রণাকে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বাবা, তোমার অশেষ ভালোবাসা, জ্ঞান ও আশীর্বাদের জন্য আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। তুমি চিরকাল আমার হৃদয়ে থাকবে।’ তাঁর এই অনুভূতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন অসংখ্য অনুরাগী — মন্তব্যের ঝড় উঠেছে ভালোবাসা ও প্রার্থনায়।

ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন পোস্ট মন্দাকিনীর
মন্দাকিনীর জন্ম হয় মিরাটে। আসল নাম ইয়াসমিন জোসেফ। বাবা ছিলেন ইংরেজ, মা হিমাচল প্রদেশের মেয়ে। এই বৈচিত্র্যময় পারিবারিক পরিমণ্ডলে বড় হওয়া মন্দাকিনী চলচ্চিত্রে পা রাখেন কিংবদন্তি পরিচালক রাজ কাপুরের হাত ধরে— নামও তিনিই দেন, 'মন্দাকিনী'। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত। এরপর একে একে ‘ডান্স ডান্স’, ‘পেয়ার করকে দেখো’, ‘কাহাঁ হ্যায় কানুন’-এর মতো ছবিতে দেখা যায় তাঁকে।
১৯৯৬ সালে তিনি হঠাৎই গ্ল্যামারের দুনিয়া ছেড়ে আধ্যাত্মিক পথ বেছে নেন। বিয়ে করেন প্রাক্তন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ডক্টর কাগুর টি. রিনপোচেকে, যিনি এখন এক তিব্বতি হার্বাল সেন্টার পরিচালনা করেন। মন্দাকিনী নিজেও এখন তিব্বতি যোগ শিক্ষা দেন। তাঁদের দুঅ সন্তান— রাব্বিল ও রাবজে ইনায়া।

বিয়ে করেন প্রাক্তন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ডক্টর কাগুর টি. রিনপোচেকে
সিনেমা ছেড়ে দিলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় মন্দাকিনী। বাবার মৃত্যুর ক’দিন আগেই তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তাঁর মা হিমাচলি পোশাকে সেজে একটি পুরনো হিন্দি গানের তালে আনন্দের সঙ্গে নাচ করছেন। সেই মুহূর্তটিই যেন প্রমাণ করে, পরিবারের বন্ধন এখনও কতটা দৃঢ় ও হৃদয়গ্রাহী।
আজ মন্দাকিনী সিনেমার আলো-ঝলমলে জগৎ থেকে দূরে, কিন্তু তাঁর জীবনযাপন, মূল্যবোধ, ও ভালোবাসার গল্প যেন নিজেই একটি অনুপ্রেরণামূলক ছবি। ‘গঙ্গা’ হয়তো এখন আর রূপোলি পর্দায় ধরা দেয় না, তবে তাঁর জীবনের স্রোত আজও প্রবাহমান, শান্ত, এবং গভীর।