প্রখ্যাত অভিনেতা মুকুল দেব আর নেই। ৫৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হিন্দি, পাঞ্জাবি, এবং দক্ষিণী ভাষার সিনেমা ও টেলিভিশনে তাঁর অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং নিজের শহর দিল্লির একটি হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি ছিলেন। তাঁর মৃত্যু কারণ এখনও জানা যায়নি।

মুকুল দেব প্রয়াত
শেষ আপডেট: 24 May 2025 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রখ্যাত অভিনেতা মুকুল দেব আর নেই। ৫৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হিন্দি, পাঞ্জাবি, এবং দক্ষিণী ভাষার সিনেমা ও টেলিভিশনে তাঁর অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং নিজের শহর দিল্লির একটি হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি ছিলেন। তাঁর মৃত্যু কারণ এখনও জানা যায়নি।
মুকুল দেবের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে। অভিনেতা বিন্দু দারা সিং একটি টুইটে লেখেন, ‘শান্তিতে বিশ্রাম নাও আমার ভাই #MukulDev! তোমার সঙ্গে কাটানো সময় সবসময় মনে রাখব। ‘সন অব সর্দার ২’ হবে তোমার শেষ কাজ, যেখানে তুমি আবারও দর্শকদের হাসিতে ভরিয়ে দেবে।’
তিনি আরও জানান, ‘মা-বাবার মৃত্যুর পর মুকুল নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন। বাইরে বেরোতেন না, কারো সঙ্গে দেখা করতেন না। শেষ ক’দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁর ভাই ও পরিবারকে আমার সমবেদনা। ও একজন দারুণ মানুষ ছিলেন, আমরা সবাই ওকে মিস করব।’

অভিনেত্রী দীপশিখা নাগপাল বলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে মুকুল আর নেই। অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী টুইটে লেখেন, ‘মুকুল শুধু একজন সহকর্মী নয়, আত্মার ভাই ছিলেন। ওর উষ্ণতা, শিল্পীসত্ত্বা সবসময় মনে থাকবে। খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে বন্ধু... খুব তাড়াতাড়ি। ওর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য প্রার্থনা করি। আবার দেখা হবে, ‘মেরি জান... ওম শান্তি।’

মুকুল দেব ১৯৭০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালে টিভি সিরিজ মুমকিন দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন এবং একই বছরে সুশমিতা সেনের বিপরীতে দস্তক ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন।
‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা‘, ‘সন অব সর্দার‘, ‘আর... রাজকুমার‘, ও ‘জয় হো’-র মতো জনপ্রিয় ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। দিল্লির সেন্ট কলম্বাস স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর, তিনি ইন্দিরা গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ অ্যাভিয়েশন থেকে অ্যারোনটিক্সে একটি সার্টিফিকেটও অর্জন করেন।
২০২১ সালে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ২৫ বছরের ক্যারিয়ারকে তিনি “দীর্ঘ ও সন্তোষজনক সফর” বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “চাইলেও আমি অভিযোগ করতে পারি না। দস্তক দিয়ে যেভাবে শুরু করেছিলাম এবং তার পর যেসব কাজ করেছি—হিন্দি সিনেমা, টিভি, আঞ্চলিক ছবি—সব মিলে এটা ভীষণই সন্তোষজনক। আজকের প্রতিযোগিতার বাজারে দাঁড়িয়ে বলতেই পারি, আমি মোটামুটি ভালোই করেছি।” তিনি আরও বলেন, ‘ধীরে ধীরে, না জেনেই আমি এমন একটা জায়গা তৈরি করেছি যেখানে বিশেষ কিছু চরিত্রের জন্য মানুষ শুধু আমাকেই ভাবে। ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’ হোক বা ‘২১ সরফারোশ‘ – ‘সারাগড়ি ১৮৯৭’, সবকিছুর মধ্যেই আমি সেই কারণটা খুঁজে পাই, কেন ওই চরিত্রের জন্য আমাকে নেওয়া হয়েছিল।’
মুকুল দেব আজ নেই, কিন্তু তাঁর কাজ, তাঁর উষ্ণতা, এবং তাঁর অনবদ্য অভিনয় সবার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।